১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এবারের বর্ষ বিদায়

প্রতিবারের মতো এবারও ঢাকাসহ সারাদেশে খ্রিস্টীয় বছর শেষের রাতকে উপভোগ্য করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বিভিন্ন হোটেল রেস্টুরেন্ট এবং ক্লাবগুলোতে এ উপলক্ষে নানা অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। তারকাখচিত হোটেলগুলোর পাশাপাশি ছোট পরিসরেও উদ্যাপন করা হয় থার্টি ফার্স্ট নাইট। বন্ধুবান্ধবরা দল বেঁধে রাস্তায় নেমেও থার্টি ফার্স্ট নাইট উদ্যাপন করে। হোটেল রেস্তরাঁয় রকমারি খাবার দাবারেরও আয়োজন হয়। এসব আয়োজনকে সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে নারী নিগ্রহসহ নানা উচ্ছৃঙ্খলতার মতো ঘটনাও অতীতে ঘটেছে। এবারও বর্ষ বিদায়ের রাতটিকে উদ্যাপন করতে নগরজুড়ে নেয়া হয়েছে নানা প্রস্তুতি। সন্ধ্যার পর বর্ষবরণের উৎসব না করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই সন্ধ্যার পর থার্টি ফার্স্ট উৎসব না করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মসজিদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা, জঙ্গীদের অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের ঘটনা পর্যালোচনা করলে প্রধানমন্ত্রীর এই পরামর্শ অবশ্যই আমলে নেয়া জরুরী। সেই প্রেক্ষিতে প্রশাসন যে ব্যবস্থা নিয়েছে তা যথাযথ প্রয়োগ করা হোক। সার্বিক বিবেচনায় এটা সঠিক সিদ্ধান্ত বলে সবাই মনে করে।

বিগত বছরগুলোর মতো ২০১৫ সালেও ধারাবাহিকভাবে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা, সহিংসতা, নৃশংসতা, নির্মমতা ও রক্তাক্ত ঘটনা প্রত্যক্ষ করতে হয়েছে দেশবাসীকে। নানা ঘটন-অঘটন, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, চড়াই-উৎরাই, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও আনন্দ-বেদনার সাক্ষী হয়ে কালের গর্ভে সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে ২০১৫। আজ খ্রিস্টীয় এই বছরটির শেষদিন। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় প্রেক্ষাপটে নানা কারণেই স্মরণীয় হয়ে থাকবে বছরটি। বিদায়ী ২০১৫ সালটি শুরু হয়েছিল চরম সংঘাতময় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে। সরকারের ধারাবাহিক দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথমবর্ষ পূর্তিকে সামনে রেখে জামায়াত-বিএনপি জোটের টানা ৯২ দিনের সহিংস অবরোধের মুখে এদেশের মানুষকে প্রত্যক্ষ করতে হয়েছে ভয়াবহ দুঃসংবাদের দৃশ্যপট। বাসে পেট্রোলবোমা মেরে জীবন্ত মানুষকে দগ্ধ করে হত্যা, আন্দোলনের নামে মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাপনে বাধাসহ নানাভাবে দেশকে অস্থিতিশীল পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হয়েছে। তার পরের কয়েক মাস রাজনীতির মাঠ তেমন উত্তপ্ত না হলেও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বোমা হামলা করে ধর্মপ্রাণ মানুষ হত্যা, মুক্তমনা মানুষদের হত্যা, বিদেশী নাগরিক হত্যা, নৈরাজ্য, সহিংসতাকে কেন্দ্র করে চারদিকে আহাজারি, আর্তনাদ, কান্না, দীর্ঘশ্বাস বয়ে গেছে বাঙালী জীবনে। প্রতিহিংসার, নাশকতার আগুনে সংখ্যালঘু ও প্রতিপক্ষের ঘরবাড়ি, দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হয়েছে। অবশ্য প্রতিবাদ, প্রতিরোধের মতো ঘটনাও ঘটেছে। নাশকতা বন্ধের দাবিতে দিনমজুর থেকে শুরু করে বড় ব্যবসায়ীরা পর্যন্ত রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়। যদিও সেই অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল থেকে কয়েকটি রায় ঘোষিত হয়েছে এ বছর। চূড়ান্ত রায় কার্যকর হয়েছে সাকা চৌধুরী, মুজাহিদ, কামারুজ্জামানের। এখন যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি প্রবল হয়ে উঠছে। নারায়ণগঞ্জের সেভেন মার্ডারের মূল আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, সিলেটের শিশু রাজন হত্যার আসামিকে সৌদি আরব থেকে ফেরত আনা হলেও বহু আলোচিত দুই বিদেশী হত্যা, ধর্মযাজক হত্যা প্রচেষ্টা, একের পর এক ব্লগার ও প্রকাশক খুন, পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে হামলা, তাজিয়া মিছিলে বোমা হামলা, শিয়া, আহমদিয়া সম্প্রদায়ের মসজিদে বোমা ফাটিয়ে হত্যার মতো ঘটনাগুলোর এখনও সুরাহা হয়নি। এসব নেতিবাচকতার মধ্যে ইতিবাচক অর্জনও কম ছিল না। প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি পর্যায়ে আন্তর্জাতিক সংস্থার স্বীকৃতি পাওয়া অবশ্যই গৌরবের। মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত, স্বাস্থ্য, দারিদ্র্য হ্রাসসহ নানা ক্ষেত্রে এশিয়ার বহু দেশের শীর্ষে অবস্থান, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সাফল্য বিশ্ববাসীকে বিস্মিত করেছে।

রাত পোহালেই খ্রিস্টীয় নববর্ষ ২০১৬ সালের সূর্যোদয় হবে। নববর্ষের এই সূচনালগ্নে প্রত্যাশা জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে আত্মপ্রবঞ্চনা, অগণতান্ত্রিক ও পশ্চাৎমুখী প্রবণতার অবসান ঘটবে। জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদ নির্মূল ও যুদ্ধাপরাধীমুক্ত উন্নয়নশীল স্বদেশ গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী সকল তৎপরতা বন্ধ হোক। ত্রাস-সন্ত্রাসের দিন যেন আর না আসে ফিরে। শক্ত হাতে এই প্রতিরোধ সবাইকে গড়ে তুলতে হবে।