১৭ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভারতে বিমান ঘাঁটিতে জঙ্গী হামলা

  • তিন কমান্ডো ও সন্দেহভাজন চার পাকিস্তানী সন্ত্রাসী নিহত ॥ অগ্নিপরীক্ষায় মোদির উদ্যোগ

সন্দেহভাজন পাকিস্তানী সন্ত্রাসীরা শনিবার ভোররাতে ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের পাঠানকোটের বিমানবাহিনীর ঘাঁটিতে ভয়াবহ হামলা চালায়। এর পর সংঘর্ষ শুরু হলে চার হামলাকারী ও তিন কমান্ডো নিহত এবং কয়েকজন বেসামরিক ব্যক্তি ও বিমানবাহিনীর সদস্য আহত হয়। এ ঘটনায় বড়দিনে পাকিস্তানের সঙ্গে সমঝোতা করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেয়া উদ্যোগ কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়ল। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া, হিন্দু ও জিনিউজের।

অন্তত চার থেকে পাঁচ জঙ্গী সেনাবাহিনীর পোশাকপরা অবস্থায় বিমানবাহিনীর ঐ ঘাঁটিটি ধ্বংস করার লক্ষ্যে রাত ৩-৩০ মিনিটে হামলা চালায়। তারা সন্ত্রাসী দল জৈশ-ই-মোহাম্মদের সদস্য বলে মনে করা হয়। এক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা একথা জানান।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার বিমানবাহিনীর ঘাঁটি ও চাক্কি নদীর মধ্যবর্তী এক এলাকায় সেনাবাহিনী চিরুনি অভিযান চালানোর পরপরই ঐ হামলা শুরু হয়। হামলাকারীরা নিরাপত্তা কর্মীদের কাছ থেকে তীব্র প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়। কর্মীরা কোন হামলার বিষয়ে আগ থেকেই সতর্ক ছিল বলে দিল্লীতে উচ্চ পর্যায়ের সূত্রে জানা যায়। সন্ত্রাসীরা বিমানঘাঁটিতে ঢুকতে পারেনি এবং বাইরের বড় জায়গাতেই প্রবেশ করতে পেরেছিল। সন্ত্রাসী দল ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় পর লড়াইয়ের অবসান হয়। পাঞ্জাব পুলিশের এডিজিপি এইচএস ধালন একথা জানান। চিরুনি অভিযান এখনও চলছে। এসএসপি আর কে বকশি লড়াইয়ে চার সন্দেহভাজন জঙ্গী নিহত হয় বলে জানান। তিন জওয়ানও মারা যায় এবং ছয়জন আহত হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং আবারও বলেছেন, ভারত শান্তি চায় বটে, কিন্তু সে যে কোন হামলার উপযুক্ত জবাব দেবে। তিনি সকালে বলেন, ভোররাত ৩টার দিকে পাঠানকোট বিমান ঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলা শুরু হয় এবং নিরাপত্তা বাহিনী এর জবাব দিচ্ছে। তিনি বলেন, জাতি আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী নিয়ে গর্বিত। পাক-ভারত শান্তি আলোচনা সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পাকিস্তান আমাদের প্রতিবেশী। আমরা পাকিস্তান ও আমাদের সব প্রতিবেশীর সঙ্গে শান্তি ও সুসম্পর্ক চাই।

সন্ত্রাসীরা শুক্রবার রাতে পাঠানকোটে এসপিকে তার সরকারী যানবাহনে থাকা অবস্থায় অপহরণ করেছিল এমন একই দলের সদস্য বলে আভাস পাওয়া যায়। এসপি সালবিন্দর সিং ও তার সঙ্গীদের মারধর করার পর সন্ত্রাসীরা প্রথমে এসপিকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ফেলে দেয় এবং রাতে গাড়ি নিয়ে চলে যায়। পরে তারা পাঠানকোটের কাছে গাড়িটি থেকে আরেক জনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় এবং তৃতীয় ব্যক্তির গলা কেটে দেয়। তৃতীয় জন মরা যাওয়ার ভান করলে তাকে পাঞ্জাব-হিমাচল সীমান্তে দামতাল পাহাড়ের কাছে ফেলে দেয়া হয়। পাকিস্তান সীমান্ত থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পাঠানকোট ও গুরুদাসপুর জেলায় চিরুনি অভিযান শুরু করা হয়। পুলিশ জানায়, জঙ্গীদের হত্যা করতে হেলিকপ্টার, এনএসজি কমান্ডো ও এসডাব্লিউএটি টিমগুলোকে নিয়োগ করা হয়। বাকি এক সন্ত্রাসীকে সীমিত জায়গায় অটকে রাখার চেষ্টা করা হয় যাতে সে ক্ষতিসাধন করতে না পারে। পুলিশ একথা জানায়। ঐ হামলা মোদির পাকিস্তানের সঙ্গে সমঝোতা করার চেষ্টার প্রতি প্রথম চ্যালেঞ্জ।

নয়াদিল্লীর এনডিএ সরকার কিভাবে ঐ হামলার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানায় তার দিকে বিশ্ব-সম্প্রদায় দৃষ্টি রাখবে। গত বছর জুলাই মাসে সন্ত্রাসীরা পাকিস্তান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে এসে পাঞ্জাবের গুরুদাসপুরে একই ধরনের হামলা চালিয়েছিল। কিন্তু একটি অগ্রবর্তী সামরিক ঘাঁটির ওপর চালানো সন্ত্রাসী হামলাটি গুণগত দিক দিয়ে গুরুদাসপুর হামলা থেকে খুবই ভিন্ন। কোন সামরিক স্থাপনার ওপর হামলা চালানোর ঘটনাটি কেবল নিন্দা জানিয়ে ছেড়ে দেয়া হবে না। মোদি সরকার কি কি বাস্তব পদক্ষেপ নেয় এবং শান্তি স্থাপনের নতুন প্রয়াস আগামী দিনগুলোতে কি ভাগ্য বরণ করে তা দেখার বিষয়।