১৮ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভোলায় রোগীর মৃত্যু ॥ চেম্বারে হামলা ভাংচুর

নিজস্ব সংবাদদাতা, ভোলা, ২ জানুয়ারি ॥ জেলার লালমোহনে ডাক্তারের ইঞ্জেকশনে রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনরা বিক্ষোভ করে ডাক্তারের চেম্বারে হামলা করেছে। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে লালমোহন হাসপাতাল কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

রোগীর স্বজন ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে লালমোহন উপজেলার কালমা ইউনিয়নের বালুরচর বাজার এলাকা থেকে এ্যাজমা রোগী কৃষক সুলতানকে নিয়ে স্বজনরা ডাঃ আলামিন মল্লিকের কাছে যান। ডাঃ আলামিন মল্লিক কিছু ইঞ্জেকশন প্রেসক্রিপসন করে হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতালে ভর্তি করার পর ডাঃ আলামিন মল্লিকের দেয়া ইঞ্জেকশন পুশ করেন নার্স আরতী। এরপরে রাত সাড়ে ৭টার দিকে সুলতানের মৃত্যু হয়। ডাঃ আলামিন মল্লিকের ইঞ্জেকশনের কারণে কৃষক সুলতানের মৃত্যু হয়েছে দাবি করে রোগীর স্বজনরা ও এলাকার লোকজন হাসপাতালে বিক্ষোভ মিছিল করে। এক পর্যায়ে উত্তেজিত স্বজনরা ওই ডাক্তারের চেম্বারে হামলা ও ভাংচুর করে।

তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নিত্যানন্দ চৌধুরী জানান, ওই রোগীকে ডাঃ আলামিন জেন্টামাইসিন ও সেপ্ট্রাএকজন ইঞ্জেকশন দিয়েছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। রোগী এ্যাজমা আক্রান্ত ছিল। এই ইঞ্জেকশনে মৃত্যু হওয়ার কথা না।

সূত্র জানায়, ডাঃ আলামিন মল্লিক এই হাসপাতালে যোগ দেয়ার পর থেকে একের পর এক অঘটন চালিয়ে আসছেন। পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের কাশেম মেলিটারির নাতি শিশু জোনায়েদও এর আগে এই ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় মারা যায়। এছাড়া বিদেশগামী জন্ডিসের এক রোগীকে কুকুরের ভ্যাকসিন দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে ডাঃ আলামিন মল্লিক জানান, তার চিকিৎসা সঠিক ছিল। যে ইঞ্জেকশন দেয়া হয়েছে তা হাসপাতালের সরকারী। তার বিরুদ্ধে স্থানীয় চক্র ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

গর্ভের তিন মাসের সন্তান নষ্ট করায় গৃহবধূর বিরুদ্ধে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট ॥ শরণখোলায় স্বামীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তিন মাসের গর্ভের সন্তান নষ্টের অভিযোগে স্ত্রী ফাতেমাতুজ্জোহরা শান্তার পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। ছেলের বাবা আঃ সবুর আকনের দায়ের করা মামলায় শুক্রবার রাতে শান্তার মা, বাবাসহ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন শান্তার বাবা উপজেলার রাজৈর গ্রামের শাহ আলম দুলু গাজী, মা আঞ্জুমান আরা বেগম মালা এবং চাচা নাজমুল আহসান শিমুল গাজী।

মামলার বাদী রায়েন্দা বাজারের ব্যবসায়ী আঃ সবুর আকন জানান, তার ছেলে শহিদুল ইসলাম সজীবের সঙ্গে গতবছরের ২৯ জানুয়ারি উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের রাজৈর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ শাহ আলম দুলু গাজীর মেয়ে ফাতেমাতুজ্জোহরা শান্তার বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক মাস পর শান্তা অন্তঃসত্ত্বা হয়। অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার তিন মাস পর শান্তার মা ও পরিবারের লোকজন ফুসলিয়ে তার গর্ভের সন্তান নষ্ট করে। এরপর থেকে মেয়ের পরিবার তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার চেষ্টা শুরু করে। স্ত্রীর গর্ভের সন্তার নষ্ট করার প্রতিবাদ করায় উল্টো সজীবের বিরুদ্ধে আদালতে একটি নারী নির্যাতন মামলা দায়ের করে শান্তা।

অপরদিকে, পুত্রবধূর গর্ভের সন্তান নষ্ট ও চুরির অভিযোগ এনে ১ জানুয়ারি সজীবের বাবা সবুর আকন বাদী হয়ে ছয় জনকে আসামি করে শরণখোলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় ওইদিন রাত ১১টার দিকে পুলিশ তিন জনকে আটক করে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শাহ আলম মিয়া জানান, গর্ভপাত ও চুরির অভিযোগে মামলায় মেয়ের মা, বাবাসহ তিন জনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত চলছে।