২৪ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এজতেমা ময়দানের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে ॥ প্রথম পর্ব শুরু ৮ জানুয়ারি

নিজস্ব সংবাদদাতা, গাজীপুর ও টঙ্গী, ২ জানুয়ারি ॥ চার ভাগে অনুষ্ঠিত হবে টঙ্গীর তুরাগ তীরের বিশ্ব এজতেমা। ৩২ জেলার মুসল্লিদের নিয়ে দুই পর্বের প্রথম পর্ব আগামী ৮ জানুয়ারি শুরু হবে; শেষ হবে ১০ জানুয়ারি। দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে ১৫ জানুয়ারি এবং আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ১৭ জানুয়ারি। এবার প্রথম ধাপে বিশ্ব এজতেমায় অংশ নেবে ৩২ জেলার মুসল্লিরা। বাকি ৩২ জেলার মুসল্লিরা ২০১৭ সালে দুই পর্বে বিশ্ব এজতেমায় অংশ নেবে। বিশ্ব এজতেমার শীর্ষ পর্যায়ের মুরব্বিরা এজতেমার এ তারিখ নির্ধারণ করেছেন। এদিকে বিশ্ব এজতেমা মাঠের প্রস্তুতি কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এজতেমা মাঠের ব্যাপক প্রস্তুতিতে স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসাছাত্র ও তবলীগ অনুসারী মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেছেন।

শনিবার বিকেলে এজতেমা ময়দান ঘুরে দেখা গেছে, টঙ্গীর তুরাগ তীরে ১৬০ একর জায়গার ওপর এজতেমা মাঠের ৯৫ ভাগ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে বাংলাদেশ রেলওয়ে ও বিআরটিসি মুসল্লিদের যাতায়াতের জন্য বিশেষ ট্রেন ও বাস সার্ভিসের ব্যবস্থা করেছে। এগুলো ৬ জানুয়ারি থেকে চলাচল শুরু হবে।

বিশ্ব এজতেমার মুরব্বি গিয়াস উদ্দিন জানান, এজতেমার ময়দানে মুসল্লিদের স্থান না হওয়ায় এ বছর থেকে ৬৪ জেলাকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এবার বিশ্ব এজতেমায় দুই ধাপে অংশ নেবেন দেশের ৩২ জেলার মুসল্লিরা। বাকি ৩২ জেলার মুসল্লিরা ২০১৭ সালে দুই ধাপে অংশ নেবেন। প্রতি জেলার মুসল্লিরা এক বছর পরপর বিশ্ব এজতেমায় অংশ নিতে পারবেন। যে সকল জেলা এ বছর বিশ্ব এজতেমায় অংশ নেবে সেসব জেলা ২০১৭ সালে অংশ নিতে পারবে না। এবার যে জেলার মুসল্লিরা এজতেমায় অংশ নিতে পারবে না সেসব জেলায় স্থানীয়ভাবে এজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। তবে বিদেশি মুসল্লিরা প্রতিবছরই বিশ্ব এজতেমায় অংশ নিতে পারবেন।

এজতেমা একপর্বে অনুষ্ঠানের দাবি ॥ এদিকে শিল্প মালিক, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ তবলীগ অনুসারী মুসল্লিরা টঙ্গীর বিশ্ব এজতেমা আগের মতো একপর্বে অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়েছেন। উল্লেখ করা যেতে পারে, গত তিন বছর যাবত দু’পর্বে বিশ্ব এজতেমা অনুষ্ঠানের ফলে টঙ্গী শিল্প এলাকার জনজীবন ১৫ দিন ধরে স্থবির হয়ে পড়ে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা ॥ গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) হারুন-আর রশীদ বিশ্ব এজতেমার প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা বিষয়ে বলেন, প্রতিবারের ন্যায় এবারও থাকছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওয়াচ টাওয়ার, সিসিটিভি ক্যামেরা, মাঠের সব প্রবেশ পথে ও কৌশলগত স্থানে ইলেক্ট্রনিক তল্লাশি (আর্চওয়ে) ব্যবস্থা, ভিডিও ক্যামেরা স্থাপনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন পদক্ষেপ।

তিনি বলেন, এজতেমাস্থল ও আশপাশে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার বিক্রি মনিটর, খাবারের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, ভেজাল ও পচা-বাসি খাবার বিক্রির বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। এছাড়া এজতেমা চলাকালে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অশ্লীল পোস্টার, অবৈধ ও অপ্রয়োজনীয় ব্যানার, ফেস্টুন এবং আপত্তিকর ব্যানার অপসারণ করা হবে।

প্রথম ধাপে অংশ নেবেন ১৭ জেলার মুসল্লি ॥ এবার বিশ্ব এজতেমায় প্রথম ধাপে ১৭ জেলার মুসল্লিরা অংশ নেবেন। জেলা ও খিত্তাগুলো হলোÑ ঢাকা ১ থেকে ৬নং খিত্তায়, শেরপুর ৭নং খিত্তায়, নারায়ণগঞ্জ ৮ ও ১১নং খিত্তায়, নীলফামারী ৯নং খিত্তায়, সিরাজগঞ্জ ১০নং খিত্তায়, নাটোর ১২নং খিত্তায়, গাইবান্ধা ১৩নং খিত্তায়, লক্ষ্মীপুর ১৪ ও ১৫নং খিত্তায়, সিলেট ১৬ ও ১৭নং খিত্তায়, চট্টগ্রাম ১৮ ও ১৯নং খিত্তায়, নড়াইল ২০নং খিত্তায়, মাদারীপুর ২১নং খিত্তায়, ভোলা ২২ ও ২৩নং খিত্তায়, মাগুরা ২৪নং খিত্তায়, পটুয়াখালী ২৫নং খিত্তায়, ঝালকাঠি ২৬নং খিত্তায় এবং পঞ্চগড় ২৭নং খিত্তায়।

দ্বিতীয় ধাপে ১৫ জেলা ॥ দ্বিতীয় ধাপে অংশ নেবেন ১৫ জেলার মুসল্লিরা। ওই সব জেলা ও খিত্তাগুলো হলোÑ ঝিনাইদহ ৮নং খিত্তায়, জামালপুর ৯ ও ১১নং খিত্তায়, ফরিদপুর ১০নং খিত্তায়, নেত্রকোনা ১২ ও ১৩নং খিত্তায়, নরসিংদী ১৪ ও ১৫নং খিত্তায়, কুমিল্লা ১৬ ও ১৮নং খিত্তায়, কুড়িগ্রাম ১৭নং খিত্তায়, রাজশাহী ১৯ ও ২০নং খিত্তায়, ফেনী ২১নং খিত্তায়, ঠাকুরগাঁও ২২নং খিত্তায়, সুনামগঞ্জ ২৩নং খিত্তায়, বগুড়া ২৪ ও ২৫নং খিত্তায়, খুলনা ২৬ ও ২৭নং খিত্তায়, চুয়াডাঙ্গা ২৮নং খিত্তায় এবং পিরোজপুর ২৯নং খিত্তায়।