২০ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শাহ আবদুল করিমের জন্মশতবার্ষিকীতে আয়োজন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ‘গাড়ি চলে না চলে না, আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম, বন্দে মায়া লাগাইছে পিরিতি শিখাইছে, বসন্ত বাতাসে সখি, কুঞ্জ সাজাও গো এ ধরনের অসংখ্য কালজয়ী গানের স্রষ্টা শাহ আবদুল করিম। বাংলা লোকসংস্কৃতির রতœভা-ার ভাটি অঞ্চল সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলাধীন ধল-আশ্রম গ্রামে ১৯১৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত লোকসঙ্গীতের এই প্রাণ পুরুষ। তার বাবার নাম ইব্রাহিম আলী ও মা নাইওরজান। বাউল সাধক তাঁর জন্ম তারিখ সম্পর্কে বলেছেন ‘মা বলেছেন জন্ম আমার ফালগুন মাসের প্রথম মঙ্গলবার’ সে অনুযায়ী তাঁর জন্মদিন ১৬ ফেব্রুয়ারি। এ বছর বাউল সাধক শাহ আবদুল করিমের জন্ম শততমবর্ষ পূর্ণ হবে। তাই বছরব্যাপী তাঁর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর জন্য গঠন করা হয়েছে শাহ আবদুল করিম জন্মশতবর্ষ উদযাপন জাতীয় কমিটি। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে শনিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়। এতে জানানো হয়, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে প্রধান উপদেষ্টা করে পাঁচ সদস্যের উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়েছে। অন্যান্য উপদেষ্টা হলেন-সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান, মানবাধিকার কর্মী এ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক সুজেয় শ্যাম। আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় বছরব্যাপী জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের উদ্বোধন হবে। প্রথম উৎসব অনুষ্ঠিত হবে ১৭, ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি সিলেটে। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকায় আয়োজন করা হবে সমাপনী উৎসব। এছাড়া দেশের যে সব স্থানে উৎসব আয়োজন করা হবে পরবর্তীতে তার তারিখ ও সময় জানিয়ে দেয়া হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কমিটির আহ্বায়ক গোলাম কুদ্দুছ, সদস্য সচিব হাসান আরিফ, যুগ্ম আহ্বায়ক ঝুনা চৌধুরী, শাকুর মজিদ, শামসুল আলম সেলিম প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কমিটির আহ্বায়ক গোলাম কুদ্দুছ। তিনি বলেন, বাঙালীর সর্বস্তরে সমানভাবে জনপ্রিয় বাউল সাধক শাহ আবদুল করিমের জন্মশতবার্ষিকী যথাযথভাবে পালন সময়ের দাবি। আমাদের সংগ্রাম সৃজনের নিরলস নির্ভীক কা-ারি এই বাউল সাধক বাংলাদেশ ও বাঙালীর গুরুত্বপূর্ণ এক সময়ের নিরীক্ষক। দ্রুত বদলে যাওয়া সমাজ ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক বিবর্তন তাঁর গানে যেমন স্পষ্টতা পেয়েছে, তেমনি লালন পরবর্তী সময়ের বাউল দর্শনের অন্যতম ধারক ও সাধক তিনি। তাঁর সংগ্রামের হাতিয়ার সঙ্গীত। ধর্মান্ধতা, ভ- রাজনীতি, ভঙ্গুর রাষ্ট্রব্যবস্থা, অন্যায়, কলুষতা ও অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে তিনি এই হাতিয়ার ব্যবহার করেছেন। তিনি দারিদ্র্য ও সমাজ গঠনের সঙ্গে লড়াই করেছেন কিন্তু তাঁর চিন্তা থেকে আমৃত্যু মানব প্রেম ও বাউল দর্শন বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হয়নি। স্বশিক্ষিত প্রকৃতির বরপুত্র ভাটি অঞ্চলের সাধক শাহ আবদুল করিমের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন পরিকল্পনা এই সকল বোধ থেকেই গৃহীত হয়েছে। ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম মৃত্যুবরণ করেন।

এই মাত্রা পাওয়া