১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জিডিপিতে নির্মাণ শিল্পের অবদান ৭ শতাংশ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এ নির্মাণ শিল্পের অবদান বাড়ছে। নির্মাণ জরিপ ২০১৩-১৪ এর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলাদেশে প্রতিবছর যে পরিমাণ বিনিয়োগ হয় তার ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ হয় নির্মাণ খাতে। জিডিপিতে এ শিল্পের অবদান প্রায় ৭ শতাংশ। নির্মাণ খাতে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি বেশ সন্তোষজনক। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বুধবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে টাকার অঙ্কে বলা হয়েছে ২০১২-১৩ অর্থবছরে দেশে মোট ২ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকার নির্মাণ কাজ হয়েছে এর মধ্যে পাকা (ইটের) নির্মাণ কাজ হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার কোটি এবং কাঁচা নির্মাণ কাজ হয়েছে ৩ হাজার কোটি টাকার।

রাজধানীর আগার গাঁওয়ে পরিসংখ্যান ভবন সম্মেলনে কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব কানিজ ফাতেমা। বিশেষ অতিথি ছিলেন, অতিরিক্ত সচিব সফিকুল ইসলাম, এমএ মান্নান হাওলাদার, যুগ্ম-সচিব (প্রশাসন) ডাঃ কাজী মোস্তফা সারোয়ার এবং বিবিএসের উপ-মহাপরিচালক বাইতুল আমীন ভূঁইয়া। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মহাপরিচালক আবদুল ওয়াজেদের সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় হিসাব উন্নয়ন কর্মসূচী পরিচালক জিয়াউদ্দিন আহমেদ।

প্রতিবদনে বলা হয়েছে, প্রধান নির্মাণ সামগ্রীর মধ্যে ২০১২-১৩ অর্থবছরে দেশে ইটের উৎপাদন হয়েছে ২১ হাজার ৪৪৮ মিলিয়ন, সিমেন্ট উৎপাদন হয়েছে ২ কোটি ২১ লাখ মেট্রিক টন এবং লোহা ও ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ৫০ লাখ ৮৭ হাজার মেট্রিক টন। গড় কয়লা ব্যবহার করা হয়েছে প্রতি এক লাখ ইট পোড়ানোর জন্য ২০ মেট্রিক টন। জিয়া উদ্দিন আহমেদ জানান, নির্মাণ খাতের বস্তুনিষ্ঠ হিসাব নিরূপণের জন্য বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রীর উৎপাদন ও আমাদনির পরিমাণসহ কাঁচা ও পাকা দালান-কোঠা এবং রাস্তাঘাট নির্মাণ কাজের খরচের হালনাগাদ তথ্য উপাত্ত প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো গত ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সারাদেশে প্রথমবারের মতো একটি ব্যাপকভিত্তিক নির্মাণ জরিপ পরিচালনা করে। এই নির্মাণ জরিপের আওতায় পাঁচটি নির্মাণ সংক্রান্ত জরিপ করা হয়। এগুলো হচ্ছে, কাঁচা ঘর-বাড়ি নির্মাণ জরিপ, নির্মাণ সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান জরিপ, দালান-কোঠা বা ভবন নির্মাণ জরিপ, বেসরকারী খাতে নির্মাণ জরিপ এবং বিশেষায়িত নির্মাণ এবং সংশ্লিষ্ট জরিপ কাজ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে একটি কাঁচাঘর নির্মাণ করতে গড় ব্যয় হয় এক লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৫ টাকা। একটি কাঁচা ঘর-বাড়ি নির্মাণে দ্রব্যাদি প্রাপ্তির উৎস হচ্ছে, মানুষের নিজেদের উৎপাদিত দ্রব্যাদি দশ দশমিক ছয় শতাংশ, ক্রয়কৃত দ্রব্যাদি ৮৭ দশমিক দুই শতাংশ এবং দান বা সাহায্য ইত্যাদি থেকে দুই দশমিক দুই শতাংশ। কাঁচাঘর নির্মাণে ব্যবহৃত দ্রব্যাদির গড় খরচের হার হচ্ছে বাঁশ সাত দশমিক আট শতাংশ, কাঠ ৩৩ দশমিক ১৬ শতাংশ, সিমেন্টের পিলার নয় দশমিক ৭৪ শতাংশ, সিআইসিট ৩৭ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং অন্যান্য ১২ দশমিক ২০ শতাংশ।