২১ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রংপুরে বই উৎসবের প্রস্তুতি সম্পন্ন

মানিক সরকার মানিক, রংপুর ॥ কয়েক বছরের মতো এবারও পহেলা জানুয়ারি নতুন বছরের প্রথম দিনেই রংপুর বিভাগের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে বই উৎসব পালনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি এখন শেষ। ইতোমধ্যেই জেলা থেকে উপজেলা হয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পর্যন্ত বিনামূল্যের নতুন ঘ্রাণযুক্ত বই পৌঁছে দেয়ার প্রক্রিয়াও শেষপর্যায়ে। এখন চলছে শুধু উদযাপন অপেক্ষার পালা। তবে এবারের জন্য একটি সুখবর, বিজয়ের ৪৪ বছর পর শৃঙ্খল মুক্তির আনন্দে উদ্বেলিত দেশের অভ্যন্তরে থাকা অধুনা বিলুপ্ত ১১১ ছিটমহলের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও এবারই প্রথম এই বই উৎসবের আনন্দে আস্বাদিত হবে। বাংলাদেশী নাগরিক হিসেবে এবারই প্রথম নতুন বই পাওয়ার আনন্দে তারাও মেতে উঠবে এই উৎসবে।

প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের রংপুর বিভাগীয় দুই কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে পালিত হবে এই বই উৎসব। এ বিভাগে এবার প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা এবং মাধ্যমিক মিলে মোট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৩ হাজার ৮৭১। আর এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা মোট ৪৮ লাখ ৪২ হাজার ২৫৯ জন। এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে এ বছর মোট বইয়ের চাহিদা রয়েছে প্রাথমিকে এক কোটি ৩৬ লাখ ৭৭ হাজার ৫২১ এবং মাদ্রাসাসহ মাধ্যমিকে রয়েছে দুই কোটি ৫১ লাখ ৯৬ হাজার ৮২১ বই। চাহিদা অনুযায়ী ইতোমধ্যেই এসব বই চলে এসেছে জেলা থেকে উপজেলাগুলোতে। এখন চলছে উপজেলা সদর থেকে বিদ্যালয় পর্যন্ত সংগ্রহের পালা। গত ক’দিনে দেখা গেছে যথেষ্ট উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়েই এই বই সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছেন স্ব-স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। সদ্যবিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ার শেখ ফজিলাতুন নেছা দাখিল মাদ্রাসার সুপার আমিনুল ইসলাম জানালেন, এবারই প্রথম ছিটের এই স্কুল-মাদ্রাসাগুলোতে তারা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে এই উৎসব পালন করবেন। তিনি জানান, তার প্রতিষ্ঠানের ২৬০ শিক্ষার্থীর বই ইতোমধ্যেই তিনি ফুলবাড়ী শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে সংগ্রহ করেছেন।

শ্রীপুরে ছেঁড়া বই

নিজস্ব সংবাদদাতা গাজীপুর থেকে জানান, বছরের শুরুতে নতুন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে নতুন বই বিতরণের কথা থাকলেও শ্রীপুরে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য ছেড়া ও নষ্ট বই সরবরাহ করা হয়েছে। এতে স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তবে উপায় না থাকায় ওই বই তাদের শিক্ষার্থীদের নিতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার গুদামের ফাটল ও বাতাসের আর্দ্রতাজনিত এবং দীর্ঘদিন পড়ে থাকার কারণে বান্ডিল স্তূপ করে রাখা নিচের অংশের কয়েকটি বান্ডিলের বই নষ্ট হয়েছে বলে দাবি করেছেন।

জানা গেছে, নতুন বছরের প্রথম দিন সারাদেশের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যের নতুন বই বিতরণের কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অফিস থেকে বই সরবরাহ করা হচ্ছে। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকেও স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য বই সরবরাহ করা শুরু হয়েছে। তবে সরবরাহ করা এসব বইয়ের অনেকগুলোই ছেঁড়া ও নষ্ট।

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আতিকুর রহমান খান জানান, আমাদের নিজস্ব কোন গুদাম নেই। তাই বিএডিসির একটি গুদামে সরবরাহের জন্য বই রাখা হয়। ওই গুদামের ফাটল ও বাতাসের আর্দ্রতাজনিত এবং দীর্ঘদিন পড়ে থাকার কারণে বান্ডিল স্তূপ করে রাখা নিচের অংশের কয়েকটি বান্ডিলের বই নষ্ট হয়েছে, যা তুলনামূলক কম। তবে যেসব স্কুলের বইয়ে ত্রুটি রয়েছে নতুন বই এলেই সেসব স্কুলের বই বদলে দেয়া হবে।