২০ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তথ্যপ্রযুক্তির ফসল এখন প্রতিটি ঘরেই পৌঁছে গেছে

  • সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে ॥ পলক

ফিরোজ মান্না ॥ তথ্যপ্রযুক্তি জনগণের ক্ষমতায়ন ও দারিদ্র্য দূরীকরণের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। এজন্য সরকার তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নে নানা রূপরেখা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ২০২১ সালের মধ্যে দেশ মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। আর ২০৪১ সালের মধ্যে দেশ উন্নত দেশ হিসেবে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। অবকাঠামো তৈরি, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিসহ সবকিছুই করে যাচ্ছে সরকার। তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষকে নিরাপদ রাখার জন্য সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় লক্ষ্যপূরণে কাজ করে যাচ্ছে।

তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক জনকণ্ঠকে বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির ফসল এখন প্রতিটি ঘরেই পৌঁছে গেছে। এরপরও আরও অনেক কিছু বাকি রয়েছে, যা আমরা ২০২১ সালের আগেই করে ফেলতে পারব। দেশের পাঁচ হাজারেরও বেশি ইউনিয়ন ডিজিটাল কেন্দ্র থেকে এখন প্রতিদিন ৪০ লাখ মানুষ সেবা পাচ্ছেন। ই-কমার্স, ই-পেমেন্ট, মোবাইল ব্যাংকিং, থ্রি-জি ইত্যাদি সুবিধা নিচ্ছেন কোটি কোটি মানুষ। সাড়ে আট হাজার ডাকঘরে ই-পোস্ট রূপান্তরের কাজ শুরু করা হয়েছে। ডিজিটাল ল্যান্ড জোনিংয়ের কাজও এগিয়ে যাচ্ছে। ই-গবর্নেন্স চালু, তথ্যপ্রযুক্তি পার্ক ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কাজও অব্যাহত রয়েছে। এসব শেষ হলে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলাদেশ আরও বহুদূর এগিয়ে যাবে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সুবিধা দেশব্যাপী সম্প্রসারণকল্পে ৬টি বিভাগীয় সদরে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের ৬টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। প্রথম ২০০০ সালে রাজশাহী কেন্দ্র স্থাপিত হয়। এরপর ২০০২ সালে বরিশাল ও খুলনায়, ২০০৩ সালে চট্টগ্রাম ও সিলেটে সর্বশেষ ২০০৪ সালে ঢাকা বিভাগের জন্য ফরিদপুরে কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে বর্তমানে দুটি করে কম্পিউটার ল্যাব রয়েছে। ল্যাবগুলো ভিত্তি করে স্বল্পমেয়াদী প্রশিক্ষণ এবং ৬ মাস মেয়াদী ডিপ্লোমা কোর্স পরিচালনা করা হচ্ছে।

সরকারী কাস্টমাইজড কোর্সে এক হাজার ৪৪০ জন, সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণে ৭ হাজার ৯৭৮ জন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ২৯৭ জন, মাস্টার ট্রেইনার ৭ হাজার ৮৯০ জন শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী এক লাখ ১২ হাজার ১৮৯ জন, ইউআইএসসি উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণে ৫ হাজার ৬৭০ জন, ডিপ্লোমা ও পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা কোর্সে ৪১৮ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। আইসিটি গ্রাজুয়েট ও পেশাজীবীদের জন্য ইন্টার্নশিপ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এখন পর্যন্ত ১৩টি ব্যাচে মোট ২ হাজার ৮৯৮ জন আইসিটি প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ করেছেন। এছাড়া বিসিসির আইসিটি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়ন কর্মসূচীর মাধ্যমে ৩ হাজার ৮৩৭ জনকে (সরকারি, আধা সরকারী, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্কুল-কলেজ শিক্ষক) বেসিক আইসিটি ৩১৬ জনকে মাস্টার ট্রেনার প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তির সব ধরনের চূড়ান্ত সুবিধার পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনেক কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা হলেও একটি জিনিস এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। আর সেই জিনিসটিই হচ্ছে সাইবার নিরাপত্তা। আমরা চেষ্টা করছি সাইবার নিরাপত্তা কিভাবে তৈরি করা যায়। তবে এটা অনেকটা ব্যয়বহুল বলে এখনও সম্ভব হচ্ছে না। তবে আশা করছি আমাদের দেশের তরুণরাই অনেকটা সাইবার নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন এ্যাপস তৈরি করছে। সম্প্রতি ‘সোনামনি গার্ড’ নামের একটি এ্যাপস তৈরি করেছে দিনাজপুরের এক তরুণ। এই এ্যাপস ব্যবহার করে অনেক খারাপ সাইট থেকে বিরত থাকা যাবে।

এদিকে কম দামে ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য প্রতি এমবিপিএস ৬২৫ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে।