১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিদেশে নারীকর্মী গমনের রেকর্ড

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ কর্মে নিরাপত্তাহীনতা, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের আশঙ্কা নিয়েও বাংলাদেশের নারী কর্মীরা বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। অসহায় ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের মেয়েরা পাড়ি দিচ্ছেন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে। বিদায়ী বছরে নারী কর্মীদের বিদেশে গমন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে।

২০১৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিদেশে নারী কর্মী গেছে এক লাখ ৭১২ জন। এরমধ্যে সৌদি আরবে গেছেন ১৯ হাজার ৩৭৬ জন। তবে সবচেয়ে বেশি নারী কর্মী গেছেন জর্দান, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে। জানুয়ারি থেকে নবেম্বর পর্যন্ত আরব আমিরাতে গেছেন ২২ হাজার ৮৬৫ জন। এ সময়ে জর্দানে ১৯ হাজার ৯৩৩ জন ও ওমানে গেছেন ১৫ হাজার ৫১৩ জন। এছাড়া কাতার, বাহরাইন, লেবানন, হংকংসহ বাকি কর্মী গেছেন বিভিন্ন দেশে।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্যমতে, বর্তমানে প্রায় ৯৬ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশী রয়েছেন। ১৯৭৬ সাল থেকে বিপুল পরিমাণ বাংলাদেশী প্রবাস জীবনযাপন করছেন। পুুরুষ কর্মীর পাশাপাশি ১৯৯১ সাল থেকে নারী কর্মীও বিদেশে যাচ্ছেন। বিদায়ী বছরের নবেম্বর পর্যন্ত চার লাখ ৪৪ হাজার ১২৭ জন নারী বিভিন্ন দেশে গেছেন, যাদের অধিকাংশই গৃহকর্মী।

এখন থেকে ১৬ বছর আগে অর্থাৎ ২০০০ সালে যেখানে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে কাজের জন্য গেছেন মাত্র ৪৫৪ জন, সেখানে ২০১৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ সংখ্যা বেড়ে এক লাখের উপরে ঠেকেছে। গত বছর (২০১৪) বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৬ হাজার নারী কর্মী বিদেশে গেছেন। আগের বছর ২০১৩ সালে ৫৬ হাজার এবং এর আগের বছর অর্থাৎ ২০১২ সালে প্রায় ৩৭ হাজার নারী কর্মী বিদেশে পাঠানো হয়। ১৯৯১ সাল থেকে ২০১৫ সালের নবেম্বর পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি নারী কর্মী গেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাত, লেবানন, জর্দান, সৌদি আরব ও ওমানে। এ দেশগুলাতে এই ক’বছরে পর্যায়ক্রমে নারী কর্মী গেছেন যথাক্রমে এক লাখ ১৬ হাজার ১৩৬ জন, ৯৯ হাজার ৭২২ জন, ৮৫ হাজার ৪১৬ জন, ৪৭ হাজার ২১০ জন ও ৪১ হাজার ৪১ জন। এছাড়া কুয়েত, কাতার, বাহরাইনসহ বিভিন্ন দেশে কর্মী গেছেন।

রিফিউজি এ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) চেয়ারপার্সন অধ্যাপক তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, ‘বিদেশে নারী কর্মী যাওয়ার হার দিন দিন বাড়ছে, সেই সঙ্গে প্রবাসে নারী শ্রমিকদের সমস্যাও বাড়ছে। অনেক দেশেই নারী কর্মীরা নির্যাতনের শিকার হয়ে সহযোগিতা চাইলেও পাচ্ছেন না। নারী কর্মীদের তাৎক্ষণিক সহযোগিতার জন্য সরকারের উচিত দ্রুত হটলাইন এবং শেল্টার হোম খোলার উদ্যোগ নেয়া।’

এ বিষয়ে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক (ডিজি) বেগম শামসুন নাহার “নির্যাতনের সব অভিযোগ সত্য নয়’ জানিয়ে বলেন, ‘যেসব কর্মী বিদেশে যাচ্ছেন, গিয়েই ‘হোম সিক’ হয়ে পড়েন অনেকে। তারা দেশে ফেরার জন্য আবেদন করেন।”

তিনি বলেন, ‘দু-একটি নির্যাতনের ঘটনা যে ঘটে না তা নয়। এটা আমাদের দেশেও হয়, সব জায়গায়ই (বিদেশে) হয়। এটা আমরা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সৌদি আরবে কয়েক মাস আগে যখন চুক্তি হলো সেখানেই কর্মীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়গুলো রাখার চেষ্টা করেছি। সৌদি আরবে নারী কর্মীদের পাঠানো উপলক্ষেই কিন্তু বিদেশে গমনেচ্ছুক নারীদের এক মাসের আবাসিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। এ কারণে প্রথমদিকে নারী কর্মী পাঠাতে তেমন সাড়া পাওয়া না গেলেও এখন পাওয়া যাচ্ছে।’

বিএমইটি সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে মোট পাঁচ লাখ ৪০ হাজারের বেশি কর্মী বিদেশে গেছেন। এরমধ্যে নারী কর্মী বিদেশে যাওয়ার হার ১৯ শতাংশের (এক-পঞ্চমাংশ) উপরে।