২১ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষে নিহত ১, আহত অর্ধশত

  • লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ফাঁকা গুলি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ উৎসবমুখর পরিবেশে অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোট অনুষ্ঠিত হলেও বেশকিছু কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। অনেক ভোট কেন্দ্রে পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট, টিয়ারশেল ও ফাঁকা গুলি চালাতে হয়েছে। সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের গুলিতে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় এক আওয়ামী লীগ সমর্থক নিহত হয়েছেন। আর সারাদেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত অর্ধশত। আহতদের মধ্যে অধিকাংশই আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সমর্থক। সংঘর্ষের কারণে বেশকিছু কেন্দ্র স্থগিত হয়েছে। পেশাদার অপরাধী, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, প্রতিহিংসা, পূর্বশত্রুতার জের এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে অধিকাংশ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এমন তথ্য জানিয়েছেন আমাদের নিজস্ব সংবাদদাতারাও।

চট্টগ্রাম ॥ বেলা পৌনে এগারোটার দিকে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাতকানিয়া সরকারী কলেজের ভোট কেন্দ্রে সংঘর্ষ শুরু হয়। কাউন্সিলর প্রার্থী মনিরুল ইসলাম ও মোজাম্মেল হকের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ সময় মাঝে পড়ে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী মোঃ জোবায়ের হোসেনের সমর্থক নুরুল আমিন গুলিবিদ্ধ হন। সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুরুল আমিনের মৃত্যু হয়। নুরুল আমিন সাতকানিয়া পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের আবদুর রহিমের পুত্র ছিলেন।

নুরুল আমিনের চাচাত ভাই মোঃ আবুল কালাম জানান, নুরুল আমিন মূলত আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মোঃ জোবায়ের হোসেনের সমর্থক হিসেবে নির্বাচনে প্রচার চালিয়ে আসছিলেন। সাতকানিয়া পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ উল্লাহ জানান, সকাল থেকেই সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়। হঠাৎ করেই দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে গুলিবিনিময়ে নুরুল আমিন নামের ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। ভোট কেন্দ্রের ভেতরে কোন ধরনের সমস্যা ছিল না।

বরগুনা ॥ জেলা সদরের গগন মেমোরিয়াল হাই স্কুল কেন্দ্রে সন্ত্রাসীরা হামলা করে বুথ থেকে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেয়ার সময় সংঘর্ষে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ডাঃ শফিকুল ইসলামসহ পাঁচজন পোলিং অফিসার আহত হন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হন। সংঘর্ষে, ররগুনা থানার ওসি রিয়াজ হোসেন ও সময় টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যান এস এম সিফাত ও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মহারাজও গুলিবিদ্ধ হন।

রাজশাহী ॥ জেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার সাদোপাড়া ভোট কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৫ জন আহত হন। কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে পরিস্থিতি সামাল দেয় পুলিশ।

মৌলভীবাজার ॥ জেলার কয়েকটি কেন্দ্রে দখল ও ব্যালট ছিনতাইয়ের সূত্রধরে সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়। দায়িত্ব পালনের সময় কয়েকজন সাংবাদিকও আহত হন।

ঝালকাঠি ॥ জেলার নলছিটি পৌরসভা নির্বাচনে অনুরাগ কেন্দ্রে স্থানীয় কাউন্সিলর সমর্থক ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ৩ জন আহত হয়েছেন। ব্যালেট ছিনতাই, প্রার্থী নাজেহালের দায়ে ১৩ জন বহিরাগতকে আটক করা হয়। একজনকে কারাদ- দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

খাগড়াছড়ি ॥ জেলার মাটিরাঙ্গা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে অন্তত ২ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত ব্যালট ছিনতাইয়ে জড়িত অভিযোগে একজনকে এক বছরের কারাদ- দিয়েছেন।

ময়মনসিংহ ॥ জেলার গফরগাঁও পৌর নির্বাচনে তিন কেন্দ্রে কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে ১১ রাউন্ড ফাঁকা গুলি চালাতে হয়।

সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জ ॥ সোনারগাঁ পৌরসভা নির্বাচনে জিআর ইনস্টিটিউশন বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষে অন্তত ৫ জন আহত হয়। এ সময় ৭টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি চালালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।

হাতিয়া, নোয়াখালী ॥ বিছিন্ন দ্বীপ হাতিয়া পৌরসভার চৌমুহনী উচ্চ বিদ্যালয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৯ জন আহত হন। পুলিশ কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।

কলাপাড়া ॥ পটুয়াখালী জেলার কুয়াকাটা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পাঞ্জুপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট চলাকালে শতাধিক লাঠিয়াল বাহিনী হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে। ব্যালট বাক্স ভেঙ্গে ছিনিয়ে নেয় ব্যালট পেপার। এ সময় সন্ত্রাসী হামলায় আহত হয় সহকারী পোলিং অফিসার শাহীন ও হাবিবসহ অন্তত ৭ জন। পুলিশ ২৫ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়লে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।

ঝিনাইদহ ॥ জেলার কোটচাঁদপুরে দুধসরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ললিত মোহন ভুইয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের বাইরে প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৩ জন আহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে হাজির হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।

চাঁদপুর ॥ চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ, ফরিদগঞ্জ ও হাজীগঞ্জ পৌরসভার প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ৩২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি চালালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।

বরিশাল ॥ জেলার মুলাদী পৌরসভার পাতারচরে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী শফিকউজ্জামান রুবেলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ২ ছাত্রলীগ নেতাসহ ৪ জন আহত হন।

লাকসাম ॥ জেলার লাকসাম আল আমিন স্কুল কেন্দ্রে ভোটারদের ওপর বিক্ষিপ্ত ককটেল হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এজন্য আধঘণ্টা ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল। এছাড়া গোপালপুর, নশরতপুর, কোমারডোগা, রেলওয়ে স্কুল, কাদ্রা, লাকসাম পাইলট হাইস্কুলে কেন্দ্রে হালকা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ভ্রাম্যমাণ আদালত ৫ জনকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা ও ৭ মাসের কারাদ- দেন। র‌্যাব নির্বাচনী এলাকা থেকে ১০টি পেট্রোল বোমা, তিন বস্তা হকিস্টিক ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে।