১৮ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ডুব দিয়ে বেঁচে গেছেন অমূল্য চন্দ্র

বাকেরগঞ্জের কলসকাঠি ইউনিয়নের বাগদীয়া গ্রামের অমূল্য চন্দ্র পাল (৯০)। যিনি ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানী হানাদার সেনাদের একযোগে সাড়ে তিন শতাধিক বাঙালী হত্যাযজ্ঞের বেঁচে যাওয়া একজন। ঝাপসা চোখে স্মৃতিকাতর অমূল্য চন্দ্র পাল বলেন, সেদিন ছিল ৩০ বৈশাখ শুক্রবার সকাল আটটা থেকে সাড়ে আটটার দিকে স্থানীয় কুখ্যাত রাজাকার ইসাহাক ও তার সহযোগী বেবাজ গ্রামের বক্সপাড়ার লতিফ বক্স, কালু বক্স, বাগদীয়ার বারেক মোল্লা, মধু তালুকদারের নেতৃত্বে তিন শতাধিক পাক সেনা কলসকাঠীর হিন্দু অধ্যুষিত পালপাড়া, সাহাপাড়া, কুন্ডুপাড়া, কর্মকারপাড়ায় হানা দেয়। এ সময় তিনি পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে বাড়ির পিছনের জঙ্গলে পালিয়েছিলেন। স্থানীয় রাজাকারদের সহায়তায় পাক সেনাদের হাতে পালপাড়ার নারী-পুরুষ মিলে ৫০ থেকে ৬০ জন ধরা পড়ে। নারী ও শিশুদের বিএম একাডেমি ভবনের এক রুমে আটকে রেখে পুরুষদের কলসকাঠী বাজার সংলগ্ন খালপাড়ের চালের হাটখোলায় নিয়ে রাখা হয়। অমূল্য পালের মাথায় রাজ্যের চিন্তা এসে জড়ো হয়, যখন চোখের সামনে একজন একজন করে উঠিয়ে নিয়ে খাল পাড়ে গুলি করে পাক সেনারা হত্যা করছে। কিভাবে মারছে, কে কেমন করে মৃত্যুযন্ত্রণা ভোগ করে খালে পড়ে যাচ্ছে তা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলেন তিনি। হাত পা অবশ হয়ে আসছিল। মৃত্যুর প্রহর গুনছিলেন। এ সময়ে তাঁর খুব করে মনে পড়ে মায়ের কথা। যে মা তাঁকে মাত্র পাঁচ বছর বয়সে বাবা দারিকানাথ পাল মারা যাবার পর বড় করেছেন। একে একে মনে পড়ে পরিবারের সবার কথা। হত্যার ধারাবাহিকতায় ১০ নাম্বারে ও অমূল্য পালের আগের জন ছিলেন দশ বছরের বালক বাবুল সাহা। খালে নামার আগেই পাকিস্তানী সেনারা গুলি করলে, দেহ পড়ে থাকে পাড়ে। অমূল্য পালকে ইঙ্গিত করে বাবুল সাহার লাশ খালে ফেলে দিতে। খালে নেমে দুই বাহু ধরে নামানোর চেষ্টাও করছিলেন তিনি। সতর্ক থাকায় গুলি ছোঁড়া মাত্রই শরীর বাঁকিয়ে এক ডুবে খালের ওপাড়ে গিয়ে ওঠেন তিনি। এরপর ফের ডুব দিয়ে খাদ্যগুদামের জেটির নিচে লুকিয়ে থাকেন তিনি। ঘণ্টাখানেক ছিলেন পানির নিচে কেবল নাক উঁচিয়ে।

Ñখোকন আহম্মেদ হীরা, বরিশাল থেকে