২০ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

স্বস্তিতে দেশবাসী ॥ রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনমুখী

স্বস্তিতে দেশবাসী ॥ রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনমুখী
  • দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় বিএনপি পরাজয়ের কারণ খুঁজে পাওয়ার পথ পাবে ;###;ভবিষ্যতে আরও ভাল নির্বাচনের সুযোগ হবে ;###;বার বার নির্বাচন বর্জন করায় বিএনপির জনপ্রিয়তা কমেছে

রাজন ভট্টাচার্য ॥ দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনে সকল দলের অংশগ্রহণ ভবিষ্যত রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এর মধ্যদিয়ে দেশবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। বেড়েছে গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা। ভোটাররাও সন্তুষ্ট। কমবে রাজনৈতিক উত্তাপ। তাছাড়া তৃণমূল পর্যায়ে সব দলের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের অন্যতম মাপকাঠি ছিল এ নির্বাচন। বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর লাভ-ক্ষতি নির্ধারণের বড় উপাদান সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচন। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় পরাজয়ের কারণ চিহ্নিত করার সুযোগ পাবে বিএনপি ও বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। জয়ের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য করণীয় ঠিক করতে পারবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। সর্বোপরি নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন দলকে প্রশ্নহীন নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য পদক্ষেপ নেয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ নির্বাচনকে মডেল হিসেবে সামনে রেখে ভবিষ্যতে সব নির্বাচনেই রাজনৈতিক দলগুলো অংশ নেবে, বাড়বে ভোটারদের উপস্থিতি, অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে এমন কথাই বলছেন তারা।

নির্বাচন বর্জনের রীতি বাদ দেয়ার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার বিকল্প নেই বলে মনে করেন স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সুষ্ঠু কর্মকা-ই সকল নির্বাচনে জয়ের অন্যতম মাপকাঠি। সাত বছর পর এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নৌকা ও ধানের শীষে লড়াই হয়েছে মাঠ পর্যায়ে। এতে ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সমর্থন জানানোর সুযোগ পেয়েছেন। তাই ভোটের পর নির্বাচন বর্জন করা ভোটারদের অবমাননার শামিল। সেইসঙ্গে ১৯৭৩ সাল থেকে কোন জাতীয় নির্বাচনেই ধারাবাহিকভাবে জয়ের রেকর্ড নেই রাজনৈতিক দলগুলোর। দল সমর্থিত বা দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত সকল নির্বাচনের ইতিহাস তাই বলছে। তাই জয়ের জন্য সুস্থ ধারার রাজনীতি চর্চা ও ভোটারদের আস্থা অর্জনের বিকল্প নেই বলেও মনে করেন তারা।

ভোটারদের আস্থাই জয়ের উৎস ॥ প্রথমবারের মতো ২৩৪টি পৌরসভায় দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হলো স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগের মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। মেয়র পদে বিএনপির ২২ জন বিজয়ী হয়েছেন। দুই বড় রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের কারণেই এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতিও বেশ। দলীয় ভাবে পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দেয়ার সুযোগ পেয়েছেন সাধারণ ভোটাররা। নির্বাচন কমিশন বলছে, পৌর নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৭৩ দশমিক ৯২ ভাগ। ৭৪ পৌরসভায় ভোট পড়েছে ৮০ ভাগ। বড় ধরনের সহিংসতা খুব একটা হয়নি। ২০১৪ সালের মে মাসে তিন ধাপে অনুষ্ঠিত উপজেলা বির্বাচনে ভোটের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬৩ ভাগ। পাঁচ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেয়ায় ভোটার উপস্থিতি ছিল ৪০ দশমিক ৫৬ ভাগ। বিদায়ী বছরে ঢাকার ২সিটিসহ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৪৪ ভাগ ভোট পড়ে।

এবারের পৌর নির্বাচন প্রসঙ্গে ২৮ সংগঠনের মোর্চা ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ মনে করে, কিছু কিছু স্থানে গোলযোগ হলেও পুরো নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি। তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী ভোটার উপস্থিতি ৭২ ভাগ। গ্রুপের পরিচালক আবদুল আলীম মনে করেন, ভোট পড়ার হিসাব অনেকটা স্বাভাবিক। অপর নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ব্রতী বলছে, ২৪ পৌরসভার ২৪০টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৫টিতে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি তা বলা যাবে না।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় বিএনপির প্রতি সমর্থকদের আস্থা কমেছে। পাশাপাশি সর্বশেষ তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে হটাৎ করেই সড়ে দাঁড়ানোর বিষয়টি ভাল চেখে দেখেননি তারা। সেই সঙ্গে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরোধিতা, নির্বাচন ঠেকানোর নামে দেশজুড়ে সহিংসতা, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রথম বার্ষিকীতে অনিদৃষ্টকালের অবরোধ, ফের পেট্রোলবোমার নৃশংসতা, মানুষ হত্যাসহ তা-ব চালানোয় ভোটাররা বিএনপির প্রতি অসন্তুষ্ট। পাশাপাশি সাংগঠনিক দুর্বলতা ও দলীয় কোন্দল তো আছেই। সর্বশেষ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যর কারণেই ভোটে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ভোটের পরদিন নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করাও বিএনপির ঠিক হয়নি বলে মনে করেন অনেকে। বিশ্লেষকদের মতে, এর আগে খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী, সিলেট, গাজীপুরসহ বিভিন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থীরা জয় পান। রাজনৈতিক কর্মকা-ের মধ্য দিয়ে ভোটারদের আস্থা অর্জন করার কারণেই এ বিজয় সম্ভব হয়েছিল।

নির্বাচন প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এবারের পৌর নির্বাচনে কেউ হারেনি। জয়ী হয়েছে গণতন্ত্র। বিগত তিনটি নির্দলীয় নির্বাচনের চেয়ে সংঘাত ও সংঘর্ষমুক্ত এবং শান্তিপূর্ণ দলীয় নির্বাচন ছিল এটি। শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচনে বিএনপির মনোভাব ছিল ইতিবাচক। নির্বাচনে অংশ নিয়ে তারা গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়েছে। আশা করব আগামী নির্বাচনেও তারা অংশ নেবে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে আজ তাদের এ বেহাল দশা হতো না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নতুন বছরে হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা বিএনপির চ্যালেঞ্জ বলে জানিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ২০১৬ সালের প্রথম দিনে আমরা প্রত্যাশা করছি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের পক্ষ থেকে নানা আশঙ্কার পরও কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচন কার্যত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। এতে একমত নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগও। তাছাড়া প্রতিবার নির্বাচনের সময় সংঘর্ষ, সহিংসতা স্বাভাবিক নিয়মে রূপ নিয়েছে। অর্থাৎ দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় অনিয়ম বা সহিংস ঘটনা বেশি তা বলা যাবে না। সব মিলিয়ে দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান খুব একটা বাড়তি উত্তাপ ছড়ায়নি। শেষ পর্যন্ত বিএনপির নির্বাচনে থাকার বিষয়টিকে এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

কেমন হলো দলীয় প্রতীকে প্রথম বারের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, অন্য সময়ের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সঙ্গে এবারের নির্বাচনের পার্থক্য অনেক। তবে নির্বাচনের মূল্যায়ন এই মুহূর্তে নয়। তিনি বলেন, এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে পৌরনির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। শেষ পর্যন্ত বিএনপি নির্বাচনে থেকেছে এটাই সবচেয়ে ইতিবাচক দিক।

পৌর নির্বাচনের ইতিহাস ॥ বেঙ্গল মিউনিসিপ্যাল ইম্প্রুভমেন্ট এ্যাক্টের মাধ্যমে ১৮৬৪ সালে অবিভক্ত ভারতের পূর্ববঙ্গের ঢাকা, চট্টগ্রাম ও যশোরে প্রথম পৌরসভা স্থাপিত হয়। পৌরসভাগুলোতে প্রথম নির্বাচনের প্রবর্তন করা হয় ১৮৭৩ সালে। ১৮৭৬ সালের পৌর আইনে পৌরসভাগুলো চার ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়। ১৮৬৪ সালের পৌরসভাগুলোকে প্রথম শ্রেণীর, ১৮৬৮ সালের আইনে প্রতিষ্ঠিত পৌরসভাগুলোকে দ্বিতীয় শ্রেণীর, ১৮৫৬ সালের আইনে প্রতিষ্ঠিত পৌরসভাগুলোকে ইউনিয়ন এবং ১৮৫০ সালের আইনে প্রতিষ্ঠিত পৌরসভাগুলোকে স্টেশনের মর্যাদা দেয়া হয়। এরপর ১৯৩২ সালে আরও একটি পৌর আইন পাস করা হয়। ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এবং ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের কারণে পৌর প্রশাসন ও আর্থিক ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ে। পূর্ববঙ্গে (সিলেটসহ) ৫৬টি পৌরসভা পড়েছিল। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় আসার পর চেয়ারম্যান, ভাইস- চেয়ারম্যান ও কমিশনার পৌরবাসীর ভোটে নির্বাচিত হওয়ার বিধান চালু করা হয়। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান ক্ষমতা দখলের পর সকল পৌরসভার কমিটি ভেঙ্গে দেয়া হয়।

দেশ স্বাধীনের পর সকল পৌরসভার কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়। ১৯৭৩ সালে নতুন আইনে পৌরসভার চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যান ও কমিশনারগণ ভোটে নির্বাচনের বিধান চালু করা হয়। ১৯৭৭ সালে পৌর অর্ডিন্যান্সে ভাইস-চেয়ারম্যান পদ তুলে দেয়া হয়। কমিশনারের সংখ্যা পৌরসভার আয়তন ও জনসংখ্যার ভিত্তিতে বিন্যাস করা হয়। ১৯৯৯ সালে সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড থেকে একজন করে মহিলা কমিশনার নির্বাচনের বিধান করা হয়। বিগত তত্ত্বাবধায়কের আমলে পৌরসভার চেয়ারম্যানদের পদবি মেয়র এবং কমিশনারদের কাউন্সিলর করা হয়। এ বছর প্রথম দলীয় মনোনয়ন ও প্রতীকে মেয়র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, ২০০৮ সালের ৯ পৌরসভা নির্বাচনে সর্বোচ্চ ৯৩ শতাংশ ভোট পড়েছিল। ২০১১ সালে চার ধাপের পৌর ভোটে বাক্সে পড়েছিল ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ ভোট। নির্বাচনে অংশ নেয়া ১৪ দলের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের পক্ষ থেকে তেমন কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ২০ দলের শরিকদের মধ্যে কেউ কেউ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সমালোচনায় মুখর ছিলেন।

১৯৭৩ সাল থেকে ২০১৪ ॥ স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত দশটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব নির্বাচনে ধারাবাহিকভাবে কোন দলই ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি। সময়ের কারণে পরিবর্তন হয়েছে রায়। অর্থাত একেক দল একেক সময় মানুষের সমর্থন পেয়েছে। ১৯৭৩ সালের সাত মার্চ ৩০০ আসনে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তখন ২৯৩টি আসনে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) একটি, বাংলাদেশ জাতীয় লীগ একটি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বাকি পাঁচ আসনে জয় পায়। ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি আওয়ামী লীগ। তখন ২০৭টি আসনে জয় পায় বিএনপি। আওয়ামী লীগ ৩৯টিতে, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ২০টি, জাসদ আট, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ (মিজান) ২টি, ন্যাপ (মোজাফফর) ১টি, বাংলাদেশ গণফ্রন্ট ২টি, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল ১টি, বাংলাদেশ জাতীয় লীগ ২টি, জাতীয় একতা পার্টি ১টি, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আন্দোলন একটি আসনে বিজয়ী হয়। বাকি ১৬ আসনে বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। ১৯৮৬ সালের সাত মে অনুষ্ঠিত তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ১৫৩, আওয়ামী লীগ ৭৬, জামায়াত ১০, স্বতন্ত্র ৩২ ও অন্যান্য দল মিলিয়ে বাকি ২৯ আসনে জয় পায়।

১৯৮৮ সালের তিন মার্চ অনুষ্ঠিত চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ২৫১, স্বতন্ত্র ২৫ ও বাকি ২৪ আসনে অন্যান্য দলের প্রার্থীরা জয় পায়। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ১৪০, আওয়ামী লীগ ৮৮, জাতীয় পার্টি ৩৫, জামায়াত ১৮ ও অন্যান্য ১৯ আসনে জয় লাভ করে। ১৯৯৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ৬ষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একতরফা ভাবে ৩০০ আসনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে বিএনপি। তবে এ নির্বাচন টেকেনি। আন্দোলনের মুখে পতন হয় সরকারের। তখন একই বছরের ১২ জুন ফের অনুষ্ঠিত হলো ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৪৬, বিএনপি ১১৬, জাতীয় পার্টি ৩২, অন্যান্য ৬। ২০০১ সালের এক অক্টোবর অনুষ্ঠিত ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ১৯৯, আওয়ামী লীগ ৬২, জাপা ১৪, জামায়াত ১৭, স্বতন্ত্র ৬ ও অন্যান্য দলের প্রার্থীরা ২টি আসনে জয় পায়। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৩০, বিএনপি ৩০, জাতীয় পার্টি ২৭, জামায়াত ২, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা চারটি আসনে জয় লাভ করে। সর্বশেষ ২০১৪ সালের পাঁচ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়নি বিএনপি। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৩৪ আসনে জয় পায়। এছাড়া জাতীয় পার্টি ৩৪, ওয়ার্কার্স পার্টি ৬, জাসদ ৫, জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) ২, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন ২, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট ১ ও ১৫টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয় পায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে সেনাবাহিনী ক্ষমতায় থাকলেও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে বেশ কয়েকটি। প্রতিটি নির্বাচনে জয় পরাজয় নির্ভর করেছে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের কর্মকান্ড এমনকি অবস্থানের ওপর। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো ১৯৭২ সালের পর মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়া আওয়ামী লীগকেও ক্ষমতায় আসার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। যেসব দল ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে পেরেছে তারাই নির্বাচিত হয়েছে। তাই গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় যে কোন দলকে ক্ষমতায় যেতে হলে ভোটারদের আস্থা অর্জন বিকল্প নেই বলেও মনে করেন তারা।

এই মাত্রা পাওয়া