২০ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ব্লগার রাজীব হত্যায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন ১

ব্লগার রাজীব হত্যায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন ১
  • অপর পাঁচজনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও অর্থদণ্ড;###;রায় প্রত্যাখ্যান রাজীবের পিতার ;###;নির্দেশদাতার শাস্তি কীভাবে পাঁচ বছর হয়- গণজাগরণ মঞ্চ

সৈয়দা ফরিদা ইয়াসমীন জেসি ॥ দেশে প্রথমবারের মতো ব্লগার হত্যার রায় ঘোষিত হলো। যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে শাহবাগে গড়ে ওঠা গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক প্রকৌশলী আহমেদ রাজীব হায়দার শোভন হত্যার রায় ঘোষণার মধ্যদিয়েই শুরু হলো সেই যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত। রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদ- এবং ছয় আসামির বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে। অন্যান্য ব্লগার, প্রকাশকসহ মুক্তচিন্তার মানুষ হত্যার বিচারও দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করা হবে বলে আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন।

মৃত্যুদ-প্রাপ্ত দু’জন হচ্ছে, ফয়সাল বিন নাইম ও বেদোয়ানুল আজাদ। মাকসুদুল হাসান অনিক নামের একজনকে যাবজ্জীবন কারাদ-, এহসান রেজা রুম্মান, নাইম শিকদার ও নাফিজ ইমতিয়াজকে ১০ বছর করে, সাদমান ইয়ানির মাহমুদের ৩ বছর এবং আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের আধ্যাত্মিক নেতা ও প্রধান মুফতি জসীমুদ্দীন রাহমানীকে ৫ বছর কারাদ- দিয়েছে আদালত।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক সাঈদ আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণাকালে বিচারক বলেন, অন্যকে উস্কানি দিয়ে লেখা যেমন অনুচিত, তেমনি তুচ্ছ কারণে মানুষ খুন করা যায় না। রাজীব হত্যাকা-ের দুই বছর সাড়ে নয় মাসের মাথায় এই রায় হলো।

রায়ে বলা হয়, নিহত রাজীব হায়দায়কে ব্লগার হিসেবে উল্লেখ করা হলেও তিনি কী ধরনের লেখালেখি করতেন, মামলার তদন্তে তা উঠে আসেনি। কোন উদ্দেশে আসামিরা রাজীব হায়দায়কে হত্যা করেছে, তদন্তে তা-ও উঠে আসেনি। এই মামলায় গ্রেফতার হওয়া আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে বলেন, ব্লগে লেখালেখির কারণে ব্লগার রাজীবকে তারা হত্যার পরিকল্পনা করে। হত্যাকা- কীভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে তাও তারা জানান। তবে রাজীব হায়দার যে লেখালেখি করতেন, এ ধরনের কোন লেখা তদন্ত কর্মকর্তা মামলায় জব্দ করেননি। এ ধরনের ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকার পরও রাষ্ট্রপক্ষ ৩৫ জন সাক্ষী আদালতে উপস্থাপন করে।

রায়ে বলা হয়, সাক্ষীদের জবানবন্দী পর্যালোচনা করে আসামিদের বিরুদ্ধে রাজীব হত্যাকা-ের ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয় প্রমাণে সক্ষম হয়েছে। সাক্ষ্য পর্যালোচনায় ফয়সাল বিন নাইম ও পলাতক আসামি রেদোয়ানুল আজাদকে হত্যা ও হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগে দ-বিধির ৩০২ ধারায় মৃত্যুদ- দেয়া হয়।

রায়ে আরও বলা হয়, আসামি জসীম উদ্দিন রাহমানী সম্পর্কে পত্রপত্রিকার মাধ্যমে জানা গেছে, তিনি নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান। কিন্তু মামলার কোথাও বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। হত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে তাকে পাঁচ বছরের কারাদ- দেয়া হয় বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

রায় ঘোষণার সময় বিচারক সাঈদ আহমেদ বলেন, ‘মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নিহত ব্লগার রাজীব হায়দার একজন প্রকৌশলী ছিলেন। আবার মামলার অধিকাংশ আসামি দাবি করেছেন তারা প্রকৌশলী। প্রকৌশলীদের হাতেই প্রকৌশলী খুন হয়েছেন।’

বিচারক আরও বলেন, এ মামলার নথিপত্র পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, এই মামলার মূল হোতা বা পরিকল্পনাকারী রেদোয়ানুল আজাদ রানা। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, আসামিরা দুই ভাগে ভাগ হয়ে এই নৃশংস হত্যাকা-টি ঘটিয়েছেন। একটি দল ব্লগার রাজীব কোথায় যেতেন, কী করতেন এ-সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করেছে। অপর একটি দল সরাসরি রাজীবকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। এদের মধ্যে ফয়সাল বিন নাইম চাপাতি দিয়ে রাজীবের ঘাড়ে কোপ দেন। তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন আরেক আসামি মাকসুদুল হাসান।

দ-িতদের মধ্যে রাজীব হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ফাঁসির দ- প্রাপ্ত রেদোয়ানুল আজাদ রানা পলাতক রয়েছেন। আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মুফতি মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন রাহমানী ছাড়া সবাই নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ছাত্র।

তুচ্ছ কারণে হত্যা নয়-বিচারক ॥ রায় ঘোষণাকালে ব্লগারদের উদ্দেশেও বিচারক নির্দেশনা দেন। সেই সঙ্গে তুচ্ছ কারণে মানুষ খুন করার প্রবণতায় তিনি উদ্বেগ ব্যক্ত করেন। বিচারক বলেন, ‘শুনেছি, ব্লাগারদের অনেকেই এমন লেখা প্রকাশ করেন, যা কেউ পড়লে তাদের খুন করতে উৎসাহিত হয়। এ ধরনের লেখা থেকে অবশ্যই ব্লগারদের বিরত থাকতে হবে। আবার সামান্য কারণে মানুষ খুন করার মতো ঘটনাও আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। এখনকার কিছু কিছু যুবক বিপথগামী হচ্ছে, এটিও ভাবনার বিষয়।’

রাজীবের পিতার প্রতিক্রিয়া ॥ রায় ঘোষণার পর রাজীবের বাবা ডাঃ মোঃ নাজিমুদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি অত্যন্ত দুঃখিত এবং মর্মাহত। আমি বিরাট একটা আঘাত পেয়েছি। আমি সঠিক বিচার পানি। আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে, তারা আত্মস্বীকৃত খুনী। আমার সামনে স্বীকার করেছে। ডিবির সামনে স্বীকার করেছে। মিডিয়ার সামনে স্বীকার করেছে। ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে স্বীকার করেছে। এরা সবাই হত্যাকা-ে জড়িত ছিল। সবাই কুপিয়েছে। একজনের মৃত্যুদ- দিয়া বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- দিল এটা কোন ধারাতে পড়ে? এক ধারায় বিচার দাবি করছি, অন্য ধারায় রায় দিয়েছেন এটা আমি মানতে পারি নাই। আমি এই রায় প্রত্যাখ্যান করলাম। আমি উচ্চ আদালতে যাব। আমি আপীল করব।

নিহতের বাবা আরও বলেন, তদন্ত সঠিক হয়েছে। সাক্ষীরা সঠিক সাক্ষ্য দিয়েছেন। ম্যাজিস্ট্রেটগণ সঠিক সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ মামলার প্রত্যেকটা জিনিস সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে বিচারটা প্রভাবিত বা খ-িত বিচার। তিনি অত্যন্ত জোরের সঙ্গে বলেন, বিচারের রায়টা প্রভাবিত হয়েছে।

মামলাটিতে ৫৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩৪ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে। সাক্ষ্যদাতাদের মধ্যে রাজীবের ছোটভাই স্থপতি নেওয়াজ মর্তুজা হায়দারও রয়েছে। গত ২৪ ডিসেম্বর এ মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু হয়। এরপর ২৭ ডিসেম্বর তা অব্যাহত থাকে এবং ২৮ ডিসেম্বর ওই যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। আত্মপক্ষ শুনানিতে পলাতক আজাদ রানা বাদে সব আসামিই হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। অথচ এদের মধ্যে পাঁচজন হত্যাকা-ে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে এর আগে জবানবন্দী দিয়েছিলেন। দোষ স্বীকারকারীরা হলেন ফয়সাল বিন নাইম ওরফে দীপ, এহসানুর রেজা রুম্মান, মাকসুদুল হাসান অনিক, নাঈম সিকদার ওরফে ইরাদ ও নাফিজ ইমতিয়াজ।

আইনমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া ॥ রাজীব হত্যার রায় দ্রুত হওয়া দেশে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ দফতরে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এমন মন্তব্য করেন। মন্ত্রী বলেন, ব্লগার হত্যার ঘটনায় এখনও যেসব মামলা বিচারাধীন সেগুলোরও দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে।

গণজাগরণ মঞ্চের প্রতিক্রিয়া ॥ রায় প্রত্যাখ্যান করে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডাঃ ইমরান এইচ সরকার এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, রাজীবের আত্মস্বীকৃত খুনীদের সাজা হয়নি। তা ছাড়া ঘটনাগুলোর নির্দেশদাতার শাস্তি কীভাবে ৫ বছর হয়, তা আমাদের কাছে বোধগম্য নয়। সারাবিশ্বে আমরা দেখি, অপরাধে যারা উসকানি দেয়, সেই মাস্টারমাইন্ডদের সর্বোচ্চ শাস্তি হয়। আর এখানে তাকে ৫ বছরের কারাদ- দেয়া হলো। আমি মনে করি, এ রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে শাহবাগে বিক্ষোভ সমাবেশ করে গণজাগরণ মঞ্চ। সন্ধ্যায় বের করা হয় মশাল মিছিল। এরপর নিহত রাজীবের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে আলোক প্রজ্বলন করা হয়।

ব্লগার হত্যার সূত্রপাত হয় যেভাবে ॥ ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি। যুদ্ধাপরাধ মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদ- দেয়। কাদের মোল্লাসহ সকল যুদ্ধাপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ঢাকার শাহবাগে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিকভাবে গড়ে ওঠে গণজাগরণ মঞ্চ। সেই মঞ্চের অন্যতম কর্মী ছিলেন রাজীব। গণজাগরণ মঞ্চসহ সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে যুদ্ধাপরাধীদের দল হিসেবে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি ওঠে। যা আজও চলমান। এমন গণজোয়ারের মুখে সারাদেশে চরম নাশকতা শুরু হয়। নাশকতার সূত্রধরেই ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পুলিশ ও জনতার সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের সংঘর্ষে কক্সবাজারে ৩ জন নিহত হন। এমন ঘটনার পর থেকে সারাদেশে চোরাগোপ্তা হামলা ও তা-ব শুরু হয়।

যেভাবে হত্যা করা হয় রাজীবকে ॥ সারাদেশে জামায়াত-শিবিরের তা-বের সূত্রধরেই ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানী ঢাকার পল্লবী থানাধীন পলাশনগরে ৫৬/৩ নম্বর এক তলা টিনশেড সেমি পাকা বাড়ির সামনে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে ও গলাকেটে হত্যা করা হয় রাজীবকে। ঘটনার সময় বিপিএল (বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ) এর টি টুয়েন্টি ক্রিকেট ম্যাচের ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স ও সিলেট রয়্যালর্সের মধ্যে তুমুল খেলা চলছিল। নগরবাসী যখন ক্রিকেট নিয়ে মহাব্যস্ত ঠিক সে সময়টিকেই বেছে নেয় হত্যাকারীরা।

মামলা দায়ের ও তদন্ত ॥ ঘটনার পরদিন পল্লবী থানায় রাজীবের পিতা ডাঃ নাজিম উদ্দিন একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলাটি তদন্ত শুরু করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তদন্তের ধারাবাহিকতায় রাজীবের জানাজা আদায়কারী ঈমামকে হত্যার হুমকি দেয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ও শিবিরের সাবেক সক্রিয় সদস্য শফিউর রহমান ফারাবী গ্রেফতার হয়। ২০১৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে গ্রেফতার হয় ফারাবী।

তার তথ্যমতেই ওই বছরের ১ মার্চ রাজধানীর বনানীস্থ বেসরকারী নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল এ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন বিভাগের ৫ ছাত্র ফয়সাল বিন নাঈম ওরফে দ্বীপ (২২), ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার পোড়াপাড়া গ্রামের এহসান রেজা ওরফে রম্মন (২৩), ঢাকার কেরানীগঞ্জ থানার ধলেশ্বর গ্রামের মাকসুদুল হাসান ওরফে অনিক (২৩), ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কলেজপাড়ার নাঈম শিকদার ওরফে ইরাদ (১৯) ও চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলার হারামিয়া গ্রামের বাসিন্দা নাফিজ ইমতিয়াজকে (২২) ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

এ ৫ জন ঢাকার সিএমএম আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয়। মামলার আরেক আসামি সাদমান ইয়াছির মাহমুদ (২০) ঢাকার কলাবাগান থানাধীন ভুতের গলি থেকে গ্রেফতার হয়। অপর আসামি নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য মুফতি জসীমউদ্দিন রাহমানী। আসামিদের মধ্যে ফেনী জেলার দাগনভূঁইয়া উপজেলার জয়লস্করের রেদোয়ানুল আজাদ রানা (৩০) পলাতক।

মামলার চার্জশীট দাখিল ॥ ২০১৪ সালের ২৮ জানুয়ারি আটজনের বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিল করেন ডিবির পরিদর্শক নিবারণ চন্দ্র বর্মণ। চার্জশীটে বলা হয়, জসীমউদ্দিন রাহমানীর বই পড়ে এবং সরাসরি তার বয়ান ও খুতবায় অংশ নিয়ে ‘কথিত নাস্তিক ব্লগারদের হত্যা করতে উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত হয় আসামিরা। রাহমানী ব্লগার রাজিব হত্যার উৎসাহদাতা।