২০ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অস্ট্রেলিয়া কার্গো পণ্য নেয়া বন্ধ করার পরও পদক্ষেপ নেই বিমানের

  • মাসে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সংস্থাটি

আজাদ সুলায়মান ॥ হঠাৎ নিরাপত্তার তুচ্ছ অজুহাত দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে কার্গো (রফতানি পণ্য) পণ্য নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। গত ১৯ ডিসেম্বর বিমানের কার্গো ভিলেজ থেকে কোন পণ্য যাচ্ছে না অস্ট্রেলিয়ায়। এতে মাসিক কোটি কোটি টাকার ব্যবসা থেকে বঞ্চিত হলেও বিমানের শীর্ষ কর্তাদের নেই কোন তৎপরতা। কিভাবে সেটা চালু করা যায়, সে নিয়ে নেই বিমানের মাথাব্যথা। যে সমস্যার অজুহাত দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়া বিমান থেকে কার্গো নেয়া বন্ধ করেছে, সেটাও খতিয়ে দেখার জন্য তৎপরতা নেই বিমানের। অথচ বিমান সূত্র বলছে, অস্ট্রেলিয়া যে অজুহাত দেখিয়ে কার্গো বন্ধ রেখেছে, সেটা পরিপূরণ করা খুব একটা জটিল বা কঠিন কিছু নয়। শুধু বিমান ও সিভিল এভিয়েশনের সদিচ্ছার অভাবের কারণেই এ জটিলতার অবসান হচ্ছে না। প্রশ্ন করা হলে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইল হেউড বলেছেন, কার্গোর নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য প্রয়োজনে আরও নতুন জনবল নিয়োগ ও যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা যেতে পারে। এ নিয়ে গাফিলতি করা ঠিক হবে না। অর্গানোগ্রাম ও জনবলের কাঠামো চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রয়োজনে জরুরীভিত্তিতে হলেও জনবল নিয়োগ দিতে হবে।

এদিকে অস্ট্রেলিয়া পণ্য নেয়া বন্ধ করায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিজিএমই নেতৃবৃন্দ জানান, হঠাৎ এ ধরনের সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছে এ খাত। তৈরি পোশাক খাতের একটা বড় অংশ অস্ট্রেলিয়াতে রফতানি করা হয় জিরো ট্যারিফে। প্রতিবছর অস্ট্রেলিয়াতে শত শত কোটি টাকার পোশাক রফতানি করা হয়। এর সবটাই যায় আকাশ পথে বিমানের কার্গো থেকে। গার্মেন্টেস পণ্যের নমুনা জরুরীভিত্তিতে আকাশ পথে অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর সুযোগ বন্ধ হওয়ায় বড় ধরনের দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে এ খাত।

বিমান সূত্র জানায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ দিয়ে বাংলাদেশ থেকে প্রতিমাসে বিপুল পরিমাণ পণ্য রফতানি করা হতো অস্ট্রেলিয়ায়। কাতার, এমিরেটস, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সসহ বেশ কয়েকটি বিদেশী এয়ারলাইন্স প্রতিদিনই ঢাকা থেকে সুপরিসর কার্গো উড়োজাহাজ ব্যবহার করে পণ্য নিত। এর মধ্যে প্রধান পণ্য তৈরি পোশাক, পোশাকের নমুনা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজ দলিলপত্র ও ডকুমেন্টস। এতে বিমান বড় ধরনের রয়্যালিটি পেত। কিন্তু হঠাৎ পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই গত ১৯ ডিসেম্বর অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ, ইয়েমেন, নাইজেরিয়াসহ ৭টি দেশ থেকে কার্গো আমদানি বন্ধ করে দেয়। এখন শুধু জরুরীভিত্তিতে বাংলাদেশ থেকে মরদেহ ও ২ গ্রাম ওজনের কূটনৈতিক চিঠিপত্রাদি নিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। কি কারণে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সে সম্পর্কে বিমান ও সিভিল এভিয়েশন মুখ খুলছে না। তবে এ দুটো প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, প্রয়োজনের জনবল ও যন্ত্রপাতির অভাবের দরুন বিমানবন্দর এবং কার্গো হাউসের নিরাপত্তা ও সেবায় যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। এটা দেখার কেউ নেই। এটা কঠিন কোন কাজ বা সিদ্ধান্ত নয়। ইচ্ছে করলে এক মাসের মধ্যেই এ দুটো শর্ত পূরণ করা সম্ভব।

এ বিষয়ে সিভিল এভিয়েশন ও বিমানের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অস্ট্রেলিয়া নিরাপত্তার যে অজুহাত দেখিয়ে কার্গো নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে সেটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। নিরাপত্তার অভাব রয়েছে এ অভিযোগ আদৌ সত্য নয়। কারণ গত তিন মাস ধরেই ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট ডিপার্টমেন্ট একাধিকবার হয়রত শাহজালাল বিমানবন্দর ও বিমানের কার্গো শাখা বার বার পরিদর্শন করেন। তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করে। সেটা বিবেচনায় রেখে ইতোমধ্যে বিমান ও সিভিল এভিয়েশন বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়। এখন বিমানবন্দর কার্গো শাখার নিরাপত্তা নিশ্চিদ্র বলা যায়। এই যখন অবস্থা তখন অস্ট্রেলিয়ার অভিযোগ-হাস্যকর ছাড়া আর কিছুই নয়। উদাহরণ দেয়ার মতো তো চোখের সামনেই রয়েছে বিমানের ঢাকা লন্ডন সরাসরি ফ্লাইট। এছাড়া ইউরোপের অনেক দেশেই এখনও বিমানের কার্গো ভিলেজ থেকে পণ্য রফতানি হচ্ছে। সেগুলোতে যদি নিরাপত্তার আশঙ্কা না থাকে তাহলে শুধু অস্ট্রেলিয়া কেন হঠকারি সিদ্ধান্ত নিয়েছে?

এসব বিষয়ে অনুসন্ধান করে যায়, অস্ট্রেলিয়ার সন্তুষ্টি অর্জন করাটা খুব বেশি কষ্টকর নয়। যেমন নিরাপত্তা ও সেবা নির্বিঘœ করতে হলে কিছু যন্ত্রপাতি ক্রয় ও প্রয়োজনীয় জনবল মোতায়েন করা গেলেই এ সঙ্কট কাটানো সম্ভব।

এ সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে বিমানের আমদানি ও রফতানি কার্গোতে তিন শিফটে মোট ২৩৪ জন কর্মরত আছেন। এ দুটো ইউনিটে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে হলে কমপক্ষে আরও ২ শতাধিক লোডার দরকার। বার বার লোক নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হলে বিমান পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রতিনিধিরা তা আমলে উল্টো নিচ্ছেই না। উল্টো লোডারের কাজ আনসার দিয়ে করানোর মতো তুঘলকি সিদ্ধান্ত নেয়। জানা যায়, ব্রিটিশ টিম বার বার নিরাপত্তা ও সেবা জোরদার করার জন্য পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল ও যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা করার তাগিদ দিলে বিমান ও সিভিল এভিয়েশন এ সমস্যা কিছুটা অনুধাবন করতে সক্ষম হয়। কিন্তু মাসখানেক আগে বিমানের পর্ষদের সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, কার্গোতে জরুরী জনবলের ঘাটতি মেটাতে আনসার নিয়োগ করতে হবে। এ সিদ্ধান্ত শুনে বিমানে একদিকে যেমন ক্ষোভের সঞ্চার হয়-তেমনি হাসিরও খোরাক হয়।

এ সম্পর্কে বিমানের দু’জন পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনকণ্ঠকে বলেন, পরিচালনা পর্ষদের যে সব ব্যক্তি এ ধরনের সিদ্ধান্ত দেন, তারা জীবনে কোনদিন কার্গো পরিদর্শন করেননি। কার্গোতে কাজের পরিবেশ ও ধরন কি, আর সেটা আনসারের দ্বারা আদৌ সম্ভব কিনা সেটাই জানা নেই পর্ষদ সদস্যদের। এভিয়েশনের নিরাপত্তা আর লোডারের কাজ সম্পূর্ণ আলাদা। সাধারণ কাজের চেয়ে এর জব-নেচার আলাদা। বিমানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এখন পর্ষদ সদস্যদের যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। তাদের প্রশ্ন- এতটুকু সহজ বিষয় বোঝার যোগ্যতা যাদের নেই, তাদের হাতে বিমান কতটা নিরাপদ?

উদাহরণ টেনে এক পরিচালক বলেন, কিছুদিন আগে বিমানের নিরাপত্তার জন্য লোক নিয়োগ দেয়া হয়। হঠাৎ কার্গো লোক দরকার হলে ওই নিরাপত্তা কর্মীদের সেখানে পাঠানো হয়। এতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। নিরাপত্তা বিভাগের চাকরি মোটামুটি যথেষ্ট সম্মান ও মর্যদাসম্পন্ন হওয়ায় ওই নিম্নপদ জেনেও উচ্চ শিক্ষিত রুচিসম্পন্ন যুবকরাও তাতে আগ্রহ ভরে যোগ দেয়। কিন্তু তাদের যখন ইচ্ছার বিপরীতে কার্গোতে লোডার হিসেবে বদলি করা হয়, তখন তাদের মাঝে হতাশাও নেমে আসে। উচ্চশিক্ষিত এসব যুবকরা ভারি মালামাল বহন করার কাজে কিছুতেই মনোনিবেশ তো করতে পারছেই না, উল্টো কাজে ফাঁকি দেয়ার জন্য মন খারাপ করে বসে থাকে। কারণ লোডারের কাজ করার জন্য পরিশ্রমী ও শক্তিমান দক্ষ শ্রমিক দরকার। এ কাজের বিপরীতে উচ্চশিক্ষিত বিলাসী যুবকদের নিয়োগ দেয়া একেবারেই বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়।

মূলত এসব কারণে কার্গোর কাজ মারাত্মকভাবে বিঘিœত হলেও বিমানের শীর্ষ কর্তাদের টনক নড়ছে না। এখনও বিমানের শীর্ষ কর্তারা আবার আনসার নিয়োগ দেয়ার জন্য পাঁয়তারা চালাচ্ছে। আনসার নিয়োগের পরিণতি যে

এই মাত্রা পাওয়া