২০ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ধান ক্রয়ে ওজনে কারচুপি ॥ ক্ষতি ২১ কোটি টাকা

  • কলাপাড়ায় সর্বদলীয় চক্র জড়িত

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলাপাড়া, ২ জানুয়ারি ॥ কোন হিসাব মেলাতে পারছেন না কৃষক। ৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ৫৭০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে এক মণ ধান। দিতে হচ্ছে ৪৭ কেজি। আওয়ামী লীগ বিএনপির রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ ফড়িয়া-দালালরা কৃষককে জিম্মি করে এক মণ ধানে সাত কেজি করে বেশি হাতিয়ে নিচ্ছে। বাধ্য করা হচ্ছে এ চক্রের কাছে ধান বিক্রিতে। ওজনের ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগী এ চক্রটি ফ্রিস্টাইলে এমন কারচুপি করছে। সরকারী কর্মকর্তাদের চরম উদাসীনতা এবং অব্যবস্থাপনায় শুধু সাগরপাড়ের কলাপাড়া থেকে এ বছর চার লাখ দুই হাজার মণ ধান বেশি হাতিয়ে নিচ্ছে, যার মূল্য ২১ কোটি টাকা। ওজনের ক্ষেত্রে মিটার পদ্ধতি ব্যবহারে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু মানা হয় না। নেই কোন মনিটরিং। কৃষকের চোখে আঙুল দিয়ে এসব চলছে। কারণ এখন ধানের ফড়িয়া-দালাল হিসেবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মী প্রত্যেকটি হাটবাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। সাধারণ কৃষক হয়েছে জিম্মি। বাইরের কোন ক্রেতা-বিক্রেতা হাটে-বাজারে আসতে পারছেন না। নগদ টাকা পর্যন্ত পান না কৃষক। বাকিতে বিক্রির ৭-৮ দিন থেকে এক মাস পরও টাকা নিতে হয়। কৃষকের কেনা ধান বিক্রি করেই ওই টাকা শোধ দেয়া হচ্ছে। মাঝখান থেকে বিনা পুঁজিতে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। কৃষি বিভাগের দেয়া তথ্যানুসারে, কলাপাড়ায় এ বছর ৩৯ হাজার আট শ’ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে। ফলনও খুব ভাল হয়েছে। উফশি ও স্থানীয় জাত মিলে হেক্টরপ্রতি প্রায় চার দশমিক ২৭ মেট্রিক টন ধানের উৎপাদন হয়েছে। তাতে এক লাখ ৭০ হাজার ১৪৫ মেট্রিক টন ধান এ বছর উৎপন্ন হওয়ার কথা। এ পরিমাণ ফলন থেকে বীজ ধানের জন্য সংগৃহীত করতে হয় প্রায় এক শ’ মেট্রিক টন। এছাড়া সরকারী হিসাবে উপজেলার তিন লাখ জনগোষ্ঠীর বছরের খাদ্য সংগৃহীত করতে হয় ৬২ হাজার মেট্রিক টন। বাকি এক লাখ আট হাজার মেট্রিক টন ধান কৃষক বিক্রি করে দেয়। যেখানে ৪০ কেজির মাপে হওয়ার কথা ২৭ লাখ মণ। কিন্তু ৪৭ কেজির মাপে দালাল-ফড়িয়া সিন্ডিকেট ২২ লাখ ৯৭ হাজার ৮৭২ মণ কিনে হাতিয়ে নিচ্ছে ২৭ লাখ মণ ধান। এভাবে চার লাখ দুই হাজার ১২৮ মণ ধান ওজনে কারচুপির মধ্য দিয়ে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে, যা টাকার অংকে অন্তত ১৯ কোটি টাকা। এসব নিয়ন্ত্রণে কিংবা ধান বেচাকেনায় মিটার পদ্ধতি কার্যকর করতে স্থানীয় প্রশাসনের কোন উদ্যোগ নেই। জানা গেছে, বালিয়াতলী ইউনিয়নের ধানের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন সেখানকার বিএনপি, যুবদল ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এবং কলাপাড়া শহর আওয়ামী লীগের নেতাসহ কয়েকজন। ধুলাসারের চরচাপলী ছনখোলায় ধানের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে এক যুবদল নেতা। মিঠাগঞ্জে আবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে চলছে। একই দশা চাকামইয়া, নীলগঞ্জ, ধানখালী, লতাচাপলী, লালুয়া, ধানখালী, ডালবুগঞ্জ, চম্পাপুর, টিয়াখালীতে। মোটকথা সব ইউনিয়নে ধানের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। কৃষকরা জানান, বাড়িতে বসে তারা ধান বিক্রির সুযোগ পেলেও ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। উপজেলা কৃষক মৈত্রীর নেত্রী মর্জিনা বেগম জানান, মিটার পদ্ধতি চালু করতে তারা মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে আসছেন। উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের গতানুগতিক বক্তব্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই মাত্রা পাওয়া