২০ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাড়তি বিনিয়োগ সমন্বয়ের সময় বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নির্দেশ দিচ্ছে মন্ত্রণালয়

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ পুঁজিবাজারে যেসব ব্যাংকের আইনী সীমার চেয়ে বেশি বিনিয়োগ রয়েছে, সেগুলোর বাড়তি বিনিয়োগ সমন্বয়ের সময় বাড়ছেই। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশনা পাঠাবে অর্থ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার বাড়তি বিনিয়োগ সমন্বয়ের বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. খায়রুল হোসেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে সচিবালয়ে তার অফিস কক্ষে সাক্ষাত করেন। এ সময় সেখানে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে সম্প্রতি সমন্বয়ের সময় বাড়ানোর ঘোষণা দেয়ায় ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে পত্রপত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছেÑ এ সময় বাড়াচ্ছে না। এতে সবার মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বাজারেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রীও বিষয়টিতে সায় দেন। তিনি বলেন, সময় বাড়ানোর বিষয়টি সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার। সরকারী এজেন্সিগুলোর দায়িত্ব এ ধরনের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করা। এখানে দ্বিমত প্রকাশের কোন সুযোগ নেই। অর্থমন্ত্রীও তার এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন। তিনি তখনই মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের ডেকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেন।

সূত্র জানিয়েছে, অর্থমন্ত্রীর নির্দেশ অনুসারে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছে। তারা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে নির্দেশ পাঠাবে। আগামী বছরের ২৩ জুলাইয়ের আগেই যেন সময় বাড়ানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সেটি সুস্পষ্টভাবে বলা থাকবে।

উল্লেখ্য, বিদ্যমান ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুসারে তফসিলি ব্যাংকগুলো পুঁজিবাজারে নিজ নিজ রেগুলেটরি ক্যাপিটালের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারে। ২০১৩ সালে আইন সংশোধন করে এ সীমা বেঁধে দেয়া হয়। আর সীমার বেশি বিনিয়োগ যাদের রয়েছে, তাদের ৩ বছরের মধ্যে বাড়তি বিনিয়োগ সমন্বয় করার সময় বেঁধে দেয়া হয় আইনে। এ অনুসারে আগামী বছরের ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে বাড়তি বিনিয়োগ সমন্বয় করার কথা। কিন্তু সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতি অনুকূল নয় বলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো তাদের শেয়ার বিক্রি করে বিনিয়োগ সমন্বয় তথা কমিয়ে আনতে পারছে না। এ সময়ের মধ্যে তারা শেয়ার বিক্রি করতে বাধ্য হলে বাজার পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়বে বলে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা। এ আতঙ্কে বাজারও গতিশীল হতে পারছে না।

এমন বাস্তবতায় বেশ কিছুদিন ধরে স্টক এক্সচেঞ্জসহ সংশ্লিষ্টরা সমন্বয়ের সময় বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছেন। এসব বাস্তবতায় গত নবেম্বর মাসে অর্থমন্ত্রী সমন্বয়ের সময় ২ বছর বাড়ানোর ঘোষণা দেন। কিন্তু ডিসেম্বরের প্রথমভাগে সেন্টার ফর এনআরবির এক অনুষ্ঠানে গবর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, সময় বাড়ানোর দরকার নেই। বিকল্প ব্যবস্থা আছে। এতে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আন্তরিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠে। যদিও গত সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাংক এক্সপোজারের সংজ্ঞা বদল করে সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মূলধনকে পুঁজিবাজারে ব্যাংকের মোট বিনিয়োগের বাইরে রাখার নির্দেশনা জারি করে। এরপর সমন্বয়ের সময় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই কমে আসে। তারপরও এর প্রতীকী তাৎপর্য রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আর সে কারণেই সময় বাড়ানোর নির্দেশ দিতে যাচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

এই মাত্রা পাওয়া