২০ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিদ্যুত ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে নীতিমালা করবে সরকার

  • স্বয়ংক্রিয় পন্থায় দর বৃদ্ধি পাবে

রশিদ মামুন ॥ বিদ্যুত এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে পৃথক নীতিমালা করতে চায় সরকার। নির্ধারিত সময় পর পর স্বয়ংক্রিয় পন্থায় দর বৃদ্ধি পাবে। এক্ষেত্রে বিতরণ এবং উৎপাদনকারী কোম্পানি দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) যেতে হবে না। বিদ্যুত বিভাগ বলছে বিভিন্ন দেশে এমন পদ্ধতি রয়েছে বার্ষিক স্ফিতি হিসাব করে ওইসব দেশে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি করা হয়।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে কথা বলে এক্ষেত্রে দুই ধরনের বক্তব্য পাওয়া গেছে। কমিশনের একটি অংশ মনে করছে এতে কমিশনের ক্ষমতা খর্ব হবে। আগের মতোই বিষয়টি সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। অথচ বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন-২০০৩ অনুযায়ী এমন নীতি করার কোন সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে আইনের সংশোধনী প্রয়োজন পড়বে। কমিশনের অন্য অংশ মনে করছে বাংলাদেশে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের ধারণা এসেছে যাদের কাছ থেকে সেখানেও নতুন এই পদ্ধতির প্রবর্তন হয়েছে। কাজেই আমাদের এখানে এমনটা করতে কোন সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত দফায় বিদ্যুত এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কমিশনের বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ আমলে নেয়া হয়নি। কমিশনের বিশেষজ্ঞ কমিটি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করার বিপক্ষে মতামত দিলেও কমিশন ঠিকই গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করেছে। যদি বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ না মানা হয় অথবা শুনানিতে উত্থাপিত আপত্তি আমলে নেয়া না হয় তাহলে শুনানির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে কিনা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। যদিও আইন অনুযায়ী দেশে বিদ্যুত এবং জ্বালানির মূল্য সমন্বয়ে সরকার সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারে না। বিইআরসি আইন-২০০৩ অনুযায়ী কমিশনের কাছে বিতরণ কোম্পানিগুলো মূল্য সমন্বয়ের প্রস্তাব জমা দেয়। কমিশন প্রস্তাব গ্রহণের পর গণশুনানির ব্যবস্থা করে। একই সঙ্গে কমিশন প্রস্তাব যাচাই বাছার করার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে। বিশেষজ্ঞ কমিটি প্রতিটি কোম্পানির রাজস্ব আদায় এবং ব্যয় বিশ্লেষণ করে ব্রেক ইভেনে (লাভ-ক্ষতির সমতা বিন্দু) পর্যন্ত দাম বৃদ্ধি করার সুপারিশ করে। কমিশন শুনানির ৯০ কার্য দিবসের মধ্যে আদেশ দেয়। যদিও এই আদেশ লঙ্ঘনের পন্থা আইনেই দেয়া রয়েছে। আইনে সকল ‘তথ্য প্রাপ্তির ৯০ দিনের’ মধ্যে শর্ত জুড়ে দেয়ায় কমিশন সুযোগ নিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে সরকারের সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই কমিশন দাম বৃদ্ধি করে। ক্ষেত্রবিশেষ সরকার কতটুকু ভর্তুকি দিতে পারবে তার উপর নির্ভর করে দাম বৃদ্ধি।

বিষয়ে বিদ্যুত জ্বালানি এবং খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বলেন, নির্ধারিত সময় পর পর কোন প্রক্রিয়ায় জ্বালানির দর সমন্বয় করা যায় সে বিষয়টি ভাবছে সরকার। এ লক্ষ্যে শীঘ্রই পরামর্শক নিয়োগ দেয়া হবে বলে ওই বৈঠকে জানান তিনি। নীতিমালা করা উচিত যে নীতিমালার আলোকে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বিদ্যুত জ্বালানির দর স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় হবে বলে মনে করেন তিনি।

দেশে অন্যান্য ক্ষেত্রে সরকারী সেবাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে মূল্য নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেই। টেলিফোন এবং মোবাইল বিল নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কোন ব্যবস্থা নেই। এ খাত নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি কমিশন রয়েছে তারা দাম সমন্বয়ে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করে না। আবার ওয়াসার পানি ক্ষেত্রে প্রত্যেক বছর নির্দিষ্ট পরিমাণ দাম বাড়ে। সরকারী হাসপাতালের সেবার দর সমন্বয়ের কোন ব্যবস্থা নেই। রেলওয়ের ভাড়াও বাড়ে সরকারের আদেশে। এসব খাতে বিদ্যুতের মতো মূল্য সমন্বয়ের কোন ব্যবস্থা নেই। এমনকি দেশের পেট্রোলিয়াম পণ্যের দামও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না কমিশন। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমার ফলে সাধারণ মানুষের যে সুফল পাওয়ার কথা তার কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না।

জানতে চাইলে বিদ্যুত বিভাগের একজন পদস্থ কর্মকর্তা জানান, স্বয়ংক্রিয়ভাবে দাম বৃদ্ধির বিষয়টি অনেক দিন ধরে আলোচনা হচ্ছে। তবে সুনির্দিষ্টভাবে এখনও কিছু হয়নি। তিনি বলেন, কমিশনের একজন সদস্য এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে সরকারকে পরামর্শ দিয়ে আসছেন। তবে কমিশনের শীর্ষ অন্য ব্যক্তিরা তার এই মতের বিরুদ্ধে। কমিশন মনে করছে দাম বৃদ্ধির এখন যে প্রক্রিয়া তা কমিশনের হাত থেকে চলে গেলে ক্ষমতা খর্ব হবে। কমিশন দাম বৃদ্ধি আর লাইসেন্স প্রদান ছাড়া আপাত দৃষ্টিতে কিছু করে না। আইনে বিভিন্ন বিষয়ে নজরদারির উল্লেখ থাকলেও কমিশন ওইসব ক্ষেত্রে কোন কাজ করতে পারেনি বা করছে না বলে জানান তিনি।