২৪ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চারুকলায় জয়নুল সংগৃহীত পুতুলের প্রদর্শনী

চারুকলায় জয়নুল সংগৃহীত পুতুলের প্রদর্শনী
  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ গ্যালারিতে প্রবেশ করেই চোখে পড়বে মাটির তৈরি নক্সি হাঁড়ি, লক্ষ্মীসরা, হাতি, ঘোড়া, পুতুল, লম্বাগলা পতুলসহ বেশকিছু ছোট-বড় আকৃতির সরা। গ্যালারিজুড়ে সাজানো এসব লোকজ শিল্পসম্ভার সংগ্রহ করেছিলেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন। লোকশিল্পের সমৃদ্ধ ভা-ারকে সকলের সামনে তুলে ধরার মধ্য দিয়ে তিনি এই শিল্পের উন্নতিসাধন ও শৈল্পিক উৎকর্ষ বিষয়ে চারুশিল্পী ও শিল্পবোদ্ধাদের সচেতন করে তোলার লক্ষ্য নিয়ে প্রদর্শনীও করেছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার জয়নুল গ্যালারিতে মাটির এসব শিল্পকর্ম নিয়ে চলছে পুতুল প্রদর্শনী। শিল্পী জয়নুল আবেদিনের ১০১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে চারুকলা অনুষদ আয়োজিত জয়নুল উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ এ পুতুল প্রদর্শনী। আট দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন জয়নুলের সহধর্মিণী জাহানারা আবেদিন। হাজার বছরের ঐতিহ্যসমৃদ্ধ বাংলাদেশের শাশ্বত শিল্প ঐতিহ্যের এই হলো অলঙ্কার। মাটির তৈরি মাছ। হুবহু মাছের আকৃতি নয়, অথচ মাছের মতো। ঘোড়া নয়, অথচ তার যেন এই যতি প্রকাশই সৃষ্টির উন্মাদনা। প্রতিটি পুতুলকে রাখা হয়েছে কাঁচের বাক্সে। মাটি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে একতারা হাতে একজন বাউল। দৃশ্যমান এই পুতুলটি বাংলার লোকসংস্কৃতির প্রতীক। এক জায়গায় দেখা যাচ্ছে গ্রাম্যবধূ চুল আঁচড়াচ্ছে, মাটির চুলায় রান্না করছে গ্রামের এক নারী। পাশেই রয়েছে নক্সি থালা। প্রতিটি শিল্পকর্মই লোকজ সংস্কৃতির এক বহির্প্রকাশ। গ্যালারির মাঝে কাঁচের বাক্সে রয়েছে নান্দনিক কিছু পুতুল। কাঠের তৈরি নৌকাও শোভা পাচ্ছে সেখানে। এরমধ্যে লোকজ বাদ্যযন্ত্র হাতে বাদকের দল, বাঘ, নৌকা ও বুদ্ধমূর্তি দৃষ্টিনন্দন। গ্যালারির একপাশে রয়েছে মেক্সিকান ঢালসহ পুতুল, চাকাওয়ালা ঘোড়া, কচ্ছপ, মোরগ, তৈজসপত্রসহ কিছু মূর্তি। প্রদর্শনী চলবে আগামী ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত এবং প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে।

চারুকলা প্রাঙ্গণে জয়নুলমেলাও ছিল চোখে পড়ার মতো। লোকসমাগমের উপস্থিতি এত বেশি যে, বৃহস্পতিবার মেলা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আয়োজকপক্ষ একদিন বর্ধিত করে আজ শুক্রবার শেষ হওয়ার ঘোষণা দেন। এবারের উৎসবে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ১৭টি স্টল অংশ নিয়েছে। এগুলোর মধ্যে রাজশাহীর পৃথক দুটি স্টলে রয়েছে টেপাপুতুল ও শখের হাঁড়ি। রাঙ্গামাটি থেকে আগত স্টলে রয়েছে তাদের নিজস্ব আঙ্গিকের বুননশিল্প। মৌলভীবাজার থেকে আগত দুটি স্টল সাজিয়েছে ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটি দিয়ে। সোনারগাঁ থেকে আসা তিনটি স্টলে রয়েছে হাতপাখা, নক্সীকাঁথা ও তামা-কাসায় নির্মিত নানা অলঙ্কার। এছাড়াও ঝিনাইদহ, মাগুরা, নওগাঁ, ঢাকার মহাখালী, নারিন্দা থেকে আগতরা তাদের নিজস্ব শিল্পকর্ম সাজিয়ে বসেছে। এছাড়া চারুকলা অনুষদের বিভিন্ন বিভাগ তাদের শিল্পকর্ম নিয়ে উৎসবে অংশ নিয়েছে।

রুচির দুর্ভিক্ষ দূর করার অভিপ্রায়ে যিনি আমৃত্যু শিল্পচর্চা করেছেন, তিনি শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন। ঢাকা আর্ট কলেজ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই তিনি এ দেশের শিল্পানুরাগীদের কাছে পথিকৃৎ হিসেবে বিবেচিত। আর তাই তার ১০১তম জন্মবার্ষিকীতে তারই সৃষ্ট ঢাকা আর্ট কলেজ অর্থাৎ বর্তমানের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ ঘটা করেই আয়োজন করেছে ‘জয়নুল উৎসব’। ডাক-ঢোলের বাদ্যসহযোগে এ আয়োজনের উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। এ সময় ছিলেন জয়নুলের সহধর্মিণী জাহানারা আবেদিন, সন্তান প্রকৌশলী মঈনুল আবেদিন ও শিল্পী সমরজিৎ রায় চৌধুরী। প্রতি বছরের মতো এবারও জয়নুল সম্মাননা দেয়া হয়েছে দেশের স্বনামধন্য শিল্পী ও শিল্পানুরাগীকে। এরা হলেন- শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আবদুল মতিন সরকার ও অধ্যাপক বুলবুল ওসমান। চারুকলায় বিশেষ অবদানের জন্য সুশান্ত ঘোষকে বিশেষ সম্মাননা দেয় জয়নুল আবেদিনের পরিবার। পুরস্কারটি তুলে দেন জয়নুল আবেদিনের সন্তান মঈনুল অবেদিন।