১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শুধু সংখ্যা নয়, চাই মানও

বিগত কয়েক বছরে মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা চূড়ান্ত পরীক্ষায় চমৎকার ফল করে রীতিমতো আমাদের তাক লাগিয়ে দিয়েছে। ভূরি ভূরি জিপিএ-৫ প্রাপ্তি দেখে অভিভাবকদের স্বস্তি ও গৌরব হওয়ারই কথা। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে এই জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের পঁচাত্তর শতাংশই যখন অকৃতকার্য হয় তখন আমরা হতাশ হই। খটকা লাগে এমন সোনার সন্তানেরা উচ্চ বিদ্যাপীঠে প্রবেশাধিকারে কেন ব্যর্থ হলো? কোথায় আমাদের গলদ? এই জিজ্ঞাসার জবাব পেতে আমরা গলদঘর্ম হই।

শুধু পরিমাণ নয়, মানও গুরুত্বপূর্ণ। ভূরি ভূরি পাসের বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের ভাললাগার কারণ হয় বটে, কিন্তু কে না জানে শিক্ষায় মানটাই আসল কথা। শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে কোন ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে আমরা স্বস্তি বোধ করি। কারণ আজকের শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে দেশের হাল ধরবে। সেই ভবিষ্যৎ বিনির্মাণ গভীর সুবিবেচনাপ্রসূত হওয়াই কাক্সিক্ষত। শিক্ষণীয় বিষয় এবং শিক্ষাদান পদ্ধতি দুটোই শিক্ষার্থীর জন্য কেমন হবে কী হবে তার ওপরেই নির্ভর করে সত্যিকারের মানুষ হওয়ার বিষয়টি। শিক্ষার মান বাড়াতে বিগত ছয় বছরে এ খাতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রণীত শিক্ষানীতিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়া গণিত, ভাষা ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাও সংযুক্ত হয়েছে। ২০১০ থেকে ২০১৫ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত বিনামূল্যে ১৫৯ কোটি পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হয়েছে, যা সত্যিই বিস্ময় জাগানোর মতোই। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সম্প্রতি আরও একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার যা সচেতন মানুষকে আশ্বস্ত করবে। সর্বক্ষণিক নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে দেশের প্রায় ২৮ হাজারের বেশি সরকারী-বেসরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অনলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন সম্পন্ন হবে এই নজরদারি।

শিশুদের সাক্ষর করানোই মূল লক্ষ্য নয়, বরং তাদের বাস্তবোচিত জ্ঞান বিতরণ এবং কর্মমুখী পাঠদানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সে লক্ষ্যে যথাযথ কারিকুলাম বা পাঠ্যসূচী তৈরিই সবচেয়ে বড় বিবেচনার বিষয় অত্যন্ত। আমাদের চাওয়া, শিশুরা সুশিক্ষা লাভের ভেতর দিয়ে সুনাগরিক হয়ে উঠুক। বিদ্যা তাদের জীবনে যেন নিরর্থক বা লক্ষ্যবিহীন না হয়। গভীর বিবেচনাবোধ ও বাস্তবোচিত পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা থেকেই এমন পাঠ্যসূচী তৈরি করা হোক যা শিশুকে কাক্সিক্ষত শিক্ষার আলোয় আলোকিত করে তুলবে। যা তার বাস্তব জীবনে কাজে আসবে। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতের সঙ্গে কিছু বিষয় যুক্ত। শিক্ষণ ও শিখন পদ্ধতির উন্নয়নের কথা সবার আগে বলতে হবে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিনির্ভর যুগোপযোগী শিক্ষার সঙ্গে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোও যে জরুরী, সেটাও অনস্বীকার্য। সর্বোপরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রমের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও অতীব গুরুত্বপূর্ণ। শ্রেণীকক্ষে দক্ষ শিক্ষকের অভাব দূর করতে হবে। মানসম্মত শিক্ষা বিস্তারে সংশ্লিষ্ট সবাই আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করবেন- এটাই প্রত্যাশা।