১৫ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীর পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের অভাবনীয় সাফল্য

পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীর পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের অভাবনীয় সাফল্য
  • পাসের হার ৯৮.৫২ ও ৯২.৩৩

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রীতিমতো অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীতে অনুষ্ঠিত দেশের সর্ববৃহৎ দুই পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নেয়া ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা। প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনীর মতো জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষায়ও শিক্ষার্থীরা ছাড়িয়ে গেছে আগের সাফল্যকে। পঞ্চম শ্রেণীর সমাপনীতে এবার পাস করেছে ৯৮ দশমিক ৫২ শতাংশ ছাত্রছাত্রী। জিপিএ-৫ পেয়েছে দুই লাখ ৭৫ হাজার ৯৮০ জন। অষ্টম শ্রেণীর সমাপনীতে পাসের হার প্রায় দুই শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৯২ দশমিক ৩৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক লাখ ৫৬ হাজার ২৩৫ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৯৬ হাজার ৩৬৩ জনে।

বৃহস্পতিবার একই দিনে সারাদেশে প্রকাশিত হয় এ দুই পরীক্ষার ফল। সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ফলাফলের কপি তুলে দেয়ার পর প্রথমে দুপুর সাড়ে ১২টায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান, দুপুর দেড়টায় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সংবাদ সম্মেলন করে স্ব স্ব মন্ত্রণালয়ের ফল প্রকাশ করেন। সপ্তমবারের মতো দেশের সাত বিভাগে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের অধীনে অনুষ্ঠিত হয় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা।

বিভাগ, জেলা ও উপজেলার ভিত্তিতে ফল ॥ প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে পাসের হার ঢাকা বিভাগে ৯৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ, রাজশাহীতে সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশ, খুলনায় ৯৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৯৮ দশমিক ৪১ শতাংশ, বরিশালে ৯৮ দশমিক ৩০ শতাংশ, সিলেটে ৯৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ ও রংপুরে ৯৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ। ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনীতে পাসের হার ঢাকায় ৯৪ দশমিক ২১ শতাংশ, রাজশাহীতে ৯৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ, খুলনায় ৯৬ দশমিক ২২ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৯৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ, বরিশালে ৯৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ, সিলেটে ৯০ দশমিক শূন্য এক শতাংশ ও রংপুরে ৯৭ দশমিক ২১ শতাংশ।

৬৪ জেলার মধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলার অবস্থান প্রথম।

জেএসসি ও জেডিসির সাফল্য অভাবনীয় ॥ দেড়টায় সংবাদ সম্মেলন করে অষ্টম শ্রেণীর সমাপনীর ফল প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষায় এবার পাস করেছে ৯২ দশমিক ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী। জেএসসি-জেডিসি মিলিয়ে এবার এক লাখ ৯৬ হাজার ২৬৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর মধ্যে আটটি সাধারণ বোর্ডের অধীনে জেএসসিতে ৯২ দশমিক ৩১ শতাংশ এবং মাদ্রাসার জেডিসিতে ৯২ দশমিক ৪৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসেন, অতিরিক্ত সচিব অরুণা বিশ্বাস, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন প্রমুখ। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, এ বছরের ফলের মান বৃদ্ধির সূচকে বেশকিছু ইতিবাচক লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে। জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় গড় পাসের হার এবং জিপিএ-৫ উভয় সূচকেই এবার ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছে। এই দুই পরীক্ষায় এবার গড় পাসের হার ৯২ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এর মধ্যে ছাত্রদের গড় পাসের হার ৯২ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং ছাত্রীদের গড় পাসের হার ৯২ দশমিক ৪২ শতাংশ। আর ছাত্রদের তুলনায় ২৬ হাজার ৩৮৪ জন ছাত্রী বেশি জিপিএ-৫ পেয়েছে।

এবার জেএসসিতে পাসের হার ৯২ দশমিক ৩১ শতাংশ ও জেডিসিতে ৯২ দশমিক ৪৬ শতাংশ। গত বছর জেএসসিতে পাসের হার ছিল ৮৯ দশমিক ৮৫ ও জেডিসিতে ছিল ৯৩ দশমিক ৫০ শতাংশ। আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত জেএসসি ও মাদ্রাসা বোর্ডের জেডিসি পরীক্ষায় এবার অংশ নিয়েছিল ২২ লাখ ৭২ হাজার ২৮৯ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ২০ লাখ ৯৮ হাজার ৮২ জন। এবার দুই পরীক্ষায় মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ৯৬ হাজার ২৬৩ পরীক্ষার্থী। গত বছর এ সংখ্যা ছিল এক লাখ ৫৬ হাজার ২৩৫ জন। এবার জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ৪০ হাজার ২৮।

জেএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ৮৭ হাজার ৫০২ জন, যা গত বছরের তুলনায় (গত বছর ছিল এক লাখ ৩৬ হাজার ৯৪৫ জন) ৫০ হাজার ৫৫৭ জন বেশি। সাধারণ শিক্ষায় বাড়লেও জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা কমেছে জেডিসিতে। জেডিসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে আট হাজার ৭৬১ জন, যা গত বছরের (২০১৪ সালে ছিল ১৯ হাজার ২৯০ জন) তুলনায় ১০ হাজার ৫২৯ জন কম। জেএসসি ও জেডিসিতে এবার বোর্ডভিত্তিক সেরা ২০ প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। এ ব্যবস্থাটি চলতি বছর থেকেই বাতিল করা হয়েছে। এবার ৪৩টি প্রতিষ্ঠানের কোন ছাত্রছাত্রী জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়নি। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৪৯টি। অন্যদিকে আট হাজার ৫৮৩টি প্রতিষ্ঠান থেকে শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। ২০১৪ সালে শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠান ছিল আট হাজার ৮৮৯টি। এবার ২৮ হাজার ৫৪৭টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী দুই হাজার ৬২৭টি কেন্দ্রে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।

বোর্ডভিত্তিক ফল ॥ ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ছয় লাখ ৩৮ হাজার ৬৮১ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পাস করেছে পাঁচ লাখ ৭৭ হাজার ২৯৮ জন। গড় পাসের ৯০ দশমিক ৩৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৪ হাজার ১০ জন।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড থেকে অংশ নিয়েছিল দুই লাখ ২৩ হাজার ৭৫৪ জন ছাত্রছাত্রী। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে দুই লাখ ১৮ হাজার ৮৪ জন পরীক্ষার্থী।