১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তথ্য পেতে ফেসবুকে হানিট্র্যাপ আইএসআইয়ের

নিজেদের কৌশল পাল্টাচ্ছে পাকিস্তানের সেনা গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর গোপন ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র হাতিয়ে নিতে তারা সুন্দরী নারীদের ‘টোপ’ হিসেবে ব্যবহার করছে। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি, এর আগেও এ পদ্ধতিকে কাজে লাগানো হয়েছে। তবে সোমবার বিমানবাহিনীর এক কর্মকর্তাকে গ্রেফতারের পর জানা যায়, ফেসবুক-হোয়াট্সএ্যাপের মতো সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে যৌন-প্রেমের ফাঁদ পেতে আইএসআই হাতিয়ে নিতে চাইছে গোপন তথ্য।

বিমানবাহিনীর ওই কর্মকর্তার নাম রঞ্জিত কে কে। তিনি মুখ্য এয়ারক্র্যাফ্ট ইঞ্জিনিয়ার পদে কাজ করেন। বিমানবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আইএসআইয়ের কাছে পাচারের অভিযোগে তাকে দিল্লীতে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরপরই চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয় তাকে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়েছিল, তিনি অর্থের লোভেই ওই তথ্য বিক্রি করেছেন। কিন্তু তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা তার ফেসবুক এ্যাকাউন্ট, মোবাইলের বেশকিছু ভিডিও ও অডিও ফাইল পরীক্ষা করে জানিয়েছেন ঘটনাটা ঠিক তেমন নয়। কাজের সুবাদে রঞ্জিতকে ঘন ঘন বেলগাঁও থেকে চেন্নাই যাতায়াত করতে হতো। গোয়েন্দাদের দাবি, বেলগাঁও থেকে তিনবার, চেন্নাই ও দিল্লী থেকে ছয়বার রঞ্জিত বিমানবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁস করেছেন। বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট ডেভেলপমেন্টের গোপন সংবাদ, মিরোজ ও ফাইটার জেটের সব খবরও তিনি আইএসআইয়ের কাছে পাচার করেছেন। গোয়েন্দারা বলেছেন, তিন বছর আগে ফেসবুকে ম্যাকনট দামিনি নামে এক নারীর ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পান রঞ্জিত। এরপর ধীরে ধীরে বন্ধুত্বের গভীরতা বাড়তে থাকে। প্রতিদিন রাতেই কথা হতো ম্যাকনটের সঙ্গে। আস্তে আস্তে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে যৌনতা চলে আসে। ফেসবুক চ্যাট থেকে হোয়াট্সএ্যাপে নতুন আঙ্গিকে আলাপচারিতা শুরু হয়।

টেক্সট থেকে এবার তারা অডিও-ভিডিও চ্যাট করা শুরু করেন। ম্যাকের খাঁটি ব্রিটিশ উচ্চারণ রঞ্জিতকে আরও মুগ্ধ করে। একান্ত গোপন ছবি, সেল্ আদান-প্রদান শুরু হয়। বিস্টনের বাসিন্দা ম্যাক ব্রিটিশ একটি ম্যাগাজিনে কাজ করে বলে পরিচয় দিয়েছিল। সেই পত্রিকায় লিখবে বলে তার কাছে ভারতীয় বিমানবাহিনী সম্পর্কে জানতে চায় ম্যাক এবং বলেন যে, তথ্যের বিনিময়ে রঞ্জিত কিছু অর্থও পেতে পারেন। পরিস্থিতি বুঝে কম গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য তিনি ম্যাককে জানান। -টাইমস অব ইন্ডিয়া