১৫ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শরণার্থী সঙ্কট ইউরোপে ৬ লাখ ৮০ হাজার লোকের নাগরিকত্ব নেই

সিরিয়ার পক্ষপাতদুষ্ট আইন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অপর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণের কারণে শরণার্থীদের ঘরে জন্ম নেয়া শিশুরা কোন দেশের নাগরিকত্ব পেতে অযোগ্য বিবেচিত হতে পারে। ইউরোপের শরণার্থী সঙ্কট অসংখ্য শিশুকে রাষ্ট্রবিহীন করে তোলার ঝুঁকি দেখা দেবে বলে বিশ্লেষকরা হুঁশিয়ার করেছেন।

সিরিয়ার লিঙ্গভিত্তিক পক্ষপাতমূলক আইনের পাশাপাশি ইইউভুক্ত দেশগুলোর অকার্যকর আইনী রক্ষাকবচের অর্থ হলো সিরীয় শরণার্থীদের ইউরোপে জন্ম নেয়া অসংখ্য শিশুর রাষ্ট্রবিহীন হওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা। সিরীয় আইন অনুযায়ী, কেবলমাত্র পিতৃসূত্রে সন্তানরা নাগরিকত্ব পেতে পারে। জাতিসংঘের অনুমান, ২৫ শতাংশ সিরীয় শরণার্থী পরিবার পিতৃহীন। নেদারল্যান্ডসভিত্তিক ইনস্টিটিউট অন স্টেটলেসনেস এ্যান্ড ইনক্লুশনের জাহরা আলবারাজি বলেছেন, ইউরোপে পুনর্বাসিত নারীর অনেকেরই স্বামী বা সঙ্গী নিহত বা হারিয়ে গেছে এবং একই সময়ে অনেক নারী সন্তান নিয়ে বা গর্ভবর্তী অবস্থায় পুনর্বাসিত হয়েছে। এর ফলে এটি একটি বড় সমস্যা হয়ে উঠছে। ৩৫ বছর বয়সী সানা একজন সিঙ্গেল মাদার। তিনি গত বছর বার্লিনে তার মেয়ে শিবার জন্ম দেন। তিনি বলেন, আমি সিরীয় দূতাবাসে গিয়ে আমার অবস্থার কথা জানাই। কিন্তু তারা আমাকে বলেন, তারা শিবাকে পাসপোর্ট দেবে না। কারণ সন্তানের পিতাকে সিরীয় এবং মা ও বাবাকে বিবাহিত হতে হবে।

শিশু অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ কনভেনশনসহ আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী, কোন দেশে জন্মগ্রহণ করা শিশুকে নাগরিকত্ব প্রদান করতে বাধ্য সেই দেশের সরকার। অন্যথায় এ শিশুরা রাষ্ট্রবিহীন হবে। কিন্তু কিছু ইইউভুক্ত দেশ তাদের অভ্যন্তরীণ আইনে এ নীতি গ্রহণ করেছে এবং ধারাবাহিকভাবে তা বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হচ্ছে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার হিসাব অনুযায়ী ইউরোপে অন্তত ছয় লাখ ৮০ হাজার লোকের কোন দেশের নাগরিকত্ব নেই। তবে বিশ্লেষকরা বলেছেন, এ সংখ্যা আরও অনেক বেশি। অনেক পিতামাতা জানেনই না তাদের সন্তান রাষ্ট্রবিহীন। -ওয়েবসাইট