১৮ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সারাদেশে বই উৎসব শুরু আজ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দেশব্যাপী

পাঠ্যপুস্তক উৎসব শুরু আজ। বছরের প্রথম দিন শুক্রবার হলেও সারাদেশে স্কুল খোলা রেখে শুরু করা হবে সপ্তাহব্যাপী পাঠ্যপুস্তক উৎসব। সকাল ১০টায় মিরপুর সরকারী ন্যাশনাল বাঙলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান এবং গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরী স্কুলে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠ্যপুস্তক উৎসবের উদ্বোধন করবেন।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, প্রায় সাড়ে ৩৩ কোটি নতুন পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতের নাগালে পৌঁছে গেছে। এই উৎসবের মধ্য দিয়ে সাড়ে চার কোটি শিক্ষার্থীর হাতে বই বিতরণ করা হবে। জানা গেছে, গেল বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও ভালভাবে বই বিতরণ নিশ্চিত করতে ছাপা হয়েছে চাহিদার তুলনায় অন্তত ৫ শতাংশ বেশি বই। কোথাও সঙ্কট দেখা দিলে অতিরিক্ত এ বই সেখানে সরবরাহ করা হবে। সাড়ে চার কোটি শিক্ষার্থীর হাতে এসব বই বিতরণের সকল আয়োজন শেষ হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেছেন, শুক্রবার উৎসবের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খেলা থাকবে, সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বই বিতরণ করা হবে। এবার প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের হাতে ৩৩ কোটি ৩৭ লাখ ৬২ হাজার ৭৬০টি বই এবং বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করবে সরকার। ২০১০ সাল থেকে সরকার শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ করছে। শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে পাঠ্যপুস্তক উৎসবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষাবিদদের অংশ নেয়ার অনেুরোধ জানান মন্ত্রী। দেশের স্বার্থে সরকারের এই পরিকল্পনা সফল করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র পাল। সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছে, ২০১৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য বই নিয়ে দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই। বছরের প্রথমদিনই দেশের সব ছাত্রছাত্রী নতুন চকচকে বই পাবে বিনামূল্যে। এবারও উৎসবমুখর পরিবেশে বই বিতরণ করা হবে। এ উৎসব চলবে নতুন বছরের শুরু থেকে সপ্তাহব্যাপী। তিনি জানান, নতুন শিক্ষাবর্ষে মাধ্যমিকের জন্য প্রায় ২১ কোটি ৯২ লাখ, প্রাথমিকের জন্য ১০ কোটি ও প্রাক-প্রাথমিকের জন্য প্রায় ৬৬ লাখসহ মোট ৩৫ কোটি বই ছাপা হয়েছে। জানা গেছে, বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার ১৯৮৩ সাল থেকে ছাত্রছাত্রীদের মাঝে কিছুৃ বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ শুরু করে। ২০০৯ সাল পর্যন্ত নির্ধারিত কয়েকটি ক্যাটাগরির কেবল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের অর্ধেক নতুন ও অর্ধেক পুরনো পাঠ্যবই বিনামূল্যে দেয়া হতো। এসব বইও সময়মতো শিক্ষার্থীরা পেত না। বই পেতে পেতে মার্চ/এপ্রিল পার হয়ে যেত। এতে ক্লাস শুরু হতেও অনেক দেরি হতো। প্রতিবারই অসাধু প্রেস মালিকদের সিন্ডিকেটের কবলে পড়ত পাঠ্যবই ছাপার কাজ। সময়মতো বই না পাওয়ায় এবং উচ্চ দরে বাজার থেকে বই কিনতে না পেরে প্রতিবছর ব্যাপক সংখ্যক ছাত্রছাত্রী প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তর থেকে ঝরে পড়ত।

পরবর্তীতে ঝরে পড়া রোধ, শতভাগ শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে আনা, দরিদ্র-নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার আওতায় আনতে গেল মহাজোট সরকার ২০০৯ সালে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের সব পাঠ্যবই বিনামূল্যে দেয়ার উদ্যোগ নেয়। পাশাপাশি সকল শিক্ষার্থীর জন্য পাঠ্যবই নিশ্চিত করতে বছরের শুরুতে ১ জানুয়ারি ‘পাঠ্যপুস্তক উৎসব’ পালনের উদ্যোগ নেয়। এতে সুফলও এসেছে। কমেছে ঝরে পড়ার হার। বেড়েছে বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের অন্তর্ভুক্তির হার। ২০১০ সালে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের দুই কোটি ৭৬ লাখ ৬২ হাজার ৫২৯ জন শিক্ষার্থীকে ১৯ কোটির অধিক বই বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছিল। পরে একটি বিশেষ মহল এনসিটিবির গুদামে আগুন লাগিয়ে দেয়। শত বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে ২০১১ ও ২০১২ সালে বইয়ের সংখ্যা ২৩ কোটিতে উন্নীত করতে হয়। পরের বছর প্রায় ২৭ কোটি। আর ২০১৪ সালে দেয়া হয়েছিল সাড়ে ৩১ কোটি কপি পাঠ্য বই। সর্বশেষ চলতি বছর বই দেয়া হয় ৩৩ কোটি।