২০ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শুভবুদ্ধির উদয় হোক

২০১৫ সাল চিরতরে চলে গেল কালের গর্ভে। নানা ঘটনায় বছরটি বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে স্মরণীয় হয়ে থাকবে ইতিহাসে। বছরটি জুড়ে শান্তির সুবাতাস বইছিল এমনটা বলা যাবে না। আইএস, বোকো হারাম ইত্যাকার উটকো ঝামেলা রক্ত ঝরিয়েছে, প্রাণ হরণ করেছে; করেছে বড় ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধ। তারপর শরণার্থী সমস্যা তো ছিলই।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটও যে খুব সুবিধাজনক ছিল তা বলা যাবে না। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী গণমানুষের সংগঠন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেও ঘটেছে মৌলবাদী, ধর্মান্ধ শক্তির হামলা, নাশকতা। যদিও বছরের অধিকাংশ সময় ক্ষমতাসীন দলের কৌশল ও বিচক্ষণতায় রাজনৈতিক অঙ্গন ছিল স্থিতিশীল। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে অর্থনীতিতে। অর্থনীতি থাকে সচল ও গতিময়। কিন্তু মুক্তচিন্তা চর্চাকারীদের ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনায় জনমনে সৃষ্টি হয় আতঙ্ক। পাশাপাশি একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের চূড়ান্ত রায় প্রদান ও কার্যকর হওয়ায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তি হয় আনন্দিত। সবার ভেতর ফিরে আসে স্বস্তি।

নাশকতায় এবং প্রগতিশীল তথা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী শক্তির ওপর যে হামলা হচ্ছে তাতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে মহান মুক্তিযুদ্ধে পরাজয় বরণকারী পাকিস্তানের গোয়েন্দা আইএসআই এদেশে থাবা বিস্তার করেছে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি ক্ষমতায় বলে তাদের এত গাত্রদাহ। যে কারণে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে তারা আশ্রয় নিচ্ছে জঙ্গীবাদের। এরই মধ্যে পাকিস্তান দূতাবাসের দুই কর্মকর্তার কর্মকা- ব্যাপারটি খোলাসা করে দিয়েছে।

একাত্তরের রাজাকার, পাকিস্তানের আইএসআই, জামায়াতে ইসলাম, জেএমবি, আনসারুল্লাহ, পঁচাত্তরের ঘাতকÑ এসবের শেকড় এক জায়গায়। এরা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আইএস বা আল কায়েদার সহযোগিতা নিচ্ছে বলে দিন দিন স্পষ্ট হচ্ছে। আবার বিএনপিও তাদের সুরে কথা বলছে।

গত বছরের ঘটনার কিছু ঢেউ এ বছরে এসে পড়বে। ক্ষমতাসীন দলের কাছে এদেশের মানুষের প্রত্যাশা বেশি। কেননা, এ দলটি তৃণমূল থেকে উঠে এসেছে; গণমানুষের কথা বলে। অসাম্প্রদায়িক ধর্মনিরপেক্ষতা যাদের চলার শক্তি। সেই দলের কাছে প্রত্যাশাÑ এ বছরের শুরুতেই জঙ্গীবাদ সমূলে উৎপাটন করবে। ’৭১ ও ’৭৫-এর ঘাতকদের বিরুদ্ধে দেয়া আদালতের রায় কার্যকর করবে। বিশেষ করে যেসব ঘাতক বিদেশে পালিয়ে আছে তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করে ইতিহাসের দায় মেটাবে। অন্যদিকে মুক্তচিন্তা চর্চাকারী ব্লগার, লেখক-প্রকাশকের হত্যা ও হামলাকারীদের বিচার নিশ্চিত করবে। চলতি বছর দেশে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাই সচেষ্ট হবে এই কামনা করি। সবার শুভবুদ্ধির উদয় হোক। শুভ হোক ২০১৬ খ্রিস্টাব্দ।

অনিমা ডি কস্তা

কাকরাইল, ঢাকা

স্থানের ‘দূরত্ব’ নেই কেন?

রেলপথে ভ্রমণকালে কম্পিউটারের মাধ্যমে যাত্রী সাধারণকে যে টিকেট প্রদান করা হয় অর্থাৎ রেলযাত্রীর টিকেটে ট্রেন ছাড়ার সময়, উৎপত্তি ও গন্তব্যস্থলসহ ট্রেনের নাম এমনকি টিকেট ক্রয়ের তারিখ ও সময় উল্লেখ থাকলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি তথা ‘দূরত্ব’ লিপিবদ্ধ থাকে না। ফলে একজন যাত্রী ভ্রমণকালে তাঁর যাত্রাকালীন স্থানসমূহের দূরত্ব সম্পর্কে অবহিত বা অবগত হতে পারেন না। স্মর্তব্য যে, রেলপথে যাত্রীসাধারণের চলাচলের শুরু থেকে যখন মোটা কার্ডে টিকেট প্রদান করা হতো তখনও উৎপত্তি স্থল ও গন্তব্য স্থলের দূরত্ব (মাইলে) মুদ্রণ করা থাকত, এমনকি ১৯৮৫ সালে যখন আন্তঃনগর ট্রেন চালু করা হলো তখনও স্থানদ্বয়ের দূরত্ব মাইল বা কিলোমিটার দেয়া হতো। সভ্যতার ক্রমবিকাশে এবং সময়ের দাবিতে যখন রেলভ্রমণের টিকেট কম্পিউটরাইজড করা হলো তখন থেকে ‘দূরত্ব’র কলামটি বাদ দেয়া হলো, এতে একদিকে যাত্রীসাধারণ তাঁর ভ্রমণের দূরত্ব জানা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্য দিকে ঐ যাত্রী ভ্রমণের ফলে কিলোমিটারপ্রতি রেল কর্তৃপক্ষ কী পরিমাণ ভাড়া আদায় করছে এমন তথ্য তার কাছে অজানাই থেকে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে যেখানে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজে এগিয়ে যাচ্ছেন সেক্ষত্রে রেলের টিকেটে স্থানের দূরত্ব না থাকার বিষয়টি দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত মর্মে প্রতীয়মান হয়।

রেলযাত্রীদের বিশেষ সুবিধার্থে সর্বোপরি জনস্বার্থে রেলওয়ের কম্পিউটাররাইজড টিকেটে উৎপত্তি ও গন্তব্য স্থলের দূরত্ব মুদ্রণ করতে মাননীয় রেলমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের আশু দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

কানিজ ফাতেমা মিতু

ঘোড়ামারা, রাজশাহী

ব্যাংকের শাখা চাই

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্গত সবুজবাগ থানাধীন মাদারটেক একটি জনবহুল এলাকা। এখানে একটি বাজার আছে। এখানে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য আছে।

এখানকার অনেক মানুষ বিদেশে থাকে। এখানে কোন ব্যাংকের শাখা না থাকায় স্থানীয় জনসাধারণের খুবই অসুবিধা হচ্ছে। মাদারটেক বাজারে যে কোন ব্যাংকের একটি শাখা খোলার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন জানাচ্ছি।

মাজেদ আহমেদ

মাদারটেক, ঢাকা

এ খেলা বন্ধ হোক

বিশ্বের দেশে দেশে খ- খ-ভাবে মানব নিধনযজ্ঞ চলছে। ধর্মের নামে, গোত্রের নামে শুধু নিরীহ, নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। যে লাখ লাখ মানুষ হত্যা করা হচ্ছে তাদের কি এই পৃথিবীতে বাঁচার অধিকার ছিল না? জঙ্গীরা এই মারাত্মক অস্ত্র পায় কোথায়? তাদের অস্ত্রের যোগানদাতা কে? তাদের অর্থের যোগানদাতা কারা? এক হাতে অস্ত্র বিক্রি অন্য হাতে দমন এই দ্বিমুখীনীতি বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে অবশ্যই পরিত্যাগ করতে হবে। অস্ত্র আর তেল বিক্রির জন্য যুদ্ধ বাধিয়ে দেয়া যাবে না। অস্ত্র আর তেল বিক্রির জন্য মানুষ নিধন করা যাবে না।

ধনী দেশগুলোর উচিত দরিদ্র দেশগুলোর ওপর আধিপত্য বিস্তার না করে উন্নয়নের সহযোগী হওয়া। অস্ত্র তৈরি না করে সেই অর্থ কৃষি ও শিক্ষা খাতে ব্যয় করতে হবে। জঙ্গীরা বিপথগামী। তাদের হাতে কোনক্রমেই অস্ত্র দেয়া যাবে না। ধর্ম মানুষের প্রথম মৌলিক অধিকার। সকল মানুষই তাদের ধর্ম, বর্ণ গোত্র, ভাষা নিয়ে এই পৃথিবীতে বসবাস করার অধিকার সবার।

আব্দুল জলিল মোড়ল

কেশবপুর, যশোর