২০ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হোক

  • ড. আর এম দেবনাথ

ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহটা কাটানোর কথা কলকাতায়। ২০১৫ সালের বিজয় দিবস উদ্্যাপন অনুষ্ঠানে ভারত সরকারের একজন আমন্ত্রিত অতিথি ছিলাম। অনুষ্ঠানটি প্রতিবছর করে থাকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ড। এই অর্থে আমার মতো একজন চুনোপুঁটির জন্য এটা ছিল একটা বিরল সম্মান। দুঃখের বিষয় সকলের কপালে সম্মান বা সুখ সয় না। আমারও তাই। যখনই প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম তখনই খারাপ খবর শুরু হয়। রুটিন চেকআপ করাতে গিয়েই ধরা খেয়ে গেলাম। ক্রিয়েটিনিন তিন দশমিক আট। আমার আপনজন স্বনামখ্যাত ডাক্তার সজল ব্যানার্জি বলল, দাদা সব কাজ বন্ধ, আগামীকাল হাসপাতালে ভর্তি হবেন। এর কোন ব্যতিক্রম নেই। আমার মন ভীষণ খারাপ হয়ে গেল। হাসপাতালের রোগী হয়েছি খুব কম। কিন্তু এবারের রোগটি তো মারাত্মক। কিডনি বলে কথা। তবে কী ‘ডায়ালাইসিস’ পর্যায়ে চলে যাবে সমস্যা। পরদিন যখন ভর্তির পর ‘ক্রিয়েটিনিন’ মাপা হলো তখন তা হুট করে উঠে পড়ে পাঁচ পয়েন্ট আট-এ। আমি প্রমাদ গুনি। বিছানায় শুয়ে শুয়ে নানা আশঙ্কার কথা ভাবি। দু’দিনও হয়নি আমার প্রিয় ছোট বোন মঞ্জু না বলে চলে গেল-ডায়াবেটিকে। মারা গেল কলকাতায়, জটিলতায় লাশটি আনা গেল না। আমার ছোট বেলার ফুল কুড়ানোর সাথী দীপালী নেই অনেকদিন। বলা যায় বিনা চিকিৎসায়। যে ঠাকুরদা (বড়ভাই) বৃহস্পতিবার বাজারের দিনে গভীর রাতে বাচামাছের ভাজা লাল মুলা দিয়ে খাওয়াতেন অতীব কষ্টে আগরতলায় গিয়ে এরশাদী অত্যাচারের মূল্য দিলেন। নিঃস্ব অবস্থায় মারা গেলেন। যে বন্ধু বাণিজ্য কলেজের মধ্যে শ্রেষ্ঠ একটা কলেজ (সিটি কলেজ) দাঁড় করালেন সেই প্রিন্সিপাল হাফিজ নেই। ক্যান্সারে চলে গেলেন। রেখে গেলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি। তার সাইকেলই আমাদের স্মৃতি। ১৯৬৪-৬৫ সালের দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গাড়ি তো দূরের কথা সাইকেল ছিল কয়েকজনের? দুইটা দশের ক্লাস। হাফিজ, আমি, সরোজ, রঞ্জিত, গফুর এক সাথে লাঞ্চ খাওয়া, জগন্নাথ হলে। এসব স্মৃতি নিয়ে ভাবছি হাসপাতালের বেডে। অতি সম্প্রতি সরোজটাও (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্যাকাউন্টিংয়ের প্রফেসর) চলে গেল। কত অভিমান তার সাথে, কথা বন্ধ, কথা শুরু, কত কিছু। ও গেল ক্যান্সারে। অথচ জীবনে সিগারেট খায়নি কোনদিন। কী কষ্ট দেখলাম। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক বন্ধু ফিরোজ গেছে অনেক আগেই। অতি সম্প্রতি গেল ‘মিঃ ইস্ট পাকিস্তান’ বরিশালের ইসমাইল। এসবই বলা যায়, আজকের দিনের স্ট্যান্ডার্ডে অকাল মৃত্যু। হাসপাতালের বেডে বেডে রোগীদের ‘আল্লাহ বাঁচাও’ আর্তনাদ আমাকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে তোলে। তবে কি বাড়ি ফেরা হবে না। কিডনি কি ফেইল করবে? ‘ডায়ালাইসিস’-এর মতো ব্যয়বহুল প্রক্রিয়ায় ঢুকতে হবে- ফতুর অবস্থায় ঈশ্বরের সঙ্গে দেখা হবে। এসব দুশ্চিন্তা, দুর্ভাবনা, উদ্বেগ আর পাশাপাশি দুই ছোট্ট নাতি-নাতনির কথা। একবার ভাবি, না কিছুই হবে না, আবার বাড়ি ফিরে অদ্বিতীয়া ও রণজয়ের ঝগড়া মেটাব- পুতুল নিয়ে ঝগড়া, রোবট গাড়ি নিয়ে ঝগড়া। মনটা মাঝে মাঝে বিষণœ হয়ে যায়। জানালার পাশেই আমার কেবিন নংÑ এক। তাকালেই দেখি শত শত উদ্বেগাকুল আত্মীয়-পরিজন যাদের রোগীরা ভর্তি হৃদরোগ বিভাগে। আমিও এখানে। আমি প্রথমত হৃদরোগী, নতুন উপসর্গ কিডনি। আতঙ্কিত, উদ্বেগাকুল সাধারণ ভিজিটরদের চেহারার দিকে তাকানো যায় না। দিনে দু’একটা লাশ যাচ্ছে। স্বজনদের কান্নার দৃশ্য বর্ণনার অতীত। এরই মাঝে ডাঃ সজল আসেন সঙ্গে তার কত ছাত্র, উৎসুক ছাত্রÑ তারা জানতে চায়, বুঝতে চায় সিনিয়র প্রফেসরের কাছ থেকে। আমি শুনি। ডাঃ সজল যখনই আমার পিঠে হাত রেখে বলে দাদা, কিছু ভাববেন না, আপনি ভাল হয়ে ফিরবেন। আশ্বস্ত হই। আবার অসহায় হয়ে পড়ি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বন্ধুবর কামরুল ভাই প্রতিদিন আসেন। আমাকে সাহস যোগান। সুখের দিনের স্মৃতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন। সদাহাস্য তিনি, কড়া প্রশাসক। আমি আশ্বস্ত হই। হাসপাতালের সিস্টাররা আসেন, কাঁটায় কাঁটায় আগমন। খাওয়ার আগের ওষুধ, খাওয়ার পরের ওষুধ মাফ নেই। বাংলাদেশে নার্স পেশা এত উন্নত হয়েছে আমার জানা ছিল না। ‘গুড মর্নিং বলে তারা ঢোকে। আঙ্কল কেমন আছেন বলে সম্বোধন করেন। একা আসেন না। দলে দলে তারা আসেন। প্রেসার মাপছেন একজন, ইনজেকশন দিচ্ছেন একজন, ইসিজি করছেন একজন। জিজ্ঞেস করলাম- এমন কেন? তাদের উত্তর ‘সিরিয়াস’ পেসেন্ট ভর্তি এখন সেই তুলনায় সিস্টার কম। তাই মনোযোগ দিতে গিয়ে দক্ষতার পরিচয় দিতে হয়। নার্সের সংখ্যা কম। কিন্তু আমি অভিভূত কার্ডিওলজি বিভাগের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা দেখে। ঘণ্টায় ঘণ্টায় ক্লিনাররা পরিষ্কার করে দিয়ে যাচ্ছে। একটা ডাকও দিতে হয় না। অবিশ্বাস্য কা-। সরকারী হাসপাতাল। এটা কী করে সম্ভব? দেখলাম উপাচার্য কামরুল হাসান খান ও কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান স্বল্পভাষী ডাঃ সজল ব্যানার্জির প্রতি তারা শ্রদ্ধাশীল। নেতৃত্ব যে একটা প্রধান বিষয় এটা পরিষ্কার। সরকারী হাসপাতালের টয়লেট, বাথরুম, ওয়াশরুমে যাওয়া যায় না। না, অদ্ভুত ব্যাপার এখানে তা ভিন্ন। সর্বদা টয়লেট পরিষ্কার। যেন ভূতে করে যাচ্ছে। ছোটবেলায় বাপ-দাদার কাছে শুনেছি কারও বাড়িতে গিয়ে প্রথমেই যাবে বাথরুমে। বাথরুম পরিষ্কার থাকলেই বোঝা যাবে বাড়ির সাংস্কৃতিক মননটা কী? তারপর দেখবে রান্নাঘর। বাহ্যিক পোশাক-আশাক কিছুই বলে না। আসল সংস্কৃতি হলো ওই জায়গায়। এই ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। তবে এখানে মন খারাপের একটা দৃষ্টান্ত আছে। ক্লিনারদের দুজনকে দেখলাম আউট সোর্সিংয়ের লোক। ওরা বলল, তাদের কোম্পানি নাকি মাত্র তিন হাজার টাকা বেতন দেয়। সারাদিন খাটায়। ছুটি দেয় না। এসবের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় দায়ী নয়। এটা আমাদের দেশে নতুন একটা উৎপাত। বাজার অর্থনীতির নামে যে অনাচারের অর্থনীতি শুরু হয়েছে সেখানে ‘আউট সোর্সিং’ নামের একটা আপদ ঢুকেছে শ্রমিকদের ঠকানোর জন্য। যাক এটা ভিন্ন বিষয়।

আমার এবার মূল রোগ কিডনি সম্পর্কিত। দেখতে এলেন প্রখ্যাত নেফ্রোলজিস্ট প্রফেসর ডাঃ রফিকুল আলম। আমরা যখন ডাক্তারের ব্যক্তিগত চেম্বারে যাই তখন অনেকের অনেক অভিযোগ থাকে। কিন্তু হাসপাতালে ডাক্তারদের আমি পেলাম বন্ধু হিসেবে। রফিক ভাই তো হেসে হেসে সব সমস্যা আমাকে বোঝাতে ব্যস্ত ছিলেন। তার সঙ্গে একদল জুনিয়র ডাক্তার। তারাও প্রশ্নবাণে জর্জরিত। এটা কেন হলো, ওটা কেন একজন হলো- সিনিয়রের প্রশ্ন। এতে আমার লাভ হয়েছে একটি। আমি যা বুঝি না তা বুঝতে সক্ষম হলাম। একটা বিষয় লক্ষ্য করলাম ডাক্তাররা বিভিন্ন শ্রেণীর। কেউ কেউ হাসপাতালের নিজস্ব স্টাফ, কেউ কেউ ডেপুটেশনে এসেছেন, কেউ ট্রেনিংয়ে এসেছেন, কেউ ডিগ্রী করতে এসেছেন। তারা ঘুরছেন এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে। অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করছেন। দেশের সবচেয়ে বড় হাসপাতাল, বিশাল প্রতিষ্ঠান। কাজের শেষ নেই। রোগ ও রোগের প্রকৃতি ভেদের অভাব নেই। অথচ শিক্ষার সুযোগ এখানে অফুরন্ত। সবচেয়ে বড় সুবিধা ছাত্রদের একটা। দেশের সেরা ডাক্তার সব এখানে। সিনিয়ররা সবাই যার যার ক্ষেত্রে স্বনামধন্য। অতএব ছাত্রদের এটি একটি মহাসুযোগ। বলা হয়, বঙ্গবন্ধু হাসপাতালে রোগীর চেয়ে ডাক্তারের সংখ্যা বেশি। এটা দোষের কিছু নয়, যতক্ষণ পর্যন্ত জুনিয়র ডাক্তাররা সিনিয়রদের সঙ্গে থেকে এক্সপার্টিজ ডেভেলপ করেন। জুনিয়র ডাক্তারদের মধ্যে আমি আলোচনার একটা আলামত দেখেছি। তারা নিজেরা সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন। এটা ভালো দিক। একটা দিক অবশ্য আমি লক্ষ্য করেছি যা বলা দরকার। ধরা যাক একটা টেস্টের কথা। এটা করতে হলে প্রথমে ব্যাংকে যেতে হবে টাকা জমা দিতে। সেখান থেকে টিউব আনতে হবে। সেই টিউবে রক্ত দিয়ে তারপর জমা দিতে হবে। এটি বড় বিড়ম্বনাময়। অনেক রোগীর এত ‘এটেনডেন্ট’ নেই। গ্রামের রোগীর তো নেই-ই। তাদের পক্ষে রোগীকে সাহচর্য দেয়া এবং টেস্টের ব্যবস্থা করা বড় কষ্টকর। একটা টেস্ট মহাখালী, একটা টেস্ট স্কয়ার, একটা টেস্ট বারডেমÑ এটি বড়ই সমস্যা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে ভাববেন নিশ্চয়ই। ব্যবস্থাটা এমন হওয়া দরকার যাতে রোগী একবার ঢুকলে বাকি কাজ হাসপাতালের। কারণ মধ্যবিত্তের, গরিবের কোন সাহায্যকারী থাকে না। আমরা চাই দেশে এমন একটা হাসপাতাল গড়ে উঠুক যা সারা দেশে তো বটেই এশিয়ায় নাম করে নেবে। আমরা সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথের কথা শুনি, বামরুনগ্রাদের কথা শুনি, দিল্লীর অল ইন্ডিয়া মেডিক্যাল ইনস্টিটিউটের কথা শুনি, প্রশংসা করি। আমরা চাই যেহেতু হাসপাতালের নামের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর নাম জড়িত তাই এই হাসপাতালটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হোক। এতে কোন ছাড় দেয়া যাবে না। এর জন্য আরেকটি পদক্ষেপ দরকার। বড় বড় রোগীর চিকিৎসা এখানে করাতে হবে। শুনেছি এবং প্রায়ই শোনা যায় প্রভাবশালী রোগীরা জোর করে এই হাসপাতাল থেকে সুপারিশ নেন যে তার বিদেশে চিকিৎসা দরকার। অথচ এ কথা জানা, এই চিকিৎসা বঙ্গবন্ধু হাসপাতালেই সম্ভব। এই জায়গায় সকল প্রভাবশালীকে অনুরোধ করব দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে। তাছাড়া ভাল প্রতিষ্ঠান হবে না। সত্যি মিথ্যা জানি না। শুনেছি মাহাথীর মোহাম্মদ হৃদরোগী ছিলেন। তার বাইপাস দরকার। দেশে সেই ব্যবস্থা নেই। মাহাথীর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞেস করলেন আমার দেশের ডাক্তারদের বাইপাসে পারদর্শী করতে কতদিন সময় লাগবে? উত্তর এলো ছয় মাস। তিনি জিজ্ঞেস করলেন আমার বাইপাস কতদিনের মধ্যে করতে হবে। সময় যখন মিলে গেল তখন তিনি বললেন, ডাক্তারের ট্রেনিং আগে, পরে নিজের দেশের ডাক্তার দিয়ে আমি বাইপাস করাব। ভারতের প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী হাঁটুর অপারেশন দিল্লীতেই করিয়েছিলেন। মহান ব্যক্তিরা এমন উদাহরণ সৃষ্ট করলে হাসপাতাল দক্ষ হবে, ডাক্তার তৈরি হবে, নার্স তৈরি হবে। আমরা চাই এমন একটা দেশ যেখানে মহামান্য রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সাংসদ, প্রধান সচিব, সচিব, গবর্নর শ্রেণীর লোকেরা দেশেই চিকিৎসা করাবেন। কথায় কথায় বাইরে যাবেন না। আর প্রেস রিলিজ ইস্যু করবেন না। যে চিকিৎসা দেশে নেই তার চিকিৎসা বিদেশে হবে আপাতত এটা আমি মেনে নেব।

পরিশেষে দুটো কথা। হাসপাতালের নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়। দেশে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় একটি। বঙ্গবন্ধুর নামে নাম। সেরা ডাক্তাররা এখানে। প্রশাসকরা যথেষ্ট দক্ষ। এই বিশ্ববিদ্যালয় পৃথিবী না হোক এশিয়ায়, কেন আন্তর্জাতিক মানের হবে না? জননেত্রী শেখ হাসিনা অনেক কাজ করেছেন যা বহুকাল মানুষ মনে রাখবে। এই কাজটি তিনি করলে সুস্থ জাতি গঠনে একটা স্থায়ী অবদান হিসেবে চিহ্নিত থাকবে। এর জন্য স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। দুর্ভাগা দেশে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে আর্থিক বরাদ্দ কমছে। এটা কাম্য নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি উদ্যোগ নিলে বঙ্গবন্ধু হাসপাতালের জন্য আর্থিক ও কারিগরি সাহায্যের কোন অভাব হবে না। আপনি সেই যোগ্যতা ও সম্মান অর্জন করেছেন। আপনার কাছে এই প্রত্যাশাটা রাখলাম।

লেখক : ম্যানেজমেন্ট ইকোনমিস্ট ও

সাবেক শিক্ষক ঢাবি

এই মাত্রা পাওয়া