২১ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফেসবুকের ফ্রি বেসিক্স স্কীম স্থগিত

ভারতীয়দের বিনামূল্যে সীমিতসংখ্যক ইন্টারনেট সার্ভিস প্রদানে ফেসবুকের গৃহীত উদ্যোগ সমস্যার কবলে পড়েছে। মার্কিন প্রতিষ্ঠানটির ভারতীয় অংশীদার মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠানকে এই ফ্রি বেসিক্স প্রদানের কাজ স্থগিত রাখতে বলে দিয়েছে ভারতীয় টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ড্যাটা ফি ভারতে অপেক্ষাকৃত ব্যয়বহুল। এ অবস্থায় ফ্রি বেসিক্স প্রদানের এই উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হলো।

তবে ফ্রি বেসিকস সার্ভিসের সমালোচকরা বলেন যে, এমন ব্যবস্থা নেটের নিরপেক্ষতা নীতিমালার পরিপন্থী। তারা বলেন যে, অন্যদের অপেক্ষাকৃত সন্তান ও দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা প্রদান করে কিছু অনলাইন সার্ভিসকে পক্ষপাতিত্ব করা ড্যাটা প্রোভাইডানদের উচিত নয়। এই স্কীমে সহায়তাদানকারী মোবাইল নেটওয়ার্ক রিলায়েন্স কমিউনিকেশনসের এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে তারা ভারতের টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেনে চলবেন। মুখপাত্র বিবিসিকে বলেন, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ (টিআরএআই) বিস্তারিত সকল দিক বিবেচনায় নিয়ে সুস্পষ্টভাবে অনুমোদন জানিয়ে না দেয়া পর্যন্ত বাণিজ্যিকভিত্তিতে ফ্রি বেসিক্স চালু করার কাজ স্থগিত রাখা হবে। মুখপাত্র আরও বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা শুধু এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন যে তারা ফ্রি বেসিক্স আকারের খুঁটিনাটি ও অন্তর্নিহিত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে চান। তবে এর বেশি আর কিছু বলেননি। অবশ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া একটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে নিশ্চিত করেছে যে নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তটি বাস্তবিকই পেটের নিরপেক্ষতা সংক্রান্ত বিতর্কের সঙ্গে সম্পর্কিত। সূত্রটি বলেছে যে, একজন টেলিকম অপারেটরকে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের বিষয়বস্তুর জন্য ভিন্ন ভিন্ন মূল্য আদায় করতে দেয়া উচিত কিনা সে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্নটির উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত সে কাজটা চালিয়ে যেতে দেয়া ঠিক হবে না। ফেসবুক বলেছে যে তারা এই স্কীমের পক্ষে লরি কড়া চালিয়ে যাবে। এক মুখপাত্র বলেন ভারতীয় জনগণকে ইন্টারনেট সংযোগ পেতে সাহায্য করার জন্য আমরা ‘ফ্রি বেসিক্স’ প্রদানের ব্যাপারে এবং রিলায়েন্স ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।

ইন্টারনেটের সুবিধা জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়ার উপায় হিসেবে ফেসবুক ২০১৩ সালে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোতে বেশ কিছু মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ইন্টারনেট ডট অর্গ চালু করে। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এ্যাপ যার মাধ্যমে নির্বাচিত সার্ভিসগুলোর সুবিধা পাওয়া যায়, এ বছর সেটির নতুন নামকরণ করা হয় ‘ফ্রি বেসিক্স’ এর কনটেন্টের মধ্যে রয়েছে নির্বাচিত স্থানীয় সংবাদ, ‘আবহাওয়ার পূর্বাভাস, বিবিসি, উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন স্বাস্থ্য সার্ভিসের পেজ। ৩৬টি দেশে এই ফ্রি বেসিক্স দেয়া হয়। ফেসবুক বলেছে যে এর মাধ্যমে দেড় কোটিরও বেশি লোককে অনলাইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে তাদের বিশ্বাস যারা অন্য অবস্থান ইন্টারনেট ব্যবহার করত না। রিলায়েন্স গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এই স্কীম অফার করতে শুরু করে এবং তারপর নবেম্বরে সব গ্রাহকের ক্ষেত্রে স্কীমটি সম্প্রসারিত করে। তবে তার জন্য সমালোচনারও সম্মুখীন হতে হয়েছে বিলায়েন্সকে। নবীন প্রতিষ্ঠানগুলো অভিযোগ করে ‘যে’ তাদের এই স্কীমের অন্তর্ভুক্ত না করায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকির মুখে পড়েছে। গত এপ্রিল মাসে বেশ কিছু বৃহত্তর গোষ্ঠী যারা প্রথমদিকে এই স্কীমের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল তারা নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়। কারণ হিসেবে তারা ন্যায়সঙ্গত ও সুষম ক্ষেত্র তৈরি করতে এই স্কীমের ব্যর্থতা সম্পর্কে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে। গ্রুপগুলোর মধ্যে রয়েছে বৃহৎ মিডিয়া গোষ্ঠী টাইমস গ্রুপ এবং ট্রাভেল বুকিং সাইট ক্লিয়ারট্রিপ।

এ জাতীয় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা অপাদনের চেষ্টা করতে গিয়ে ফেসবুক বলেছে তারা আরও কিছু সার্ভিসকে যোগ দেয়ার সুযোগ দেবে। তবে কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ বলেছেন, বিনামূল্যে গোটা ইন্টারনেটের সুযোগ দেয়া টেকসই ব্যাপার হবে না। মোবাইল নেটওয়ার্কগুলোর আকর্ষণের আংশিক কারণ হলো তারা আশা করে যে, ব্যবহারকারীরা ইন্টারনেটের সুফল দেখতে পাবে এবং পুরো ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য অর্থ দিতে চাইবে। বিগত কয়েক সপ্তাহে ফেসবুক বিলবোর্ডে এ্যাড দিয়ে এবং সংবাদপত্রে পুরো পৃষ্ঠাজুড়ে বিজ্ঞাপন ছাপিয়ে তার প্রচারাভিযান জোরদার করে তুলেছিল। যাই হোক, ফ্রি বেসিক্সের ক্ষেত্রে নেটের নিরপেক্ষতার ওপর ভারতীয় টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের শুনানি জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হবে।