২১ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নাচ-গান আর বিচ গেমসে মুখরিত বালিয়াড়ি

নাচ-গান আর বিচ গেমসে মুখরিত বালিয়াড়ি
  • কক্সবাজারে মেগাবিচ কার্নিভ্যালের দ্বিতীয় দিন

এইচএম এরশাদ, কক্সবাজার ॥ পর্যটন নগরী কক্সবাজারে কার্নিভ্যালের দ্বিতীয় দিনেও (শুক্রবার) লাখো পর্যটকের পদভারে মুখরিত ছিল বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছেদ্য সৈকত। পর্যটন মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ও বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির যৌথ আয়োজনে তিন দিনের এই মহোৎসবে নাচ গান আর বিচ গেমসে উচ্ছ্বসিত সৈকত বালিয়াড়ি। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা পর্যটক ছাড়াও এতে অংশ নিচ্ছেন বিদেশী পর্যটকরাও। ইংরেজী নববর্ষের প্রথম দিনে বিচ কার্নিভ্যালের সকালটা শুরু হয় রাখাইন তরুণীদের নূপুরের ছন্দে। এরপর গানে গানে আনন্দে মাতোয়ারা সকলে। দুপুর গড়াতেই সমুদ্র আকাশ অধিকার করে নেয় রং-বেরঙের শত শত ঘুড়ি আর ঘুড়ি। বালুকা বেলায় বালু দিয়ে বানানো ষোলটি ভাস্কর্য, ঐতিহ্যবাহী বলীখেলা, বিচ ভলিবল, বিচ ক্রিকেট, বিচ ফুটবল, হট এয়ার বেলুন, কাবাডি, সাইক্লিংসহ নানান জলক্রীড়ায় মেতে উঠেন পর্যটকরা। আর কার্নিভ্যালে আসা ভিনদেশী পর্যটকদের জন্য নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অনুষ্ঠানে সঙ্গীত শিল্পী ফকির সাহাবউদ্দিন, শফি ম-ল, ভাইকিংস, চিরকুট, আঁখি আলমগীর, ব্যান্ড সঙ্গীত এলআরবি আয়ুব বাচ্চু গান পরিবেশন করে দর্শকদের মাতিয়ে তুলেন। ৩১ ডিসেম্বর জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে সৈকতে শুরু হওয়া টানা তিনদিনের এ কার্নিভ্যাল শেষ হবে আজ ২ জানুয়ারি। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বর্ণাঢ্য উদ্বোধন হওয়ার পর আন্তর্জাতিক এই মেগা বিচ কার্নিভ্যাল ১ জানুয়ারিও বর্ণাঢ্য উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে এ কার্নিভ্যাল ডেস্টিনেশন। মূলত বিশ্ব দরবারে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সৌন্দর্যগুলো আরও ভালভাবে জানান দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক এই মেগা-বিচ কার্নিভ্যাল আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে ‘মেগা বিচ কার্নিভ্যাল ডেস্টিনেশন-২০১৫’ উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, বিদ্যুত-জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব খোরশেদ আলম চৌধুরী ও পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান ড. অপরূপ চৌধুরী।

আন্তর্জাতিক এই মেগা বিচ কার্নিভ্যাল অনুষ্ঠানে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর কক্সবাজার সৈকতে এ ধরনের আরও বেশি অনুষ্ঠান হওয়া দরকার। এতে কক্সবাজারের সৌন্দর্যগুলো আরও ভালভাবে জানবেন বিদেশের পর্যটকরা। বিশ্বে আরও বেশি পরিচিতি অর্জন করবে সৈকত রানী কক্সবাজার। দ্বিতীয় দিনে রাখাইন তরুণীদের নৃত্য দেখে উপস্থিত দেশী-বিদেশী পর্যটকগণ রীতিমত মুগ্ধ। কার্নিভ্যালে তৃতীয় দিন সকাল সাড়ে ৬টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত রয়েছে নানান অনুষ্ঠানমালা। শেষ দিনের অনুষ্ঠানে দেশের নামকরা ব্যান্ডশিল্পী আয়ুব বাচ্চু, আঁখি আলমগীর, ফকির সাহাবউদ্দিন, শফি ম-ল, ব্যান্ড সঙ্গীত ভাইকিংস, চিরকুট, বারী সিদ্দিকী, আতিক হাসান, রাজিব, মিলা, ঝিলিক, রিশীতাসহ অন্য শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও রয়েছে।

এদিকে কক্সবাজার জেলাবাসী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার মধ্য দিয়ে ৬০ বছর পূর্তি পালন করেছে। ১৯৫৬ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকারের শিল্পমন্ত্রী থাকাকালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কক্সবাজারকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে চালু করেছিলেন। ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি (শুক্রবার) তার ৬০ বছর পূর্তি হয়েছে।