১৮ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ধূমপান প্রতিরোধে...

ধূমপায়ী শিক্ষার্থীরা মেডিক্যালে ভর্তি হতে পারবে না বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সম্প্রতি যে ঘোষণা দিয়েছেন তা এক কথায় সাধুবাদযোগ্য। মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হতে হলে অধূমপায়ী হিসেবে শিক্ষার্থীকে সনদপত্রও জমা দিতে হবে। ধূমপান বা তামাকের ব্যবহারজনিত পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এমন ঘোষণা সময়ের চাহিদা ও দাবি মেটাতে অনুসরণযোগ্য পদক্ষেপ বলে বিবেচিত হবে নিঃসন্দেহে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এ ঘোষণা কার্যকর হবে চলতি বছর থেকে। যদি এটা বাস্তবায়িত হয় তবে জনস্বাস্থ্যের উন্নতিতে কিছুটা হলেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা যায়। এতে একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর তামাক ও ধূমপান বর্জন বা সামাজিক প্রতিরোধ অভিযানে এক ধাপ এগিয়ে যাবে। একথা অনস্বীকার্য যে, সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত ও জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন নির্ভর করে সিংহভাগই আজকের মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের ওপর।

ধূমপান বা তামাকজাতদ্রব্যের ব্যবহার দেশে ক্রমান্বয়ে বাড়ছে আশঙ্কাজনকহারে। দেশের শতকরা ৪৩ ভাগ মানুষ ধূমপান ও তামাকজাতদ্রব্যে আসক্ত। বাংলাদেশে প্রতিবছর ৫৭ হাজার মানুষ শুধু মৃত্যুবরণ করছে তামাক ও ধূমপানজনিত কারণে। পঙ্গু ও অঙ্গহানির শিকার হয় ৩ লাখ ৮২ হাজার জনের মতো। সংশ্লিষ্ট গবেষকরা আশঙ্কা করছেন আগামী ২০৩০ সালে ধূমপানই হতে পারে মৃত্যুর একমাত্র কারণ। জনস্বাস্থ্যের এ চিত্র নিশ্চয়ই কোন শুভ লক্ষণ নয়। মনে রাখা দরকার, বিশ্বের ৮০ শতাংশ ধূমপায়ী মধ্য ও নিম্ন আয়ের দেশে বাস করে। এ বাস্তবতায় বাংলাদেশও এর আওতায় পড়ে। সামগ্রিকভাবে ধূমপান ও তামাকজাতদ্রব্যের ব্যবহার এবং এ জনিত স্বাস্থ্যগত ও আর্থিক ক্ষতির চিত্র ভয়াবহ।

একথা প্রমাণিত যে, ধূমপান প্রত্যক্ষ ক্ষতির পাশাপাশি পরোক্ষ ক্ষতিও করে। অর্থাৎ ধূমপায়ীর সঙ্গে বা নিকটবর্তী যারা থাকেন তারাও ক্ষতির শিকার হন। সামগ্রিক বিষয় বিবেচনায় রেখে সরকার ২০০৫ সালে আইনের মাধ্যমে প্রকাশ্যে সিগারেট, বিড়ি, চুরুট বা এ জাতীয় পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার-প্রকাশ নিষিদ্ধ করে। তারপর ২০১৩ সালে সংসদে ‘ধূমপান ও তামাকজাতদ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ’ বিল পাস করা হয়। সরকারের এ উদ্যোগ জনবান্ধব হলেও সাধারণ মানুষ এই তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সম্পর্কে তেমন সচেতন নয়। সচেতন নয় বলেই যেখানে-সেখানে প্রকাশ্যে ধূমপান করে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। জনসমাগমস্থল, গণপরিবহন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা এসবের নিকটবর্তী স্থানে ধূমপান নিষিদ্ধ ও জরিমানার ব্যবস্থা থাকলেও কেউ তা মানছে না। প্রকাশ্যে এমন আইন অমান্যের ব্যাপার ঘটলেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিস্পৃহতার কারণে ব্যাপারটি ক্রমাগত বেড়েই চলেছে, যা কারও কাম্য নয়।

ধূমপান বিষয়ে সরকারী উদ্যোগের পাশাপাশি কিছু বেসরকারী সংস্থা ও সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে। প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল। বিশেষত, ধূমপান বিষয়ে ক্ষতি ও সংশ্লিষ্ট আইন সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তোলা বেশি জরুরী। এজন্য গণসচেতনতার বিকল্প নেই। এ ব্যাপারে আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা নেয়া যেতে পারে। শিক্ষা কার্যক্রমে কৈশোর বা বয়ঃসন্ধিকালীন পাঠ্যপুস্তকে ধূমপান ও তামাকজাতদ্রব্যের ক্ষতিকর বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। গণমাধ্যম বিশেষত চলচ্চিত্র, টেলিভিশন, ইন্টারনেট বা জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও এ বিষয়টি তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে।