২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট

  • নারীদের উপস্থিতি লক্ষ্যণীয়

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ উৎসব ও আনন্দমুখর পরিবেশে বুধবার সারাদেশে পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকালে শীত উপেক্ষা করে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যান। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোট কেন্দ্রে ভোটারের সংখ্যা বাড়তে থাকে। ভোট কেন্দ্রে মহিলা ভোটারদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। খবর স্টাফ রিপোর্টার, নিজস্ব সংবাদদাতা ও সংবাদদাতাদের।

বরিশাল

সকাল থেকে প্রচ- শীতকে উপেক্ষা করে উৎসবমুখর পরিবেশে জেলার ছয়টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বুধবার সকাল আটটা থেকে মেহেন্দীগঞ্জ, বাকেরগঞ্জ, বানারীপাড়া, মুলাদী, গৌরনদী ও উজিরপুর পৌরসভার ভোটগ্রহণ শুরু হয়। শুরু থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থীদের নানা অভিযোগের মধ্যে কোন সহিংস ঘটনা ছাড়াই ভোটগ্রহণ চলছে। সর্বত্রই নারী ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষণীয়।

পঞ্চগড়

উৎসব ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পঞ্চগড় পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হলেও শীতের কারণে শুরুতে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল কম। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। পৌরসভার ১৩টি ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, অনেক কেন্দ্রেই নারী ভোটারদের উপস্থিতি ভাল। পঞ্চগড় উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে নারীদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।

খাগড়াছড়ি

খাগড়াছড়ির দু’টি পৌরসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে খাগড়াছড়ি সদর পৌরসভা ৯টি ওয়ার্ডের ১৭টি কেন্দ্রে ও মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে।

সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ। প্রচ- কুয়াশা উপেক্ষা করে নারী-পুরুষ ভোটাররা ভোটকেন্দ্রগুলোতে আসতে শুরু করেছেন। ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিচ্ছেন ভোটাররা।

সকালে খাগড়াছড়ি পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড (বাজার এলাকা) শিশু সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী (নৌকা প্রতীক) মোঃ শানে আলম ও নাগরিক কমিটির ব্যানারে স্বতন্ত্র প্রার্থী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের ছোট ভাই ও বর্তমান মেয়র রফিকুল আলম একই কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন। দুই প্রার্থীই ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছেন।

এছাড়া বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতিও বাড়ছে।

এদিকে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর থেকে মাটিরাঙ্গা পৌরসভায় কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। অপরদিকে ভোটকেন্দ্রগুলোতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণের জন্য প্রশাসনের বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। রয়েছে র‌্যাব ও বিজিবি টহল।

ভোলা

বুধবার সকাল থেকে ভোলা, বোরহানউদ্দিন, দৌলতখানসহ ৩ পৌরসভায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। প্রচ- শীত উপেক্ষা করে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে আসেন। পুরুষ ভোটারদের চেয়ে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রায় কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল সন্তোষজনক। প্রতিটি কেন্দ্রে ৫ স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বেলা ১১টা পর্যন্ত কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে কোন কোন কেন্দ্রে বিএনপির এজেন্টদের দেখা যায়নি। এছাড়া বিএনপির মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে তাদের এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ করেছেন। তবে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মনিরুজ্জামান বলেন, বিএনপির এসব অভিযোগ প্রপাগান্ডা। অপরদিকে বেলা ১১টার দিকে ভোলার বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের ভোটকেন্দ্রে বহিরাগত যুবক হুমায়ন কবিরকে জাল ভোট দেয়ার অভিযোগে আটক করা হয়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবুল বশার তাকে ২ মাসের কারাদ- দিয়েছে।

খুলনা

খুলনা জেলার পাইকগাছা ও চালনা পৌরসভার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ বুধবার শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দু’টি পৌরসভাতেই সকালের দিকে ভোটারের উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারের উপস্থিতি বৃদ্ধি পায়। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে উৎসবের আমেজে ভোটকেন্দ্রে এসে ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। প্রথমবারের মতো মেয়রপদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।

পাইকগাছা পৌরসভার রিটার্নিং অফিসার ও খুলনা জেলা নির্বাচন অফিসার হাবিবুর রহমান বিকেলে জানান, পাইকগাছা পৌরসভার ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কেউ কোন অভিযোগ করেনি। ভোটারের উপস্থিতি ছিল প্রায় ৭০ শতাংশ। দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও চালনা পৌরসভার রিটার্নিং অফিসার মৃণাল কান্তি দে বলেন, চালনায় সুন্দর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়েছেন। ভোট পড়েছে ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ।

সাতক্ষীরা

কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরার দুটি পৌরসভায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। সাতক্ষীরা পৌরসভায় ৩১টি ও কলারোয়া পৌরসভায় ৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটাররা ভোট প্রদান করেন। সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি দেখা যায়। বেশিরভাগ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসাব করলেও কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর মেলেনি।

রংপুর

উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে রংপুরের একমাত্র বদরগঞ্জ পৌরসভায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোট শেষ হয়েছে। সকাল ৮টায় তীব্র শীতকে উপেক্ষা করে সব শ্রেণীর নারী পুরুষ ভোটকেন্দ্রে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে আনন্দের সঙ্গে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ পৌরসভার ৯টি ভোট কেন্দ্রের সর্বত্রই কঠিন নিরাপত্তার সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ জানা যায়নি। তবে মেয়রপদের প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে অর্থ দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ করলেও রিটার্নিং কর্মকর্তা সাহাদাত উদ্দিন এ অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে কোন প্রার্থী তাদের অভিযোগ করেনি। এ পৌরসভায় এবার মেয়রপদে ১ জন নারী প্রার্থীসহ ছয় মেয়র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

পাবনা

বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে জেলার ৭টি পৌরসভার নির্বাচন শেষ হয়েছে। দুপুরে সুজানগর পৌরসভার নির্বাচনে নিযোগী বনগ্রাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ মেয়রপ্রার্থীর সমর্থকদের সাথে স্বতন্ত্র মেয়রপ্রার্থী তোফাজ্জল হোসেন তোফার সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সংঘর্ষে গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ১৫ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে রনি ও ইসলাম বেপারিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একই পৌরসভার ভবানীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রতিপক্ষের হামলায় আওয়ামী লীগ মেয়র সমর্থক দেলবর হোসেন গুরুতর আহত হয়েছেন। পাবনা পৌরসভার সেন্টাল গালস্ হাই স্কুল কেন্দ্রে দুপুরে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়রপ্রার্থী সমর্থকরা পুলিশের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ব্যালট পেপারে সিল মামার অভিযোগ এনে বিক্ষোভ করে। আধা ঘণ্টা ভোট বন্ধের পর পুনরায় ভোট নেয়া হয়। এ কেন্দ্র থেকে একটি ব্যালট বই হারিয়ে যায়। চাটমোহর পৌর নির্বাচনে দুপুরে উপজেলা সমাজকল্যাণ কার্যালয়ের ৪নং ভোট কেন্দ্রে কয়েক যুবক প্রবেশ করে ২০-২৫টি ব্যালট পেপারের পেছনে সিল মারে। এ সময় জুডিশিয়াল ম্যাজিট্রেস্ট এসব ব্যালট পেপার বাতিল করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ঈশ্বরদী পৌর নির্বাচনে বিকেল ৪টার দিকে বিএনপি মেয়রপ্রার্থী মোখলেছুর রহমান বাবলু সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ আনেন। তিনি অভিযোগ করেন প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ মেয়রপ্রার্থী তার পোলিং এজেন্টদের বের দিয়ে ভোট কারচুপি করেছেন। তিনি এ নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় নির্বাচনের দাবি করেছেন।

রাজশাহী

উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটারের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শেষ হয়েছে রাজশাহীর ১৩ পৌরসভায় ভোটগ্রহণ। বিচ্ছিন্ন ছোটখাটো কয়েকটি ঘটনা ছাড়া রাজশাহীর সর্বত্র শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে ভোট উৎসব। শৃঙ্খলভাবে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছেন রাজশাহীর ‘ভোটপাগল’ মানুষ। সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে যেন মেলা বসে মানুষের। শিশু-বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ কেউ বাদ নেই। সবাই এসেছেন ভোটকেন্দ্রে। কোন ভীতি বা বাধা ছাড়াই ভোট দিয়েছেন তারা।

ভোটের আগে কয়েকদিন ধরেই নানান গুজব আর আতঙ্কের কথা শোনা যাচ্ছিল। তবে ভোটের দিনের পরিবেশ ছিল সম্পূর্ণ উল্টো, সতঃস্ফূর্ত ভোটারের উপস্থিতি প্রতিটি কেন্দ্রে।

এমন দৃশ্য জেলার ১৩টি পৌরসভার প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে। দলবেঁধে মানুষ আসছেন, সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াচ্ছেন আর ভোট প্রয়োগ করে গড়ে উঠা খাবার দোকানপাটে বসে কিছুক্ষণ আড্ডা দিয়ে ফিরছেন।

নেত্রকোনা

নেত্রকোনার পাঁচ পৌরসভার ৬১টি ভোটকেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোথাও কোন গোলযোগের খবর পাওয়া যায়নি। কিছু কেন্দ্রে সকালের দিকে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লাইন ছোট হতে থাকে। পর্যাপ্তসংখ্যক ভোটকক্ষ থাকায় কোন কেন্দ্রেই ভোটারদের দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়নি। নেত্রকোনা শহরের চন্দ্রনাথ উচ্চ বিদ্যালয়, জাহানারা স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বীণাপানি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দত্ত উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, এসব কেন্দ্রে দুপুর দুটো পর্যন্ত প্রায় ৫০ ভাগ ভোট পড়েছে। কেন্দ্রগুলোতে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। দুপুর দেড়টায় নেত্রকোনা পৌরসভার দত্ত উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নজরুল ইসলাম খান (নৌকা) সাংবাদিকদের জানান, ভোটের পরিবেশ সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং স্বাভাবিক। সবাই উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিচ্ছে।

নীলফামারী

নীলফামারীর ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপচেপড়া ভিড় ছিল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের উপস্থিতি সন্তোষজনক, নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। ভোটকেন্দ্রের সামনে ভোটারদের লম্বা লাইন। ভোটের কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা লক্ষ্য করা গেছে। ভেতরে সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ভোটগ্রহণের দায়িত্ব পালন করেন। ভোটারদের মধ্যে সাহস-মনবল কাজ করছিল কঠোর নিরাপত্তাকে ঘিরে। নীলফামারীর জলঢাকা পৌরসভায় ভোটগ্রহণে এমন দৃশ্য দেখা মেলে ১০টি ভোটকেন্দ্রেই।

বগুড়া

কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া বগুড়ায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সকাল থেকেই শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করে। বগুড়া সদর পৌর এলাকার প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটাররা সুশৃঙ্খলভাবে দাঁড়িয়ে ভোট কক্ষে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে। কর্তব্যরত আনসার পুলিশ প্রত্যেকেই ভোট প্রদানে পূর্ণ সহযোগিতা দেয়। ভোট কেন্দ্রগুলোর বাইরে বিরাজ করে মেলার মতো পরিবেশ।

শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সেন্ট্রাল স্কুল কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় ভোটারদের নম্বর খুঁজে দিতে প্রার্থীর এজেন্টরা ল্যাপটপ নিয়ে বসেছে। প্রিসাইডিং অফিসারের কক্ষেও দেখা যায় তিনি কম্পিউটারে সকল কার্যক্রম মনিটর করছেন। গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) কেন্দ্রগুলোকে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার আওতায় আনা হয়।

দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটার বগুড়া সদর পৌরসভায়। ৭টি সংরক্ষিত নারী আসনের ৭ জন কাউন্সিলর, ২১টি ওয়ার্ডের ২১ জন কাউন্সিলর এবং একজন মেয়র পদে নির্বাচিত করার জন্য মোট ২ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪ জন ভোটারকে ১শ’ ১টি কেন্দ্রে যেতে হয়। সকাল দশটার দিকে শহরের চেলোপাড়া ইসলামিয়া গার্লস স্কুল কেন্দ্রে গিয়ে দৃষ্টিতে আসে একজন অশীতিপর বৃদ্ধা ভোট দিতে এসেছেন। তাকে ধরে ভোট প্রদানের সহযোগিতা দিতে দেখা যায় একজন নারী পুলিশকে। সূত্রাপুর প্রাথমিক স্কুল কেন্দ্রে গিয়ে জানা গেল বেলা সাড়ে তিনটা পর্যন্ত খুবই শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ হয়েছে। বিশেষ করে নারী ভোটাররা সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত যে যার মতো সুবিধাজনক সময়ে গিয়ে ভোট দেন। ওই সময় পর্যন্ত ভোটগ্রহণের হার ছিল ৮২ শতাংশ।

লালমনিরহাট

লালমনিরহাট ও পাটগ্রাম পৌরসভায় বিকেল ৪টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খরব পাওয়া যায়নি। তবে সকাল সাড়ে ১০টায় লালমনিরহাট পৌরসভার চার্চ অব গর্ড ভোটকেন্দ্রে হঠাৎ পুলিশের এএসপি লিজা বেগম নৌকা প্রতীক ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত ঢেঁড়স প্রতীকের কাউন্সিলরের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে। এই সময় জনতা বাধা দেয়। ঘটনা বেগতিক দেখে এএসপি লিজা বেগম তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। নৌকা প্রার্থীর সমর্থকরা ধানের শীষের সমর্থকদের ভোটার লিস্টের কাজে নিয়োজিত কেন্দ্রের বাইরে বুথে হামলা করে। এ সময় যুবদলের নেতা রাসেলসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়। বুথের চেয়ার টেবিল ভাংচুর করে।

মানিকগঞ্জ

কয়েকটি বিক্ষিপ্ত ঘটনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে মানিকগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন। নির্বাচনের প্রথম প্রহরে মানিকগঞ্জ পৌরসভার শহীদ তিতুমীর একাডেমির ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই কেন্দ্রে নৌকার পক্ষে কয়েক শ’ কিশোর জাল ভোট দিচ্ছে এমন খবরে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী গাজী কামরুল হুদা সেলিম ও বিএনপি প্রার্থী নাসির উদ্দিন যাদু কেন্দ্রে প্রবেশ করে কয়েক জাল ভোটারকে চিহ্নিত করেন।

ভৈরব

উৎসবমুখর পরিবেশে ভৈরব পৌরসভার নির্বাচনের ভোটাররা ভোট দেন। সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে একটানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। সকাল থেকেই কেন্দ্রে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটারদের ভোট দিতে দেখা যায়। ভৈরব পৌসভায় ৬৭ হাজার ৪৩৬ ভোটার ৩৫টি কেন্দ্রের ২শ’ ১১টি বুথে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। মেয়র পদে ৩ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৫৫ জন ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১৪ প্রতিদ্বন্দ্বতা করেন। সকাল সাড়ে ৮টায় বিএনপি প্রার্থী হাজী শাহিন কালিপুর মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোট দেন। আওয়ামী লীগ প্রার্থী এ্যাডভোকেট ফখরুল আলম আক্কাছ ভোট দেন ভৈরবপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

চট্টগ্রাম

বিপুল ভোটার উপস্থিতির মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে বুধবার অনুষ্ঠিত হয়েছে চট্টগ্রামের ১০টি পৌরসভার নির্বাচন। প্রথমবারের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহৃত হওয়ায় পৌর ভোটেও ছিল শতভাগ রাজনৈতিক আমেজ। অনেকটা সংসদ নির্বাচনের আবহ সৃষ্টি হয় এ নির্বাচনে। মোট ১৩৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছেÑ জাল ভোট, ব্যালটে সিল মারা ও সরকারদলীয় মেয়র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে।

ফরিদপুর

নগরকান্দা ও বোয়ালমারী পৌরসভায় এবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বোয়ালমারী পৌরসভায় ৯টি কেন্দ্রের মধ্যে সকল কেন্দ্রেই সকাল থেকে ভোটারদের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা যায়। শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সারাদিনই ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে। এখানে কোথাও কোন গোলযোগের খবর পাওয়া যায়নি।

নগরকান্দা পৌরসভায় সকালে সকল কেন্দ্রে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে বিভিন্ন কেন্দ্রে অনিয়ম ও জাল ভোটের অভিযোগ পাওয়া যায়।

বাগেরহাট

বাগেরহাটের দুটি পৌরসভায় উৎসবমুখর পরিবেশে বুধবার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বাগেরহাট ও মোরেলগঞ্জের মোট ২৪টির অধিকাংশ কেন্দ্রে নারী-পুরুষ স্বতঃস্ফূর্ত শত শত ভোটারকে এদিন সকাল ৮টার আগেই লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়। প্রায় প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটারদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।