২৪ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বর্ষশেষের রাতেও শীতে কাঁপতে হয়নি দেশবাসীকে

  • ডিসেম্বরজুড়েই শীতের কনকনে ভাব ছিল না;###;এবারে উষ্ণতম এল নিনোর প্রভাবই এর কারণ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বর্ষশেষের রাতেও ‘স্থিতাবস্থা’ বজায় রেখেছে শীত! কনকনে শীতে কাঁপতে হয়নি দেশবাসীকে। মাঝারি ধরনের শীত পড়লেও স্বাভাবিকের কাছেই ঘোরাফেরা করেছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এ বছর শীত মৌসুমের গোড়াতেই বারবার হোঁচট খেয়েছে উত্তুরী হাওয়া। ভরা ডিসেম্বরেও শীত-শীত ভাবটা উধাও হওয়ার অবস্থা হয়েছিল। গত এক সপ্তাহ ধরে শীতের মাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও গত বছরের মতো মানুষের হাড় কাঁপাতে পারেনি। এখন পর্যন্ত পুরো বৈশিষ্ট ফুটিয়ে তুলতে পারেনি শীতকাল! আবহাওয়ার ইতিহাসে পৃথিবী সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনোর কবলে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। ২০১৬ সালে পৃথিবীতে বন্যা এবং খরার প্রবণতা বাড়বে। ২০১৫ সাল হল বিশ্বের ইতিহাসে উষ্ণতম বছর।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, শীত এবার অনেক খামখেয়ালি আচরণ করছে। তার জন্য দায়ী করা হচ্ছে প্রশান্ত মহাসাগরের জলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা এল নিনো পরিস্থিতিকে। কারণ, প্রশান্ত মহাসাগরের জলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি বঙ্গোপসাগরের আবহাওয়ায় প্রভাব ফেলেছে। ফলে বদলে গেছে ফিরতি পথের মৌসুমী বায়ুর চরিত্র। শীতেও সাগরে নিম্নচাপ তৈরি হচ্ছে এবং তা উত্তুরী হাওয়ার সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ছে। আবহাওয়াবিদরা আরও বলছেন, ভূমধ্যসাগরীয় এলাকা থেকে আসা উত্তুরী হাওয়ার ওপর ভারত ও বাংলাদেশে শীতের মাত্রা হ্রাস ও বৃদ্ধির বিষয়টি নির্ভর করে। এ বছর ভূমধ্যসাগরীয় এলাকা থেকে ঠা-া হাওয়া বা পশ্চিমী ঝঞ্ঝা কাশ্মীরে আছড়ে পড়ে। তার জেরে সেখানে বৃষ্টি ও তুষারপাত হয়। সেখান থেকে ঠা-া হাওয়া বয়ে আসে পশ্চিবঙ্গের পাশাপাশি পূর্ব ভারতের দিকেও। এই পর্যায়ে যদি সাগরে কোন নিম্নচাপ তৈরি হয়, তা হলে তা উত্তুরী হাওয়ার পথে বাধা তৈরি করে। শুধু তা-ই নয়, সাগর থেকে জলীয় বাষ্প ঢোকার ফলে আকাশে মেঘ তৈরি হয়, দিনের তাপমাত্রা কমলেও রাতের তাপমাত্রা নামতে পারে না। অথচ, রাতে কনকনে শীত পড়তে গেলে মেঘমুক্ত আকাশ থাকতে হবে। আর চড়া রোদে দিনের বেলা মাটি গরম হওয়াও জরুরী। কিন্তু বাস্তবে তা দেখা যায়নি।

উষ্ণ এল নিনোর কবলে পৃথিবী- আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ॥ আবহাওয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনোর কবলে পৃথিবী। এত উষ্ণ এল নিনো আগে দেখেনি এই গ্রহ। প্রশান্ত মহাসাগরের এই খামখেয়ালিপনা এত দীর্ঘস্থায়ী ক’বার হয়েছে, তাও হাতেগোনা যায়। ফলে ২০১৬ সালে ব্যাপক খরা এবং খাদ্যসঙ্কটের মুখোমুখি হতে চলেছে বিশ্ব। শুধু আফ্রিকা মহাদেশেই ৩ কোটি ১০ লাখ মানুষ অনাহারের মুখে পড়বেন। সতর্কবার্তা দেয়া শুরু করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। ওই সব সংস্থার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এল নিনো আবহাওয়ার একটি বিশেষ পর্যায়। ২ বছর থেকে ৭ বছরের মধ্যে ফিরে ফিরে আসে এল নিনো।