১৭ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নির্বাচনমুখী বিএনপিকে অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রীর

নির্বাচনমুখী বিএনপিকে অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রীর
  • গণভবনে পিইসি-জেএসসি পরীক্ষার ফল গ্রহণ ও পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ জ্বালাও-পোড়াওসহ ধ্বংসাত্মক রাজনীতি ও নির্বাচন বয়কটের সংস্কৃতি পরিহার করে দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নেয়ায় বিএনপিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, অন্তত তারা (বিএনপি) এবার আগের মতো অগ্নিসংযোগ ও তা-ব সৃষ্টির পথে যায়নি। তারা নির্বাচনের পথে এসেছে, তারা নির্বাচনমুখী হয়েছে। এজন্য আমি তাদের অভিনন্দন জানাই।

বৃহস্পতিবার চলতি বছরের প্রাইমারী এডুকেশন সার্টিফিকেট (পিইসি), জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) এবং সমমানের পরীক্ষার ফল আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশের ইংরেজী মাধ্যমের স্কুলের বইয়েও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করার বিশেষ অনুরোধও করেন।

সকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারী বাসভবন গণভবনে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার প্রধানমন্ত্রীর কাছে ওই ফল হস্তান্তর করেন। একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৮ জন শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই তুলে দিয়ে এবারের পাঠ্যপুস্তক উৎসবের উদ্বোধন করেন তিনি। অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি এ সময়ে সচেতন হয়েছে এবং তারা বিভিন্ন ধরনের ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত বিনষ্ট করার চেষ্টা করেনি।

বিদায়ী বছরের শুরুতে বিএনপি-জামায়াত চক্রের নৃশংসতার চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সময়ে বিএনপি-জামায়াতের ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমে দেশের জনগণ চলতি বছরের প্রথম তিন মাস ভয়াবহ ও বেদনাদায়ক জীবন কাটিয়েছে। বিএনপি-জামায়াত এ সময় মানুষ পুড়িয়ে হত্যা ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে। এ সময় শিশুরা স্কুলে যেতে পারেনি এবং ঘনঘন সময়সূচী (পরীক্ষার) পরিবর্তনের জন্য পরীক্ষা দিতে পারেনি। তিনি এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত দুঃখজনক হিসেবে বর্ণনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী ইংরেজী মাধ্যমের পড়াশোনায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করে বলেন, বাংলা মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আছে, ইংরেজী মাধ্যমে সেভাবে তুলে ধরা হচ্ছে না। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, আমাদের বিজয় আমাদের জন্য গর্বের। কারণ বাঙালী যুদ্ধ করে স্বাধীন হয়েছে। এই বিজয়ের ইতিহাস পড়লে শিশুরা আত্মবিশ্বাসী হয়ে গড়ে উঠবে। এই যে আমরা বিজয়ী জাতি- এই আত্মমর্যাদাবোধটা শিশুকাল থেকে থাকতে হবে। তাহলে তাদের আত্মবিশ্বাস গড়ে উঠবে। তারা দেশকে ভালবাসবে, দেশের জন্য কাজ করতে পারবে। কেননা আজকের শিশুরাই আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হবে। তাই তাদের আত্মবিশ্বাসী হওয়াও প্রয়োজন।