২০ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চীন থেকে জিটুজি ভিত্তিতে বোল্ডার আমদানির উদ্যোগ

এম শাহজাহান ॥ এবার চীন থেকে জি টু জি ভিত্তিতে বোল্ডার আমদানির উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। পদ্মা সেতুসহ বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে এই বোল্ডার ব্যবহার করা হবে। বর্তমান ভারত ও ভুটান থেকে বোল্ডার আমদানি করা হচ্ছে। তবে ইতোপূর্বে চীন, মিসর ও তুরস্ক থেকেও স্বল্প পরিমাণে বোল্ডার আমদানি করা হয়েছে। দেশের খনি থেকে উত্তোলিত পাথর দিয়ে পদ্মা সেতু নির্মিত হবে শুরুতে এমন পরিকল্পনা থাকলেও এ মুহূর্তে দেশে আরও কয়েকটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। এতে করে বোল্ডারের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। এই বাস্তবতায় বোল্ডার আমদানি ছাড়া এ মুহূর্তে বিকল্প আর কিছু নেই। তাই ভারত ও ভুটানের পাশাপাশি চীন থেকেও বোল্ডার আমদানি করা হবে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

জানা গেছে, দেশে বর্তমানে পাথরের চাহিদা রয়েছে ৬০ লাখ মে. টন। এ চাহিদা প্রতিবছরে বাড়ছে। বিশেষ করে পদ্মা সেতু, ফ্লাইওভার নির্মাণ, মেট্রোরেল প্রকল্প, সমুদ্রবন্দর ও কয়েকটি মেগা বিদ্যুত প্রকল্প নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এতে করে অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে এই মুহূর্তে পাথরের চাহিদা দেশে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। তবে দেশে মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনিতে বাণিজ্যিকভাবে পাথর উত্তোলন শুরু হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। কিন্তু পদ্মা সেতুর মূল নির্মাণ কাজ শুরু হলে প্রতিদিনে ৫০ হাজার ঘনফুট পাথর প্রয়োজন হবে। এই পরিমাণ পাথর অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে সরবরাহ করা সম্ভব নয়। যদিও মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনির পাশাপাশি সিলেটের জাফলং এবং পঞ্চগড় জেলায় প্রচুর পাথর রয়েছে। স্থানীয়ভাবে কিছু পাথর উত্তোলন করা হলেও মূল পদ্মা সেতুর জন্য যে বোল্ডার পাথর প্রয়োজন তা আমদানি করতে হবে।

এদিকে, চীন বাংলাদেশে স্বল্প পরিমাণে বোল্ডার রফতানি করলেও, তারা আরও অধিক পরিমাণ বোল্ডার সরবরাহ করতে আগ্রহী। সম্প্রতি বোল্ডার রফতানি করার ব্যাপারে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সভায় তারা তাদের এ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে জি টু জি ভিত্তিতে কিছু সুবিধা সাপেক্ষে বাংলাদেশের চাহিদা অনুযায়ী দেশটি বোল্ডার সরবরাহে আগ্রহী। চীন থেকে জি টু জি ভিত্তিতে বোল্ডার আমদানির বিষয়ে সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া চীন থেকে জি টু জি ভিত্তিতে বোল্ডার আমদানির বিষয়ে আগামী ৭ জানুয়ারি আরেকটি সভা ডেকেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ওই সভায় বর্তমান বিধিবিধানের আওতায় কিভাবে চীন থেকে বোল্ডার আমদানি করা যায়, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক উর্ধতন কর্মকর্তা জনকণ্ঠকে বলেন, বোল্ডার আমদানির বিষয়টি নতুন নয়। ভারত ও ভুটান থেকে বোল্ডার আমদানি করা হচ্ছে। তবে পদ্মা সেতুসহ আরও কয়েকটি বড় প্রকল্প এই মুহূর্তে বাস্তবায়নের কাজ চলছে। তাই আরও বোল্ডার প্রয়োজন। এ কারণে সরকার চীন থেকে বোল্ডার আমদানি করতে চায়। তিনি বলেন, পাথর আমদানির বিষয়ে ইতোমধ্যে সেতু বিভাগ, ট্যারিফ কমিশন, এফবিসিসিআই এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মতামত নেয়া হয়েছে। সবার মতামতের ভিত্তিতে আমদানি-রফতানি নীতিমালা অনুসরণ করে চীন থেকে বোল্ডার আমদানির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এদিকে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় জানানো হয়েছে, বাংলাদেশে চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে অধিক পরিমাণে বোল্ডার রফতানিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। পদ্মা সেতুসহ কয়েকটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে বোল্ডারের চাহিদা বহুগুণ বেড়ে গেছে, কিন্তু সে তুলনায় সরবরাহ বাড়েনি। বর্তমানে ভারত থেকে বেশিরভাগ বোল্ডার আমদানি হচ্ছে। তবে কম মূল্যে অন্য দেশ থেকে বোল্ডার আমদানি করা গেলে তা প্রকল্পের জন্য ব্যয় সাশ্রয়ী হবে। তবে এ ক্ষেত্রে চীন শুল্ক সুবিধা প্রত্যাশা করে।

ওই সভায় এফবিসিসিআই প্রতিনিধি জানান, বর্তমানে মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে বোল্ডার আমদানি করা যাচ্ছে না। এর ফলে মাঝে-মধ্যে সরবরাহের ক্ষেত্রে ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। তিনি আমদানি করা বোল্ডারের যথাযথ মান নিশ্চিত করার ব্যাপারে গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বোল্ডারের ওপর বর্তমান শুল্ক হার ২৫ শতাংশ। সভায় এ শুল্ক হার কমানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের প্রতিনিধি বোল্ডার আমদানি ও আমদানি মূল্য সংক্রান্ত একটি লিখিত প্রতিবেদনে বলেন, গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে মোট ৮২ হাজার ৬৯৩ মে. টন বোল্ডার আমদানি হয়েছে। যার প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি হয়েছে ভারত থেকে। চীন থেকে আমদানি করা বোল্ডারের মূল্য পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও ভুটান থেকে আমদানি করা বোল্ডারের তুলনায় অনেক বেশি। বোল্ডারের ওপর ২৫ শতাংশ হারে আমদানি শুল্ক ধার্য করা হলেও, মোট শুল্ক হার দাঁড়াবে ৬০ দশমিক ২ শতাংশ।

জানা গেছে, আমদানির পাশাপাশি দিনাজপুর পার্বতীপুর মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনিতে উত্তোলিত বোল্ডার পাথর নির্মাণাধীন পদ্মা সেতুতে ব্যবহার করা হবে। খনির উৎপাদন বাড়াতে খুব শীঘ্রই নতুন শিফ্ট চালু করা হচ্ছে। এতে করে প্রতিদিন গড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার মে.টন পাথর উত্তোলন করা সম্ভব হবে।

এই মাত্রা পাওয়া