২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রিচার্জ ৫০০ টাকা

প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল ফোনের ব্যবহার বাড়ছে। শুধু ব্যবহারই নয়, জীবনযাপনের ক্ষেত্রে তা অপরিহার্যও হয়ে উঠেছে। তাই মোবাইল ফোন ব্যবহার সংক্রান্ত বিষয়াদি সুরক্ষিত ও নিরাপদ রাখতে যথার্থ পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরী হয়ে দেখা দিয়েছে। সেই লক্ষ্যে সম্প্রতি সিম নিবন্ধনের বিষয়টি উল্লেখ করা যায়। এবার একদিনে মোবাইল ফোনে ৫০০ টাকার বেশি রিচার্জ করা যাবে না। মঙ্গলবার বিটিআরসি এ সংক্রান্ত একটি চিঠি মোবাইল অপারেটরদের কাছে পাঠিয়েছে। এই নির্দেশনার ফলে কোন গ্রাহক তার মোবাইল ফোনে ৫০০ টাকার বেশি ব্যালেন্স রিচার্জ করতে পারবেন না। অবৈধ ভিওআইপি (ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল) রোধে এই নিয়ম চালু করা হচ্ছে বলে ধারণা করা যায়। বিষয়টির অনুমোদন দিয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। এখন কার্যকরের দায়িত্ব বিটিআরসির। গত ২১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় প্রথমবারের মতো সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযাগ বিভাগ পরিদর্শনে গেলে বিষয়টি আলোচনায় স্থান পায়। সে সময় বিষয়টি চূড়ান্ত করতে নির্দেশনা দেয়া হয়। প্রায় ২ মাস সময়ের মধ্যে নির্দেশনাটি চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে। তবে পোস্ট পেইড গ্রাহকের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তটি প্রযোজ্য কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়। উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০০৮ সালের এ সংক্রান্ত নির্দেশনায় সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা রিচার্জ করার নিয়ম ছিল, তবে তা প্রতিদিন নির্ধারিত ছিল না। প্রতিমাসে ব্যালেন্স ট্রান্সফারের সীমা এক হাজার টাকা আগেও ছিল, তবে প্রতিদিন ব্যালেন্স ট্রান্সফার ১০০ টাকার পরিবর্তে ৩০০ টাকা করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের ফলে গ্রাহকরা যে এক ধরনের সমস্যায় পড়বেন তা ধারণা করা যায়। বর্তমানে বাংলাদেশের ইন্টারনেট গ্রাহকদের মধ্যে ৯৭% মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকেন। এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, নবেম্বরের শেষ নাগাদ দেশে মোবাইল ফোন গ্রাহক সংখ্যা ১৩ কোটি ৩১ লাখ ছাড়িয়েছে। তাই বলা যায়, এই সিদ্ধান্তে তৃণমূল পর্যায়ের গ্রাহকরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। এতে তারা ডিজিটাল সার্ভিস থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

দেশে ইন্টারনেটভিত্তিক ভয়েস কলিং সুবিধা বন্ধ থাকায় এবং বিটিসিএল-এর আন্তর্জাতিক ইনকামিং কলের দাম বাড়ানোয় বৈধ পথে আসা কলের পরিমাণ বেড়েছে। এক মাস আগে দেশে আসা কলের পরিমাণ প্রতিদিন ৫ কোটি মিনিটে নেমে গিয়েছিল। পরে ধীরে ধীরে তা বাড়তে থাকে। বর্তমানে তা সাড়ে ৭ থেকে ৮ কোটি মিনিটে পৌঁছেছে। মোবাইলে রিচার্জের পরিমাণ বেঁধে দেয়ার পেছনে এটাও একটা কারণ হতে পারে। গ্রাহক নিরাপত্তা ও দেশের স্বার্থে সরকার যে কোন সিদ্ধান্ত নেবেন এটাই স্বাভাবিক। তবে কারণ যাই হোক, এতে সাধারণ গ্রাহকরা যেন নিরুৎসাহিত না হন, ক্ষতিগ্রস্ত না হন সে বিষয়টি আগে নিশ্চিত করা দরকার।

বর্তমান যুগ প্রযুক্তির যুগ। ফলে এর উন্নয়নকে কাজে লাগিয়ে মোবাইল ফোন, ইন্টারনেটসহ সার্বিক বিষয় যেন জনজীবনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে তা নিশ্চিত করতে হবে। আর এক্ষেত্রে সঠিক তথ্য প্রদান ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। মোবাইল ফোন ব্যবহার সংক্রান্ত কোন অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি কারও কাম্য হতে পারে না। সরকার সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, গ্রাহকরা নির্বিঘœ সেবা পাবে- এই বিশ্বাস সবার।

নির্বাচিত সংবাদ