২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শরণার্থী সঙ্কট ॥ ইউরোপে ডানপন্থীদের উত্থান

  • ২০১৫ সালে সমুদ্রপথে পাড়ি দিয়েছে ১০ লাখের বেশি ॥ জাতিসংঘ

ইউরোপে চলতি বছর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে শোচনীয় শরণার্থী সঙ্কট দেখা দেয়ায় ডানপন্থী শক্তিগুলোর উত্থান ঘটেছে। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ২০১৫ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত দশ লাখেরও বেশি শরণার্থী ও অভিবাসী সমুদ্রপথে ইউরোপে পৌঁছেছেন বলে জানায়।

সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতি পাঁচজন নাগরিকের মধ্যে তিনজন মহাদেশের বাইরে থেকে শরণার্থীদের আগমন অনুমোদন করেন না বলে জনমত জরিপকারীদের জানিয়েছেন। ১২ মাসে ১০ লাখেরও বেশি অভিবাসী মহাদেশটিতে পৌঁছতে থাকলে ব্যালট বক্স ও রাজপথে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার বহির্প্রকাশ ঘটছে। জার্মান চ্যান্সেলর এ্যাঞ্জেলা মেরকেলই অভিবাসীদের সবচেয়ে বড় অংশকে তার দেশে গ্রহণ করেছেন, কিন্তু তিনি তার নীতি অনুসরণে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে রাজি করাতে ব্যর্থ হয়েছেন। মেরকেলের জনপ্রিয়তা দোদুল্যমান রয়েছে এবং তার কোয়ালিশন অংশীদাররা মুক্তদ্বার নীতিকে এক ‘গুরুতর ভুল’ বলে বাতিল করে দিয়েছে। তবে তিনি এখনও অভিবাসন বিরোধী শক্তিগুলোর হাতে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে পড়েননি। ইসলামবিরোধী পেজিভা সরব থাকলেও এক ক্ষুদ্র আন্দোলনই হিসাবেই রয়েছে। ড্রেসডেনে এর শক্তিশালী ঘাঁটি থাকলেও বড় বড় শহরে এর ক্ষীণ উপস্থিতিই লক্ষ্য করা যায়। মেরকেলের নিজস্ব কেবিনেটই কয়েক মাস ধরে জোরালোভাবে এর নীতি পাল্টিয়েছে। কেবিনেট সীমান্তে আনার কড়াকড়ি আরোপ করেছে, আরও বেশি সংখ্যক দেশকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে এবং অভিবাসীদের জন্য স্থায়ীভাবে বসবাস করার অনুমতি পাওয়া কঠিন করে তুলেছে। এটি লোকপাচারের পথ পাল্টাতে বাধ্য করবে। কিনা তা স্পষ্ট নয়, কিন্তু জার্মানদের তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি ইইউর ইউরোমিটার জরিপে অভিবাসন তাদের অন্যতম বড় উদ্বেগের কারণ বলে জানান। নরডিক রাষ্ট্রগুলো আশ্রয় প্রার্থীদের অন্যতম প্রধান গন্তব্যস্থলে পরিণত হয়েছে। সুইডেন অন্য যে কোন ইউরোপীয় দেশের তুলনায় জনসংখ্যার অনুপাতে বেশি আবেদন গ্রহণ করছে এবং ফিনল্যান্ড ও নরওয়েও খুব পিছিয়ে নেই। কিন্তু সেখানে অভিবাসীদের ব্যাপক সংখ্যায় উপস্থিতি খুবই লক্ষণীয় এবং তা সমাজে বিভাজনের সৃষ্টি করেছে। ২০১৫ সালে ১ লাখ ৯০ হাজারেরও বেশি লোক কাগজপত্র ছাড়াই সুইডেনে প্রবেশ করে। অভিবাসনবিরোধী সুইডেন ডেমোক্র্যাটস দল জনমত জরিপে প্রথম বা দ্বিতীয় একক বৃহত্তম দল বলে দেখা যায়। তবে দেশটির বড় বড় মিডিয়াতে একে ‘উগ্র স্বাদেশিক ও বর্ণবাদী’ বলে অভিহিত করা হয়। ডেনমার্ক ও ফিনল্যান্ডে ভোটাররা অভিবাসনবিরোধী দলগুলোকে ভোট দেয়ার সুযোগ পেয়েছিল। ড্যানিশ পিপলস পার্টি ও ফিনস পার্টি তাদের নির্বাচনে দ্বিতীয় স্থান পায়। কিন্তু তখন থেকে তারা ভিন্নপথে চলতে থাকে। ড্যানিশ পার্টি শর্তসাপেক্ষ সমর্থন দিয়ে এক ক্ষুদ্রতর ডানপন্থী দলকে সরকার গঠন করতে দেয়। আর ফিনিস পার্টি কেবিনেটে অংশগ্রহণ করে। কিন্তু ফিনসের এ সিদ্ধান্ত নিয়ে দুঃখ করার কারণ থেকে যায়, কারণ তারা কোয়ালিশন সরকারের জুনিয়র হিসাবে শরণার্থীদের স্রোত বন্ধ করতে পারেনি। ফ্রান্সে ন্যাশনাল ফ্রন্টের নেত্রী ম্যারিন লা পেন ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দলের অগ্রগামী প্রার্থী। তিনি একাধিক কর্মসূচীর দিকেই দৃষ্টি দিয়েছেন। কিন্তু অভিবাসন ও ইসলাম বিরোধিতাই তার দলের মূল নীতি হিসেবে বজায় রয়েছে। ফ্রান্সে ইসলামী চরমপন্থীরা দুটি ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা চালানোর পর দলের জনপ্রিয়তা বেড়ে যায়। -আরটি ও বিবিসি