২০ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শিল্পকলায় কাল শুরু বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক উৎসব

  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক উৎসব ২০১৬’। একাডেমির নন্দন মঞ্চে আগামীকাল শুক্রবার থেকে একটানা ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে এ উৎসব। এই আয়োজনে থাকবে দেশের ৬৪ জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিশু ও বড়দের পরিবেশনায় দলীয় সঙ্গীত ও নৃত্য, একক সঙ্গীত, আবৃত্তি ও নিজ নিজ জেলার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ পরিবেশনা। বিকেল সাড়ে ৪টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। বিশেষ অতিথি থাকবেন সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক। সভাপতিত্ব করবেন একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখবেন একাডেমির সচিব জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরী এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবেন সঙ্গীত, নৃত্য ও আবৃত্তি বিভাগের পরিচালক সোহরাব উদ্দীন। প্রতিদিন বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে শুরু হবে অনুষ্ঠান এবং এতে চারটি জেলার পরিবেশনা থাকবে। একাডেমির সেমিনার কক্ষে বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে অনুষ্ঠান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী বলেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতির ইতিহাস সুপ্রাচীন। এই সংস্কৃতি বাংলার গৌরব ও ঐতিহ্যের। ইতোপূর্বে এই দেশের পরিবেশগত অবস্থান সংস্কৃতির উদ্ভব ও বিকাশে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। এখানকার অধিবাসীরা যুগ যুগ ধরে পরিবেশগত এ সংস্কৃতি লালন-পালন করে আসছে এবং ক্রমাগত চর্চা করে যাচ্ছে। সপ্তম শতাব্দীতে লেখা বৌদ্ধ দোহার সংকলন চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত। বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য বিভিন্ন রকমের। আদিকাল থেকে মানুষ যেখানেই বসবাস করেছে, জীবনযাপনের ভেতর দিয়ে সেখানেই জন্ম দিয়েছে নিজস্ব কিছু বিশ্বাস, কিছু আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসবের। মানুষের সামগ্রিক ও সমষ্টিগত রূপের প্রতিফলন হলো উৎসব। এই প্রাচীনতাকে ধারণ করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রথমবারের মতো আয়োজন করতে যাচ্ছে ‘বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক উৎসব ২০১৬’। এবং প্রতিবছর শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকে এই উৎসব উদযাপন করা হবে। এছাড়া প্রতিটি জেলা শিল্পকলা একাডেমিতেও সাংস্কৃতিক উৎসব উদযাপন করা হবে বলে আশ্বাস দেন একাডেমির মহাপরিচালক। তিনি আরও বলেন, ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলে শিল্প সংস্কৃতির আলো প্রজ্বলিত করার প্রত্যয় নিয়ে শিল্পকলা একাডেমি এখন জেলা থেকে উপজেলায় সম্প্রসারিত। জাতীয় সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্যম-িত উপাদানসমূহ সংরক্ষণ ও প্রসার এবং ষোল কোটি মানুষের মধ্যে লুকিয়ে থাকা সকল সুপ্ত প্রতিভার স্ফুরণ ঘটানোর উদ্দেশ্যে আমাদের সকল কর্মযজ্ঞ। এ উৎসব আয়োজনের ফলে আশা করা যায়, প্রতিটি জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে দর্শকরা অবগত হবেন এবং প্রত্যেক জেলায় আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করবেন। তিনি আরও বলেন, উৎসবের বাহ্য আবরণ যেমনই হোক, এর প্রকৃতি সবসময় আনন্দময় ও স্বতঃস্ফূর্ত। সকল কালে, সকল স্থানে সব সময়ই উৎসবের অস্তিত্ব ছিল, আছে এবং থাকবে। তাই আশা করা যায় ‘বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক উৎসব’ হবে বিস্তৃত এবং সাধারণ মানুষের আনন্দে মূর্ত। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সচিব জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরী, নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক সারাআরা মাহমুদ, সঙ্গীত ও নৃত্যকলা বিভাগের পরিচালক সোহরাব উদ্দীন প্রমুখ। প্রতিটি জেলা শিল্পকলা একাডেমি থেকে ষাট থেকে সত্তর জন শিল্পী থাকবেন এক এক দলে। প্রতিটি দলের এক ঘণ্টার পরিবেশনা শেষে ১০ মিনিটের বিরতি থাকবে। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, উদ্বোধনী দিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন জয়পুরহাট, সিলেট, গোপালগঞ্জ ও ময়মনসিংহ জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী বলেন, ৬৪ জেলা শিল্পকলা একাডেমির অংশগ্রহণে নাট্যোৎসব হয়েছে তবে এই প্রথম সাংস্কৃতিক উৎসব, আমরা ভবিষ্যতে চেষ্টা করব প্রতিটি জেলায় আলাদাভাবে প্রতিবছরই সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজনের জন্য, আর ঢাকায় এই উৎসবের আয়োজনের উদ্দেশ্যে যাতে করে সবার মধ্যে একটা প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরি হয়, যেহেতু এখানে বিচারকদের ভূমিকা থাকবে, এতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উৎসাহ কাজ করবে এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ের লোকজন জানবে যে প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক ভাল সংস্কৃতি চর্চার ব্যবস্থা আছে এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি যে সংস্কৃতির বিকাশে কাজ করছি, তা প্রতিয়মান। আমরা আশা করি বর্তমান সংস্কৃতিবান্ধব সরকারের এই আন্তরিকতা অব্যাহত থাকলে দেশের প্রতিটি মানুষ সংস্কৃতির আলোয় আলোকিত হবে।

ধরিত্রী বাংলাদেশ জাতীয় সম্মাননা পেলেন আট গুণী ব্যক্তিত্ব ॥ ‘ধরিত্রী বাংলাদেশ জাতীয় সম্মাননা ১৪২১ বঙ্গাব্দ’ পেলেন দেশের আট গুণী ব্যক্তিত্ব। এরা হলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর প্রফেসর ড. আতিউর রহমান (পরিবেশ), প্রফেসর ডাঃ সামন্ত লাল সেন (মানবসেবায়), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ফারজানা ইসলাম (শিক্ষায়), রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী তপন মাহমুদ (সংস্কৃতিতে), জির কুৎ সাহু (কৃষিতে), কমরেড অজয় রায় (শান্তিতে), চিত্রশিল্পী রফিকুন নবী (শিল্পকলায়) ও মাসুদ আহমেদ (বিশেষ)। জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে বুধবার বিকেলে ধরিত্রী বাংলাদেশ আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফাদার বেঞ্জামিন কস্তা, অধ্যাপক গিয়াস উদ্দীন, আশা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ডালিম চন্দ্র বর্মন ও ধরিত্রী বাংলাদেশ সম্পাদক হারুন অর রশিদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। এরপর সম্মেলক কণ্ঠে পর পর দুটি গান পরিবেশিত হয়। গানের শিরোনাম ছিল ‘মুক্তির মন্দির শোপান তলে’ ও ‘ও আমার দেশের মাটি তোমার পরে ঠেকাই মাথা’। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক আরেফিন চৌধুরী। বক্তারা বলেন, ধরিত্রী বাংলাদেশ বাঙালী জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য, নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য, প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য, মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানবতাবাদী আদর্শের সামাজিক সংগঠন। বাঙালীর চিরায়ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখতে কাজ করে চলেছে সংগঠনটি। প্রথাগত ও সৃজনশীল বিভিন্ন কর্মসূচীর বাইরে জাতীয় উন্নয়ন ও জাতি গঠনে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৪১৬ বঙ্গাব্দ থেকে ‘ধরিত্রী বাংলাদেশ জাতীয় সম্মাননা’ প্রদান করে আসছে। মানবসেবা, পরিবেশ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, কৃষি, শান্তি, শিল্পকলা ও বিশেষ এই ৮টি ক্ষেত্রে অবদান বিবেচনায় এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। আলোচনা শেষে ধরিত্রী বাংলাদেশ সংস্কৃতি সংসদের শিল্পীদের পরিবেশনায় ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।