২০ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দেশজুড়ে পাঠ্যবই উৎসব : ৭ বছরে ১৯০ কোটি বই বিতরণ

অনলাইন ডেস্ক ॥ নতুন বছর ২০১৬’র প্রথম দিনে দেশের সকল প্রাক-প্র্থামিক, প্রাথমিক, এবতেদায়ী, মাধ্যমিক স্কুল, দাখিল মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের মোট ৪ কোটি ৪৪ লাখ ১৬ হাজার ৭২৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মোট ৩৩ কোটি ৩৭ লাখ ৬২ হাজার ৭৭২টি পাঠ্যপুস্তক বিতরণ হয়। আজ শুক্রবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়।

২০১০ থেকে ২০১৬ সালে প্রাক-প্র্থামিক, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে বছরের প্রথম দিবসে ২৬,০২,২১,০৮৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৮৯ কোটি ২১ লাখ ১৮ হাজার ৮৯৫টি পাঠ্যপুস্তক বিনামূল্যে পৌঁছে দিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সফলতার অনন্য রেকর্ড করেছে। সরকারিভাবে এতো বই ছাপিয়ে বাঁধাই করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষার্থীর হাতে বছরের প্রথম দিনে বিতরণের ইতিহাস বিশ্বের কোথাও নেই।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ আজ শুক্রবার গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরী হাইস্কুল চত্বরে বিনামূল্যের বই বিতরণ করে সারাদেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে মাঠপর্যায়ে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণী অনুষ্ঠান ‘পাঠ্যপুস্তক উৎসব দিবস’ উদ্বোধনকালে একথা বলেন।

অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. আফছারুল আমীন প্রেরিত এক বাণীতে পুরো সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের সকল শিক্ষার্থীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরী হাইস্কুল, বিসিএসআইআর হাইস্কুল, ধানমন্ডি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কামরুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, আজিমপুর সরকারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও হাফেজ আবদুর রাজ্জাক দাখিল মাদ্রাসার কয়েক হাজার ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহণ করে।

ছাত্র-ছাত্রীরা নেচে-গেয়ে, আনন্দ-উল্ল¬াস করে, লাল-সবুজ প্ল¬াকার্ড-ফেস্টুন নেড়ে এবং বেলুন উড়িয়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে। মন্ত্রীর হাত থেকে নতুন বই পেয়ে তারা আনন্দে উদ্বেলিত হয়। হাজার হাজার শিক্ষার্থী সবাই নতুন বই উঁচু করে নাড়তে থাকে। তখন সৃষ্টি হয় এক উৎসবমুখর পরিবেশ।

শিক্ষা সচিব মো. সোহরাব হোসাইনের সভাপতিত্বে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ফাহিমা খাতুন, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র পাল এবং বাংলাদেশ মূদ্রণ শিল্প সমিতির প্রতিনিধি সভাপতি শহীদ সেরনিয়াবাত প্রমুখ বক্তৃতা করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন দপ্তর প্রধান ও শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানগণ এসময় উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্রেস শ্রমিক প্রতিনিধি ও বই বাঁধাই শ্রমিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ প্রাক-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরের সকল শিক্ষার্থীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান।

তিনি বলেন, অনেক প্রতিকূলতা ও বাধার মধ্যেও বছরের প্রথম দিবসে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত। এতোকিছুর মধ্যে যথারীতি বই ছাপানো, বাঁধাই করা ও সারাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দেয়া সত্যিই অতীব চ্যালেঞ্জের কাজ ছিল। মন্ত্রী এনসিটিবি’র চেয়ারম্যানসহ সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ সারাবছর ধরে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে তা বাস্তবায়ন করার জন্য তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। সংশ্লিষ্ট সকল ছাপাখানার মালিক-কর্মচারী, বাঁধাইশ্রমিক, মেশিনম্যান, কাটিংম্যান, সুপারভাইজার, শিক্ষা পরিবারের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সকলকেও ধন্যবাদ জানান।

এবার প্রাথমিক স্তরের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকসমূহ এবং ট্রাই-আউট কার্যক্রমের মাধ্যমে মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তকসমূহ পরিমার্জন করা হয়েছে।

বর্তমান সরকার ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এ উদ্যোগ শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল ৩১ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার গণভবনে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, ইবতেদায়ী, মাধ্যমিক স্কুল, দাখিল মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের হাতে ২০১৬ সালের নতুন পাঠ্যবই তুলে দিয়ে বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। সূত্র: বাসস

এই মাত্রা পাওয়া