১৭ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যাদের হারিয়েছি

গৌতম পাণ্ডে ॥ দেশের যেসব গুণী ব্যক্তিত্বের সংস্পর্শে দেশের সংস্কৃতি অঙ্গন হয়েছে আলোকিত, এসব গুণীজন হারানোর বেদনাও ছিল ২০১৫ সালে। এ শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়। এবারও অনেক গুণীজনকে হারিয়েছি আমরা।

চলচ্চিত্র নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলাম

১০ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন একুশে পদক পাওয়া প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলাম। রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। গত বছরের মে মাস থেকে চিকিৎসক সৈয়দ আকরামের তত্ত্বাবধানে ছিলেন চাষী নজরুল। ১৯৬০ সালে ফতেহ লোহানীর সঙ্গে ‘আসিয়া’ চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন। এরপর কাজ করেন ওবায়েদ উল হকসহ আরও অনেকের সঙ্গে। অভিনয়ও করেন কিছু চলচ্চিত্রে। ১৯৭২ সালে পরিচালনা করেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম পূর্ণাঙ্গ ছবি ‘ওরা ১১ জন’। চাষী নজরুল ইসলাম ৩৫টির মতো চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। এর মধ্যে ছয়টি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক।

গীতিকার গোবিন্দ হালদার

১৭ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন গোবিন্দ হালদার। মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি’ কিংবা ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে রক্ত লাল’ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় লেখা এমন অনেক কালজয়ী গানের স্রষ্টা তিনি। দীর্ঘ রোগভোগের পর কলকাতার একটি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। গোবিন্দ হালদারের দেশাত্মবোধক গান ১৯৭১ সালে দেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে লাখ লাখ বাঙালীকে অনুপ্রাণিত করেছিল।

অভিনেতা সিরাজুল ইসলাম

২৪ মার্চ মৃত্যুবরণ করেন নাটক, চলচ্চিত্র ও মঞ্চের ‘দাপুটে’ অভিনেতা সিরাজুল ইসলাম। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী এই অভিনেতা ‘চন্দ্রনাথ’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য ১৯৮৪ সালে প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘জননী’। নাটক, চলচ্চিত্র ছাড়াও তিনি নির্মাণ করেছেন বেশ কিছু প্রামাণ্যচিত্র। মহীউদ্দিন পরিচালিত ‘রাজা এলো শহরে’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্যদিয়ে শুরু হয় তাঁর চলচ্চিত্রজীবন। তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

স্থপতি নভেরা আহমেদ

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ভাস্কর নভেরা আহমেদ মৃত্যুবরণ করেন এ বছর ৬ মে । প্যারিসের একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। ভাস্কর হামিদুর রহমানের সঙ্গে জাতীয় শহীদ মিনারের প্রথমিক নক্সা প্রণয়নে অংশগ্রহণকরেন তিনি। নভেরা আহমেদের জন্ম ১৯৩০ সালে। ১৯৭৩ সালের পর তিনি দেশ ত্যাগ করে প্যারিসে বসবাস শুরু করেন। বাংলাদেশ ১৯৯৭ সালে তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে।

কণ্ঠশিল্পী ফরিদা ইয়াসমীন

৯ আাগস্ট মৃত্যুবরণ করেন এক সময়ের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ফরিদা ইয়াসমীন। তিনি দেশের বিশিষ্ট দুই কণ্ঠশিল্পী নীলুফার ইয়াসমীন ও সাবিনা ইয়াসমীনের বোন। ১৯৫৮ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত চলচ্চিত্র আর রেডিওর গানে ফরিদা ইয়াসমীন জনপ্রিয় ছিলেন। সে সময় তিনি আধুনিক বাংলা, উর্দু গান ও গজলে বিশেষ পারদর্শিনী ছিলেন। ১৯৫৯ সালে ওস্তাদ মতি মিয়ার কাছে গান শিখতেন তিনি। সে বছরই ওস্তাদ ফরিদা ইয়াসমীনকে ‘এ দেশ তোমার আমার’ চলচ্চিত্রে গান গাওয়ার সুযোগ করে দেন। তার গাওয়া ‘রাজা এলো শহরে’ চলচ্চিত্রের ‘জানি না ফুরায় যদি এই মধু রাতি’ গানটি তাকে খ্যাতি এনে দেয়।

আসমা কিবরিয়া

১০ নবেম্বর মৃত্যুবরণ করেন অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার স্ত্রী চিত্রশিল্পী আসমা কিবরিয়া। রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। সেখানেই স্বামীর কবরে (৬৪৩০ নং কবরে) তাকে সমাহিত করা হয়।

পটচিত্রশিল্পী রঘুনাথ চক্রবর্তী

২৩ নবেম্বর মৃত্যুবরণ করেন পটচিত্রশিল্পী রঘুনাথ চক্রবর্তী। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৬ বছর। ১৯৬৯ সালের ১ নবেম্বর রঘুনাথ চক্রবর্তী জন্মগ্রহণ করেন। গাইবান্ধার এ শিল্পীর ছবি আঁকার ব্যাপারে কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না। এসবই পরে হয়ে ওঠে তার পটচিত্রের বিষয়। জাপানে শিল্পীর পটচিত্রের প্রদর্শনী হয়েছিল।

এছাড় দেশের কিংবদন্তী বেহালাবাদক, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক আলমাস আলী ও

কৌতুকাভিনেতা পাপ্পু এবছর

মৃত্যুবরণ করেন।