১৮ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মেগাবিচ কার্নিভ্যাল- থার্টিফার্স্ট উৎসব আমেজ কক্সবাজারে

মেগাবিচ কার্নিভ্যাল- থার্টিফার্স্ট উৎসব আমেজ কক্সবাজারে
  • পর্যটনের ৬০ বছর পূর্তিতে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা

এইচএম এরশাদ ॥ পর্যটন বর্ষ উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী মেগাবিচ কার্নিভ্যাল। দিন, ঘণ্টা ও মিনিট শেষে ঘনিয়ে এসেছে বহুলপ্রত্যাশিত কার্নিভ্যালের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। আজ বেলা ১১টায় আন্তর্জাতিক এই মেগাবিচ কার্নিভ্যাল উদ্বোধন হওয়ার পর ১ এবং ২ জানুয়ারিও বর্ণাঢ্য উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে এ কার্নিভ্যাল ডেস্টিনেশন। শুক্রবার ১ জানুয়ারি পালিত হবে ‘পর্যটনের কক্সবাজার’র ৬০ বছরপূর্তি অনুষ্ঠান। ১৯৫৬ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকারের শিল্পমন্ত্রী থাকাকালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কক্সবাজারকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে চালু করেছিলেন। ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি তার ৬০ বছরপূর্তিতে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার মধ্য দিয়ে ৬০ বছরপূর্তি পালন করবে কক্সবাজার জেলাবাসী। মুলত বিশ্ব দরবারে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সৌন্দর্যগুলো আরও ভালভাবে জানান দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক এই মেগা বিচ কার্নিভ্যাল আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, প্রথম কার্নিভ্যালটি যেহেতু থার্টিফার্স্ট নাইট দিয়ে শুরু হচ্ছে, সেক্ষেত্রে অন্যান্য সময়ের তুলনায় এবার ব্যাপক লোকসমাগম হতে পারে কক্সবাজারে। যার সংখ্যা হবে আনুমান ১০ লাখেরও বেশি। ১৯ ডিসেম্বর কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন স্থানে একই সময়ে লাগানো হয়েছে কার্নিভ্যালের কাউন্টডাউন ওয়াচ। চলেছে পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম, আগত দেশী-বিদেশী পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। শুধু তাই নয়, অর্থমন্ত্রীর দফতর থেকে জেলা প্রশাসনের কাছে চলে এসেছে উদ্বোধক আগমনের সময়সূচীর প্রজ্ঞাপনও। বাংলাদেশের প্রথম এই মেগা বিচ কার্নিভ্যালের উদ্বোধন করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

মন্ত্রীর একান্ত সচিব এসএম জাকারিয়া হক স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। ৩১ ডিসেম্বর বেলা ১১টায় সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশের প্রথম এই মেগা বিচ কার্নিভ্যালের। বুধবার সকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে মেগা বিচ কার্নিভ্যাল ডেস্টিনেশন সফলের লক্ষ্যে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এই প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক এই মেগা বিচ কার্নিভ্যাল আয়োজনটা কক্সবাজারে হওয়ায় অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছেন জেলাবাসী ও দেশ-বিদেশের পর্যটকগণ।

তিন দিনের এই মেগা বিচ কার্নিভ্যালে বিশাল আয়োজনে থাকছে- দেশের জনপ্রিয় জলক্রীড়া সার্ফিং, গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বলীখেলা, কাবাডি, বিচ ক্রিকেট, বিচ ফুটবল, মোরগ লড়াই, সাইকেল র‌্যালি, বিচ ক্লিনিং ও ফুড স্টল। এছাড়া রাখাইনদের জলকেলী, কালচারাল প্রোগ্রাম, স্থানীয় নৃগোষ্ঠীর মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক আয়োজন, রাখাইন নৃত্য, সৈকতে বালু ভাস্কর্য তৈরি, আতশবাজি, ঘুড়ি উৎসব, ফানুস ওড়ানো। শুধু তাই নয়, লাবণী পয়েন্টের মূল মঞ্চে প্রতিদিন থাকছে দেশী-বিদেশী শিল্পীদের পরিবেশনায় আন্তর্জাতিকমানের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান লাইভ মিউজিক্যাল কনসার্ট। গাইবেন নগর বাউল জেমস, আইয়ুব বাচ্চু, বাপ্পা মজুমদার, ব্যান্ড লালন, মিলা, কর্নিয়া, টিনা, ঐশী, নদী ও বাংলাদেশী আইডলের শীর্ষ শিল্পীরা। মিডিয়া পার্টনার হয়ে তিন দিনের পুরো মিউজিক্যাল কনসার্ট সরাসরি সম্প্রচার করবে স্যাটেলাইট চ্যানেল এসএ টিভি। এছাড়া কক্সবাজারের স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনাও রয়েছে প্রতিদিনের অনুষ্ঠানে। কার্নিভ্যাল উপলক্ষে সমুদ্র সৈকতের আশপাশ এলাকাসহ কক্সবাজার শহরজুড়ে লাইটিং করা হয়েছে। আলপনা দিয়ে সাজানো হচ্ছে সড়ক, উপ-সড়কগুলো। বিমানবন্দর ও কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বসানো হয়েছে কার্নিভ্যালসংশ্লিষ্ট বিলবোর্ড, যা দেখে পর্যটক ও স্থানীয়রা জানতে পারবেন- কিছু একটা হচ্ছে কক্সবাজারের বিচ এলাকায়। ওসব দেখে হয়ত অনেকে বলবে- হে বন্ধু, এসো যাই ওখানে। এমনিতে পুরো ডিসেম্বর মাস বিপুলসংখ্যক পর্যটকে ভরপুর হয়ে আছে পর্যটন নগরী কক্সবাজার। হোটেল-মোটেলগুলোতেও ঠাঁই নেই তিল পরিমাণ। পর্যটকের ভারে মুখরিত হয়ে আছে সমুদ্র সৈকতসহ জেলার পর্যটন স্পটগুলো। এরপর আরও আনন্দ তিন দিনের এই মেগা বিচ কার্নিভ্যালের বিশাল আয়োজনে। রাস্তাঘাটে, হোটেল-রেস্তরাঁ ও প্রতিটি অলিগলিতে শুধু অলোচনা ও আনন্দ তিন দিনের মেগা বিচ কার্নিভ্যালের। উদ্বোধক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ছাড়াও বিশেষ অতিথি থাকবেন- বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, বিদ্যুত জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব খোরশেদ আলম চৌধুরী ও পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান ড. অপরূপ চৌধুরী।

এদিকে গত তিন বছরের রেকর্ড পরিমাণ দেশীয় পর্যটক আগমনের মধ্য দিয়ে ইতোমধ্যে কোটি কোটি টাকা আয় হয়েছে বলে দাবি করেছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। রাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ সবকিছু ঠিক থাকলে আজ থার্টিফার্স্ট নাইট এবং মেগা বিচ কার্নিভ্যাল ডেস্টিনেশন উপলক্ষে আরও প্রায় চার লাখেরও বেশি পর্যটক আগমনের আশা করছেন তারা। বিশেষ করে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, পাথুরে সৈকত ইনানী, প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন, হিমছড়ির পাহাড়ী ঝর্ণা আর মহেশখালীর আদিনাথ মন্দিরসহ পর্যটন স্পটগুলো গিজ গিজ করছে পর্যটকদের পদচারণায়। রাজধানীর যানজট থেকে একটু দূরে পরিবার-পরিজন নিয়ে সমুদ্রস্নান আর সবুজের স্পর্শ পর্যটকদের করছে মাতোয়ারা। পর্যটনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি মাসে প্রায় পাঁচ লাখেরও বেশি পর্যটকের আগমন ঘটেছে কক্সবাজারে। এখনও বুকিং হয়ে আছে সাড়ে চার শতাধিক হোটেল, মোটেল ও কটেজ। রুম খালি নেই তারকামানের হোটেলগুলোতেও। সব মিলিয়ে এবার ইংরেজী বর্র্ষ বিদায় আর বরণের উৎসবের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মেগা বিচ কার্নিভ্যাল পর্যটকদের জন্য নতুন মাত্রার দিগন্ত সূচনা করবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এজন্য নিñিদ্র নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তুলছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। সক্রিয় থাকবে জেলা পুলিশও। বিশেষ করে থার্টিফার্স্ট নাইট ও কার্নিভ্যাল উপলক্ষে সমুদ্র সৈকতজুড়ে পোশাকধারী ও সাদা পোশাকধারী অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে বলে জানিয়েছেন ট্যুরিস্ট পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার হোসাইন মোঃ রায়হান কাজেমী।

অপরদিকে মেগা বিচ কার্নিভ্যালের নামে কোটি কোটি টাকা ভাগবাটোয়ারা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা ও একাধিক প্রভাবশালী নেতার নেতৃত্বে সুকৌশলে এ ভাগবাটোয়ারা করা হয়েছে। সরকার প্রায় দেড় কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও আন্তর্জাতিক এ মেগা বিচ কার্নিভ্যালের তেমন কোন প্রচার চোখে পড়েনি। লোক দেখানো কিছু ফেস্টুন, সস্তা দামের ব্যানার শোভা পাচ্ছে। পর্যটন মন্ত্রণালয়, কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও বিচ ম্যাজেমেন্ট কমিটি যৌথভাবে আয়োজন করছে এই কার্নিভ্যালের। বিভিন্ন কোম্পানি থেকে স্পন্সর নিয়ে আরও তিন কোটি টাকাসহ সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয় করার কথা থাকলেও কার্র্নিভ্যালের নামে অর্থ লুটপাট নিয়ে নানান অভিযোগ উঠেছে। সচেতন মহল ওই দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা ও জড়িত অসাধু ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।