২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মেয়রদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন চান টাঙ্গাইলবাসী

ফিরোজ মান্না/ইফতেখারুল অনুপম, টাঙ্গাইল থেকে ॥ ভোটের আগে কত উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি। ভোটের পরে সেই সব প্রতিশ্রুতির পাহাড় বাস্তবায়ন করতে পারবেন কী মেয়র ও কাউন্সিলররা। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অতীত ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেয় জনকল্যাণে কাজের পরিমাণ খুবই কম। নিজের কল্যাণেই বেশি ব্যস্ত থাকেন। এবারও তাই করবেন এ প্রতিনিধিরা এমন প্রশ্ন মানুষের মুখে মুখে ফিরছে। টাঙ্গাইলে আটটি পৌরসভায় আওয়ামী লীগ সাতটিতে বিজয় অর্জন করেছে।

টাঙ্গাইল পৌরসভার নবনির্বচিত মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা জামিলুর রহমান মিরন বলেন, তার প্রথম কাজ হবে প্রতিটি এলাকায় মুরুব্বিদের নিয়ে কমিটি করা। এ কমিটিগুলো কোথায় কী উন্নয়ন করতে হবে ঠিক করবেন। সেই অনুযায়ী কাজ করা হবে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবেন। একইভাবে টাঙ্গাইলের ৮টি পৌরসভার নির্বাচিত মেয়র কাউন্সিলরাও একই রকম কথা দিয়েছেন।

টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ রৌফ বলেন, টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগ থেকে যারা মেয়ের হয়েছেন তারা যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা রক্ষা করতে পারবেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নে বিশ্বাস করেন। তাছাড়া দলীয় চাপও থাকবে মেয়রদের ওপর। কারণ এবারই প্রথম দলীয় পরিচয়ে পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখানে দলের সুনামের বিষয়টি জড়িত।

পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইলের আটটি পৌরসভায় সাধারণ ভোটারদের সামনে নানামুখী উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। নিজেকে যোগ্য ও উন্নয়নমনা প্রমাণ করতেই প্রার্থীরা এসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যদিও জেলার পৌর এলাকার রাস্তা ঘাট থেকে শুরু করে উন্নয়নমূলক তেমন কাজ চোখে পড়ার মতো নেই। তবুও প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতির প্রতি সাধারণ ভোটারদের দুর্বলতা ছিল।

টাঙ্গাইল জেলা যুব লীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ মানিক বলেন, দলীয় মেয়ররা উন্নয়ন কাজ না করলে ভবিষ্যতে তার দলেও ভাল অবস্থানে থাকবে না। কারণ দলীয় পরিচয় অনেক বড় হয়ে উঠে এসেছে। দলের ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য তাদের কাজ করতেই হবে। উন্নয়ন কাজের কোন বিকল্প নেই। জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও মেয়রদের কাজের ওপর নজর থাকবে বলে নির্বাচনের আগেই আলোচনা হয়েছে।

ভোট গ্রহণের আগে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থীরা সাধারণ ভোটারদের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, নির্বাচিত হলে ও ক্ষমতা গ্রহণের প্রথমেই পৌরবাসীর অবহেলিত জীবনমান উন্নয়নে কাজ করবেন। বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে কাজ করে যাবেন। পৌরবাসীর নাগরিক সুবিধার পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নির্মূলসহ সামাজিক অবক্ষয়রোধে সর্বোচ্চ পদক্ষেণ গ্রহণ করবেন। পৌরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি পাড়া-মহল্লায় কমিউনিটি পুলিশের দায়িত্ব বৃদ্ধির প্রতি সুদৃষ্টি দেবেন। এছাড়া সন্ত্রাস, ভূমিদস্যু রোধ করা হবে। সেই সঙ্গে পৌর এলাকায় লাইটিং, পাকা রাস্তা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে বলেও জানিয়েছেন তারা। এখন যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের এখন কাজ করার পালা।