১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিদেশে নারীকর্মী যাওয়ার রেকর্ড

অর্থনৈতিক রিপোর্টার॥ বিদায়ী বছরে বিদেশে নারীকর্মী যাওয়ার রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। ২০১৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিদেশে নারীকর্মী গেছে এক লাখ ৭১২ জন। এর মধ্যে সৌদি আরবে গেছে ১৯ হাজার ৩৭৬ জন। তবে সবচেয়ে বেশি নারীকর্মী গেছে জর্ডান, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত আরব আমিরাতে গেছে ২২ হাজার ৮৬৫ জন। এ সময়ে জর্ডানে ১৯ হাজার ৯৩৩ জন ও ওমানে গেছে ১৫ হাজার ৫১৩ জন। এ ছাড়া কাতার, বাহরাইন, লেবানন, হংকংসহ বাকি কর্মী গেছে বিভিন্ন দেশে।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্যমতে, বর্তমানে প্রায় ৯৬ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশী রয়েছেন। ১৯৭৬ সাল থেকে বিপুল পরিমাণ বাংলাদেশী প্রবাস জীবনযাপন করছেন। যাদের পাঠানো রেমিটেন্সের বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। পুরুষকর্মীর পাশাপাশি ১৯৯১ সাল থেকে বাংলাদেশ থেকে নারীকর্মীও বিদেশে যাচ্ছেন। চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত ৪ লাখ ৪৪ হাজার ১২৭ জন নারী বিভিন্ন দেশে গেছে। যাদের অধিকাংশই গৃহকর্মী।

এখন থেকে ১৬ বছর আগে অর্থাৎ ২০০০ সালে যেখানে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে কাজের জন্য গেছে মাত্র ৪৫৪ জন, সেখানে চলতি বছর ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ সংখ্যা বেড়ে এক লাখের উপরে ঠেকেছে। গত বছর (২০১৪) বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৬ হাজার নারীকর্মী বিদেশ গেছে। আগের বছর ২০১৩ সালে ৫৬ হাজার এবং এর আগের বছর অর্থাৎ ২০১২ সালে প্রায় ৩৭ হাজার নারীকর্মী বিদেশে পাঠানো হয়।

১৯৯১ সাল থেকে ২০১৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি নারীকর্মী গেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, লেবানন, জর্ডান, সৌদি আরব ও ওমানে। এ দেশগুলাতে এই ক’বছরে পর্যায়ক্রমে নারীকর্মী গেছেন যথাক্রমে- এক লাখ ১৬ হাজার ১৩৬ জন, ৯৯ হাজার ৭২২ জন, ৮৫ হাজার ৪১৬ জন, ৪৭ হাজার ২১০ ও ৪১ হাজার ৩৯ জন। এ ছাড়া কুয়েত, কাতার, বাহরাইনসহ বিভিন্ন দেশে কর্মী গেছেন।

রিফিউজি এ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) চেয়ারপারসন অধ্যাপক তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, ‘বিদেশে নারীকর্মীর যাওয়ার হার দিন দিন বাড়ছে, সেই সঙ্গে প্রবাসে নারী শ্রমিকদের সমস্যাও বাড়ছে। অনেক দেশেই নারীকর্মীরা নির্যাতনের শিকার হয়ে সহযোগিতা চাইলেও পাচ্ছেন না। নারীকর্মীদের তাৎক্ষণিক সহযোগিতার জন্য সরকারের উচিত দ্রুত হটলাইন এবং শেল্টার হোম খোলার উদ্যোগ নেওয়া।’

এ ব্যাপারে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক (ডিজি) বেগম শামসুন নাহার “নির্যাতনের সব অভিযোগ সত্য নয়’ জানিয়ে বলেন, ‘যে সব কর্মী বিদেশে যাচ্ছেন, গিয়েই ‘হোম সিক’ হয়ে পড়েন অনেকে। তারা দেশে ফেরার জন্য আবেদন করে।”

তিনি আরও বলেন, ‘সৌদি আরবে কয়েক মাস আগে যখন চুক্তি হলো সেখানেই কর্মীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়গুলো রাখার চেষ্টা করেছি। এবং সৌদি আরবে নারীকর্মীদের পাঠানো উপলক্ষ্যেই কিন্তু বিদেশে গমনেচ্ছুক নারীদের এক মাসের আবাসিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। এ কারণে প্রথম দিকে নারীকর্মী পাঠাতে তেমন সাড়া পাওয়া না গেলেও এখন পাওয়া যাচ্ছে।’

বিএমইটি সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে মোট ৫ লাখ ৪০ হাজারের বেশি কর্মী বিদেশে গেছে। এর মধ্যে নারীকর্মী বিদেশে যাওয়ার হার ১৯ শতাংশের (এক-পঞ্চমাংশ) উপরে।

##