২০ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কীটনাশক ও মানবস্বাস্থ্য

অতিমাত্রায় কীটনাশকের ব্যবহার মানবস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। আমাদের দেশে শীতকাল এলেই শাকসবজির চাহিদা বেড়ে যায়। আর এ সময় দেশের কৃষকরা রাসায়নিক সারের পাশাপাশি ব্যবহার করেন অতিমাত্রায় কীটনাশক। আমাদের খাবারের শতকরা ৯৮ ভাগ শাকসবজিতেই কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়। এই কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব রান্নার সময় তাপেও নষ্ট হয় না। কোন কোনটির বিষের প্রভাব তাপে কার্যকারিতা বেড়ে যায়। এই বিষের প্রভাব মানবদেহে ধীরগতিতে ক্রিয়া করে ফলে তাৎক্ষণিকভাবে বোঝার উপায় থাকে না। কেউ বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে কিনা। শাকসবজিতে রোগ ও পোকা দমনের জন্য বালাইনাশক প্রয়োগ করায় অধিকাংশ শাকসবজিও বিষাক্ত হয়ে পড়ছে। এসব বিষাক্ত শাকসবজিতে কীটনাশকের প্রয়োগের পর ১৫-২০ দিন কার্যকারিতা থাকে। বিষাক্ত শাকসবজি নিয়মিত খেতে বাধ্য হচ্ছে সাধারণ মানুষ। গবেষণায় জানা গেছে, উচ্চ বিষযুক্ত কীটনাশকের প্রয়োগে পুরুষ ও মহিলাদের সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৪২ ভাগ কমে গেছে। কীটনাশকের প্রভাবে কিডনি, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, লিভার পিত্ত, পাকস্থলীর রোগ হচ্ছে। জৈব কীটনাশক পরিবেশের জন্য উপকারী। জৈব কীটনাশক ব্যবহার করলে দেশের অনেক বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হতো। আর সেই বৈদেশিক মুদ্রাতে শিল্পের জন্য বিদেশ থেকে কাঁচামাল আনা যেত। আর আমাদের কীটনাশক যারা আমদানি করেন সেই সব ব্যবসায়ীও এত লাভের ব্যবসা ছাড়তে চাইবে না। ঢাকা জেলার টেক্সাটাইল ও ডাইং ইন্ডাস্ট্রিজ থেকে তরল বর্জ্য নদীর পানিতে মিশছে। এর একটা অংশ কৃষি জমিতে মিশে খাদ্য উৎপাদন প্রক্রিয়ার বিষ ছড়াচ্ছে। টমেটো পাকানো ও রঙিন করার জন্য রাইপেন, ইথোপেন, টমটমসহ বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগ করা হচ্ছে। শীতকালে সবজির ব্যবহার হওয়ার ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে আশঙ্কা আরও বাড়ছে। বিষাক্ত রাসায়নিকের প্রভাবে ক্যান্সার, উচ্চরক্তচাপ, চামড়ার রোগ দীর্ঘ মেয়াদী কিডনির রোগসহ বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু এ বিষয়ে কোন নজরদারিই নেই। প্রতিটি খাবারেই বিষাক্ত রাসায়নিকের অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে।

অশোক কুমার সাহা

কুমারখালী, কুষ্টিয়া