২০ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দাপুটে জয়ে শুরু ইংলিশদের

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ঘোরলাগানিয়া বললেও কম বলা হবে। র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দল প্রোটিয়াদের তাদেরই মাটিতে একেবারে নাস্তানাবুদ করে ছাড়ল ইংলিশরা। ডারবানে ২৪১ রানের বড় জয়ে চার টেস্টের সিরিজে ১-০তে এগিয়ে যাওয়ার পথে কার্যত স্বাগতিকদের ‘লজ্জায়’ ডোবাল এ্যালিস্টার কুকের দল। জয়ের জন্য ৪১৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৭৪ রানে অলআউট হাশিম আমলার দক্ষিণ আফ্রিকা, প্রথম ইনিংসে যারা গুটিয়ে গিয়েছিল ২১৪- এ। আর ৩০৩ ও ৩২৬ রান করে ইংলিশরা। ৪+৩=৭ উইকেট নিয়ে ইংলিশদের জয়ের ‘নায়ক’ অফস্পিনার মঈন আলি। দ্বিতীয় ইনিংসে মূল্যবান ৭৩- এর পথে ১৩৮৫ রান ও ১৩ হাফসেঞ্চুরি নিয়ে ২০১৫- সালে সোনালী বছর পার করলেন ইংল্যান্ড তারকা জো রুট।

৪ উইকেটে ১৩৬ রান নিয়ে বুধবার পঞ্চম ও শেষ দিনের খেলা শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকা। জয়ের জন্য যখন তাদের প্রয়োজন আরও ২৮০ রান। জিততে হলে টেস্ট ক্রিকেটে আরও একটি রেকর্ডের দোড়গোড়ায় পৌঁছাতে হতো আমলাদের। ড্র করার সংগ্রামটাও সহজ ছিল না। বিশেষ করে স্বীকৃত ব্যাটসম্যান হিসেবে যেখানে ছিলেন কেবল ক্রিজে থাকা এবি ডি ভিলিয়ার্স, অপেক্ষমান তেম্বা বাভুমা ও জেপি ডুমিনি। কিন্তু স্বাগতিকদের সব আশায় জল ঢেলে দেন মঈন আলি। আগের দিনের সঙ্গে কোন রান যোগ করার আগেই বড় ভরসা ডি ভিলিয়ার্সকে (৩৭) পরিষ্কার এলবিডব্লিউ করে সাজঘরে ফেরান এই স্পিনার। ২ রানে ‘নাইটওয়াচম্যান’ ডেল স্টেইনকে ফেরান পেসার স্টিভেন ফিন। মঈনের দুরন্ত ঘূর্ণিতে বিভ্রান্ত হয়ে উইকেটের পেছনে জনি বেয়ারস্টোকে ক্যাচ তুলে দেয়া বাভুমা (০) রানের খাতাই খুলতে পারেননি।

১৩৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে কার্যত ওখানেই শেষ প্রোটিয়াদের প্রতিরোধ। ইংল্যান্ডের বিধ্বংসী বোলিংয়ের মুখে স্রোতের বিপরীতে যা একটু চেষ্টা চালিয়েছেন ডুমিনি। ২৬ রান নিয়ে অপরাজিত থেকে একে একে সতীর্থদের অসহায় আত্মসমর্পণ দেখেছেন এই অলরাউন্ডার। মরণে মরকেলকে এলবিডব্লিউর (৮) ফাঁদে ফেলে প্রোটিয়াদের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন স্টুয়ার্ট ব্রড। পেসার স্টিভেন ফিন ৪ ও ম্যাচের ‘নায়ক’ মঈন আলি নেন ৩টি করে উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে ৭৩ রানের পথে টেস্ট ক্রিকেটে এক পঞ্জিকাবার্ষে সবচেয়ে বেশি হাফসেঞ্চুরি ছোঁয়া (বা ততোর্ধ) ইনিংসের বিশ্বরেকর্ডে ভারতের বীরেন্দর শেবাগকে স্পর্শ করেন ইংলিশ তারকা জো রুট। ২০১৫ সালে এটি তার ১৩তম হাফসেঞ্চুরি। ২০১০ সালে সমান সংখ্যক হাফসেঞ্চুরিতে এতদিন রেকর্ডটি এককভাবে ছিল সাবেক ভারতীয় তারকার দখলে। দু-জনেই খেলেছেন ১৪টি করে টেস্ট।

তবে শেবাগ ইনিংস খেলেছিলেন ২৫, রুট তার চেয়ে একটি বেশি। শেবাগ ৫ সেঞ্চুরি, ৮ হাফসেঞ্চুরি। আর রুটের ৩ সেঞ্চুরির বিপরীতে হাফসেঞ্চুরি ১০। যেহেতু বছর শেষ তাই আপাতত শেবাগকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এক বছরে ১২ হাফসেঞ্চুরি ছোঁয়া ব্যাটসম্যানদের তালিকায় আছেন ভিভ রিচার্ডস, সুনিল গাভাস্কার, রিকি পন্টিং, জ্যাক ক্যালিস, মোহাম্মদ ইউসুফ ও কুমার সাঙ্গাকারা। সেই সব গ্রেটদের ছাড়িয়ে গেলেও অল্পের জন্য চলতি বছরে সর্বোচ্চ রানের মালিক হতে পারেননি রুট। ২০১৫-এ ২৬ ইনিংসে তার মোট রান ১৩৮৫। ২৪ ইনিংসে ১৪৮১ রান নিয়ে সবার ওপরে অস্ট্রেলিয়ান তারকা স্টিভেন স্মিথ। কেপটাউনে ২ জানুয়ারি শুরু চার ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট।