১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভারতের দশম, মালদ্বীপের পঞ্চমবার ফাইনালে ওঠার লড়াই আজ

রুমেল খান, ত্রিবান্দ্রাম, কেরল থেকে ॥ যদি বলা হয়, ‘দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ ফুটবল’ খ্যাত ‘সাফ সুজকি কাপ’-এর পরাশক্তি হচ্ছে ভারত, তাহলে খুব একটা ভুল বলা হবে না। কেননা, পরিসংখ্যানে চোখ বোলালেই টের পাওয়া যাবে তা। এ পর্যন্ত সাফ ফুটবলের আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে দশবার। দশবারের মধ্যে সর্বোচ্চ নয় বারই ফাইনাল খেলেছে তারা এবং চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সর্বাধিক ছয়বার! সত্যি অভাবনীয় সাফল্যই বটে! মঙ্গল ও বুধবার খেলার বিরতি। আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল চারটায় প্রথম সেমিফাইনালে গ্রুপ ‘এ’ চ্যাম্পিয়ন স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে প্রথম সেমিফাইনাল খেলবে ‘বি’ গ্রুপের রানার্সআপ মালদ্বীপ।

১৬০ ফিফা র‌্যাঙ্কিংধারী মালদ্বীপ এ পর্যন্ত সাফের ফাইনালে খেলেছে চারবার। চ্যাম্পিয়ন হয়েছে একবার। যদিও ‘দ্য রেড স্ন্যাপার্স’ খ্যাত মালদ্বীপ ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ছয় ধাপ এগিয়ে ভারতের চেয়ে (ভারতের ফিফা র‌্যাঙ্কিং ১৬৬), তারপরও হেড টু হেড পরিসংখ্যানে পিছিয়ে আছে তারা। ১৪ বারের মোকাবেলায় ভারত জিতেছে ১০ ম্যাচেই, মালদ্বীপ জিতেছে মাত্র ২ ম্যাচে, আর বাকি ২ ম্যাচ ড্র হয়। সাফে দু’দল সর্বশেষ মোকাবেলা করেছে ২০১৩ কাঠমান্ডু সাফে। মজার বিষয় হচ্ছেÑ সেবারও সেমিফাইনালেই দেখা হয়েছিল উভয় দলের। সেবার জয়ী হয়েছিল ভারতই, স্কোর ছিল ১-০।

স্বাগতিক দল হিসেবে আমাদের নিয়ে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের যে প্রত্যাশা আছে, তার প্রতিদান দিতে চাই ফাইনালে উঠে। তবে ফাইনালে ওঠা এত সহজ নয়। প্রতিপক্ষ হিসেবে মালদ্বীপ অনেক বিপজ্জনক। কেননা, তাদের আছে আশফাকের মতো দুর্ধর্ষ ফরোয়ার্ড’ মন্তব্য ভারতের কোচ স্টেফান কনস্টানটিনের। মালদ্বীপের নিউজিল্যান্ডের কোচ রিকি হার্বাট লয়েড বলেন, ‘আমরা গ্রুপ ম্যাচে আফগানিস্তানের সঙ্গে যেসব ভুল করেছি, আশা করি সেমির ম্যাচে ভারতের সঙ্গে সেগুলোর পুনরাবৃত্তি ঘটবে না। ম্যাচটি যথেষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলেই আশা করছি। সেই সঙ্গে আশা করি বরাবরের মতো স্টেডিয়ামে আসা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মালদ্বীভিয়ান সমর্থকরা এই ম্যাচেও হাজির হবেন এবং আমাদের জয়ের জন্য অনুপ্ররণা যোগাবেন।’

এবারের আসরে ভারত গ্রুপ ম্যাচে ২-০ গোলে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে শুভসূচনা করে। এরপর দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে নেপালকে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপসেরা হয়ে নাম লেখায় শেষ চারে। পক্ষান্তরে এ আসরে গ্রুপ ‘বি’তে মালদ্বীপ ৩-১ গোলে ভুটানকে হারিয়ে দুর্দান্ত শুরু করে, দ্বিতীয় ম্যাচে ৩-১ গোলে বাংলাদেশকে হারিয়ে সেমিতে খেলা নিশ্চিত করলেও গ্রুপসেরা হওয়ার দ্বৈরথে আফগানিস্তানের কাছে ৪-১ গোলে হেরে আবার নেমে আসে মাটিতে। গ্রুপ পর্বে ব্যক্তিগত ২ গোল করেছেন মালদ্বীপের অধিনায়ক-ফরোয়ার্ড আলী আশফাক। বিশেষ করে বাংলাদেশের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে একটি গোল করে সাফে নিজের ২০তম গোলের মাইলফলক পূরণ করার বিরল কৃতিত্ব দেখান তিনি।

সাফ টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই আলী আশফাক ঘোষণা দিয়েছিলেন এটাই হবে তার শেষ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট, তাই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করতে চান সাফ সুজকি কাপের শিরোপা জেতে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দলীয়ভাবে তিনি জিতেছেন ২০০৮ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। সেটা শুধুই খেলোয়াড় হিসেবে। ২০০৯ সালে জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব পান আশফাক। ওই বছরই এবং ২০১৩ সালে তার অধীনে খেলে মালদ্বীপ সাফে ফুটবলের সেমিতে উঠেছিল। এবার নিশ্চিতভাবেই চাইবেন অধিনায়ক হিসেবে সাফের সুদৃশ্য ট্রফিটি নিজের হাতে উঁচিয়ে ধরতে।

দক্ষিণ এশিয়ার এই ফুটবল টুর্নামেন্টে আধিপত্য ভারতেরই। ১৯৯৩ সাল থেকে শুরু হওয়া সাফ ফুটবলে তারা সর্বোচ্চ ছয়বারের (১৯৯৩, ৯৭, ৯৯, ২০০৫, ০৯, ১১) চ্যাম্পিয়ন। মালদ্বীপ শিরোপা জিতেছে ২০০৮ আসরে। সবচেয়ে বেশিবার রানার্সআপ দলটিও ভারত। তিনবার ফাইনালে হেরেছে তারা (১৯৯৫, ২০০৮ ও ১৩)। মালদ্বীপও তাই (১৯৯৭, ২০০৩, ০৯)। এখন দেখার বিষয়, আজকের সেমির দ্বৈরথে জয় কুড়িয়ে নিয়ে ভারত দশম, নাকি মালদ্বীপ পঞ্চমবারের মতো স্বপ্নের ফাইনালে নাম লেখাতে সক্ষম হয়।