২৩ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিআরডিবি সমবায়ীদের নিজস্ব সঞ্চয় আমানত ৩শ’ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে

নাজনীন আখতার ॥ বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) দারিদ্র্য বিমোচন কার্যক্রমের আওতায় ২৮ লাখ সমবায়ী নারী পুরুষের নিজস্ব সঞ্চয় আমানত ৩শ’ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এ কার্যক্রমের অধীনে ১৮টি কর্মসূচীতে অংশ নিয়েছে প্রায় ৬৭ হাজার অনানুষ্ঠানিক দল বা পল্লী উন্নয়ন সমিতি। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে এ তথ্য তুলে ধরেছে বিআরডিবি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সংসদীয় কমিটির কাছে বিআরডিবি সমবায়, দারিদ্র্য বিমোচন, ক্ষুদ্রঋণ, প্রশিক্ষণ ও প্রশিক্ষণোত্তর সহায়তা, নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক সেবা ও পরামর্শ, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত বিশেষ কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্যসহ একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিআরডিবির মোট সমবায় সমিতির সংখ্যা ১ লাখ ৪ হাজার। সমবায়ী নারী পুরুষের সংখ্যা প্রায় ২৮ লাখ। কর্মসংস্থান সৃজনের মূল কৌশল হিসেবে নেয়া হয়েছে দারিদ্র্য বিমোচন কার্যক্রম। ১৮টি কর্মসূচীর আওতায় প্রায় ৬৭ হাজার আনুষ্ঠানিক দল বা পল্লী উন্নয়ন সমিতি রয়েছে। সুফলভোগী প্রায় ২৮ লাখ নারী-পুরুষের নিজস্ব সঞ্চয় আমানত রয়েছে প্রায় ৩০৫ কোটি টাকা। ২০১৫Ñ২০১৬ অর্থবছরে বিআরডিবির ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ তহবিল হচ্ছে ৯৪২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। বার্ষিক বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯৯০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

এছাড়া দারিদ্র্য বিমোচনে ও ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি বড় প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে গ্রামীণ দরিদ্র নারীদের সংগঠিতকরণ, মূলধন সৃষ্টি, বিভিন্ন আয়বর্ধকমূলক কর্মকা-ভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও ঋণ সহায়তা দেয়াসহ ভবন নির্মাণের লক্ষ্যে ১৩১ কোটি ৩৯ লাখ ৮২ হাজার টাকার প্রকল্প নেয়া হয়েছে। ‘দরিদ্র মহিলাদের জন্য সমন্বিত পল্লী কর্মসংস্থানের সহায়তা প্রকল্প’ নামের এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ৫৯ উপজেলায়। ‘দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে অপ্রধান শস্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ ও বাজারজাতকরণের কর্মসূচী (২য় পর্যায়)’ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে ৬৪ জেলার ২৫৬টি উপজেলায়। ৬০ কোটি ৯৩ লাখ ৬১ হাজার টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের মাধ্যমে ক্ষুদ্র কৃষক, প্রান্তিক চাষী ও বর্গা চাষীদের সমন্বয়ে দল গঠন, অপ্রধান শস্য উৎপাদন সংরক্ষণ প্রক্রিয়াকরণ ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া, অপ্রধান শস্যের প্রদর্শনী প্লট স্থাপন এবং ৪ শতাংশ সুদে সুফলভোগীদের ঋণ গ্রহণে সহায়তা দেয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ষাটের দশকের শেষ ভাগে ড. আখতার হামিদ খানের উদ্ভাবিত বিশ্বনন্দিত কুমিল্লা মডেলের মাধ্যমে বাংলাদেশে পল্লী উন্নয়নের ভিত্তি রচিত হয়। এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ‘দ্বি-স্তর সমবায় সমিতি’। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু কৃষি উন্নয়নে দেশব্যাপী সমবায়ের বিস্তার ঘটনা। জাতীয়ভাবে বাস্তবায়িত হয় ‘সমন্বিত পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচী (আইআরডিপি)’। গ্রামে গ্রামে গড়ে ওঠে কৃষক সমবায় সমিতি এবং থানা পর্যায়ে কেন্দ্রীয় সমিতি (ইউসিসিএ)। আইআরডিপির সাফল্যকে ভিত্তি করে ১৯৮২ সালে সরকারের অধ্যাদেশ নং ৫৩/১৯৮২ অনুসারে আইআরডিপিকে উন্নীত করে বডি কর্পোরেট হিসেবে পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) গঠিত হয়। গ্রাম উন্নয়নের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে এর যাত্রা শুরু হয়। এতে অন্তর্ভুক্ত হয় দেশের সকল উপজেলার পল্লী অঞ্চলে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার জনগণ। বিশেষ করে গুরুত্ব দেয়া হয় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক, বর্গাচাষী, বিত্তহীন জনগোষ্ঠী, দুঃস্থ ও অসহায় নারী, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা, বিশেষায়িত অঞ্চলের পশ্চাদপদ জনগোষ্ঠী।

বিআরডিবির কর্মকা-ের মধ্যে রয়েছেÑ আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক মানব সংগঠন সৃষ্টি, মানবিক ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, সম্প্রসারণ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রযুক্তি হস্তান্তর, উপকারভোগীদের মূলধন সৃষ্টি ও এর ব্যবস্থাপনা, কৃষি ও ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ ও এর ব্যবস্থাপনা, প্রশিক্ষণোত্তর সহায়তা দেয়া, কৃষি ও সেচ সম্প্রসারণ, স্থানীয় উদ্যোগকে উৎসাহ ও সহায়তা দান, সচেতনতা বৃদ্ধি ও পরামর্শ সেবা কার্যক্রম, বিভিন্ন অংশীজন বা স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে সমন্বয় করা, স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা দেয়া, অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ক্ষুদ্র স্কীম বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন সেবা প্রদান কার্যক্রমের ডিজিটালাইজেশন।

নির্বাচিত সংবাদ