২০ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নতুন ভোটার ৪৩ লাখ ৬৮ হাজার

  • খসড়া তালিকা প্রকাশ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ গত বছরের হালনাগাদকৃত খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। খসড়া ভোটার তালিকায় গত বছর নতুন ভোটার নিবন্ধিত হয়েছে ৪৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৭ জন। নতুন ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার নিবন্ধিত হয়েছে ২২ লাখ ৯৭ হাজার ৮৯৫ জন। অপর দিকে নারী ভোটার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ২০ লাখ ৭০ হাজার ১৫২ জন। হালনাগাদের ভোটার বৃদ্ধির হার দেখানো হয়েছে শতকরা ৪.৫ ভাগ। শনিবার গত বছরের হালনাগাদকৃত ভোটার তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। কমিশন জানিয়েছে খসড়া ভোটার তালিকায় ভুল সংশোধন ও দাবি নিষ্পত্তির পর আগামী ৩১ জানুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।

তবে ভোটার তালিকায় নারী ভোটার অন্তর্ভুক্তি কম হলেও আগের বারের চেয়ে এবারে নারী ভোটার বৃদ্ধি হার অনেক বেশি। এবারের ভোটার তালিকায় পুরুষ ভোটার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে শতকরা ৫৩ ভাগ। এর বিপরীতে নারী ভোটার নিবন্ধিত হয়েছে ৪৭ শতাংশ। অর্থাৎ নতুন ভোটারদের মধ্যে পুরুষের চেয়ে নারী ভোটারের ব্যবধান মাত্র শতকরা ৬ ভাগ কম। ইসি জানিয়েছে ২০১৩ ও ২০১৪ সালের হালনাগাদে ৪৬ লাখ ৯৫ হাজার ৬৫০ জন নতুন বৃদ্ধি হয়েছে। ওই তালিকায় পুরুষ ভোটার নিবন্ধিত হয়েছে ২৬ লাখ ২৯ হাজার ৫০৬ জন। আর নারী ২০ লাখ ৬৬ হাজার ১৪৪ জন। এতে পুরুষ ভোটার ৫৬ শতাংশ ও নারী ভোটার ৪৪ শতাংশ ছিল। এতে পুরুষ-নারীর অনুপাতের ব্যবধান ছিল ১২ শতাংশ। এবার নারী ভোটার অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি পাওয়ায় নারী পুরুষের ব্যবধান অনেক কমেছে। ইসি জানিয়েছে, দেশে বিদ্যমান ভোটার সংখ্যা রয়েছে ৯ কোটি ৬২ লাখ ২৬ হাজার ৫৪২ জন। এতে পুরুষ ভোটার রয়েছে পুরুষ ৫০ দশমিক ৩৭ শতাংশ ও নারী ৪৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ। তবে বিদ্যমান ভোটার তালিকার সঙ্গে খসড়া ভোটার তালিকায় যোগ করে ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি ৫ লাখ ৯৪ হাজার ৫৮৯ জন। তবে চূড়ান্ত তালিকায় এ সংখ্যা কমে আসবে।

ইসি জানিয়েছে গতবার ভোটার তালিকায় নারী ভোটার কম হওয়ায় এবার এ তালিকায় নারী ভোটার বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা পেক্ষিতে ইসি এ উদ্যোগ গ্রহণ করে। তবে নারী ভোটার বাড়াতে নানা উদ্যোগের পরও নতুন খসড়া ভোটার তালিকায় পুরুষের চেয়ে নারী ভোটার ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৪৩ জন কম রয়েছে। তবে ইসি সচিব মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন, হালনাগাদের চূড়ান্ত তালিকায় নারী-পুরুষের এ তারতম্য আরও কমে আসবে। কারণ খসড়া ও বিদ্যমান ভোটার তালিকা থেকে মৃত ৭ লাখ ৩৫ হাজার ৮৭১ জনের নাম বাদ যাবে। মৃতদের বাদ দিয়ে এ বছর মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ১০ কোটিতে দাঁড়াবে। তিনি বলেন, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর বিদ্যমান ভোটারদের নিয়ে যে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়াবে তাতে নারী পুরুষের সংখ্যা প্রায় সমান-সমান।

শনিবার ইসির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলে হালনাগাদের খসড়া তালিকা প্রাকাশ করা হয়। এতে আরও জানানো হয়েছে, খসড়া তালিকার ওপর দাবি-আপত্তি ও সংশোধনের জন্য ১৭ জানুযারি পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। ২২ জানুয়ারির মধ্যে এসব দাবি-আবেদন নিষ্পত্তির পর ৩১ জানুয়ারি হালনাগাদ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।

ইসি সচিব আরও বলেন, হালনাগাদকৃত ভোটার তালিকা সবার দেখার জন্য জেলা, থানা, রিভাইজিং অথরিটি অফিস, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, ওয়ার্ড ? অফিস, ক্যান্টমেন্ট বোর্ড, রেজিস্ট্রেশন অফিসসহ জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি জানান খসড়া তালিকায় হালনাগাদ করার সময় মৃত ৭ লাখ ৩৫ হাজার ৮৭১ জন ভোটার বাদ পড়েছেন। তাদের মধ্যে ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৭৯৯ জন পুরুষ ও ২ লাখ ৫০ ?হাজার ৭২ জন নারী ভোটার ছিলেন।

তিনি বলেন, এবারও নারী ভোটার অন্তর্ভুক্তির হার কিছুটা কম। তবে গত বছরের চেয়ে ভাল। এবার ভোটার তালিকা হালনাগাদকালে বিভিন্ন বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থাসহ সরকারী নানা দফতরকেও কাজে লাগানোর কারণে নারী ভোটার অন্তর্ভুক্তিতে উন্নতি হয়েছে। রোহিঙ্গা ভোটার বিষয়ে বলেন, কোন বিদেশী যেন ভোটার হতে না পারেন সেজন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এরপরও কেউ অন্তর্ভুক্ত হলে যে কোন ব্যক্তি আপত্তি জানাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে আপত্তি সঠিক হলে তখন সে ব্যক্তির নাম কর্তনের সুযোগ রয়েছে।

গত বছরের জুলাই মাসে ভোটার তালিকার হালানগাদ কার্যক্রম শুরু করে নির্বাচন কমিশন। গত নবেম্বরে তিন দফায় এ কার্যক্রম শেষ হয়। এবারই প্রথম ৩ তিন বছরের তথ্য একসঙ্গে সংগ্রহ করেছে ইসি। এ ক্ষেত্রে এ বছর যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে তাদের খসড়াই শনিবার প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া এরপর ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারিতে যারা ১৮ বছর পূর্ণ করবেন তাদের খসড়া তালিকা একই বছর ২ জানুয়ারি প্রকাশ করা হবে। একইভাবে ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি যারা ১৮ বছর পূর্ণ করবেন, তাদের খসড়া তালিকা ওই বছরের ২ জানুয়ারি প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে ইসি।