২১ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কুমিল্লা মেডিক্যালে ৪ ইন্টার্ন চিকিৎসক লাঞ্ছিত ॥ প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট, দুর্ভোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা, কুমিল্লা, ২ জানুয়ারি ॥ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের হাতে চার ইন্টার্ন চিকিৎসক লাঞ্ছিত হয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার সকাল থেকে হাসপাতালের চিকিৎসকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট শুরু করেছেন। এতে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে হাসপাতালে রোগীদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্বজনরা। সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করেছে।

পুলিশ ও কুমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লা নগরীর মুন্সেফবাড়ি এলাকার সবুজ তার তিন বন্ধু সজীব, নাজমুল হাসান ও রাজনকে নিয়ে অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসেন। এরপর তারা রোগী ভর্তি নিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে বাগ্বিত-ায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তারা চার ইন্টার্নি চিকিৎসক আবদুল হান্নান, হিমেল, ইমতিয়াজ ও নাদিয়াকে মারধর ও লাঞ্ছিত করেন। এর মধ্যে হান্নান ও হিমেল হাসপাতালের ডক্টরস কেবিনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার সকালে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট আহ্বান করে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দিয়েছেন ইন্টার্নি চিকিৎসকরা। অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে ইন্টার্নি চিকিৎসকরা দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতালের সামনে মানববন্ধন করেন।

এ বিষয়ে কুমেক হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এবিএম খুরশীদ আলম জানান, চিকিৎসকদের ওপর হামলা ও লাঞ্ছিত করার ঘটনায় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষ কে এ মান্নানকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া ইন্টার্নি চিকিৎসক এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডাঃ বাছেদ আহমেদ সরকার বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মোঃ আবদুর রব জানান, এ ঘটনায় পুলিশ রাজন, সবুজ, সজীব, নাজমুল হাসানকে গ্রেফতার করেছে। তবে গ্রেফতারকৃতদের স্বজনরা জানান, চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়ে সময়মত ডাক্তার না পেয়ে প্রতিবাদ করায় এ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে।

বুড়িচংয়ের জালাল মিয়া, আবুল হোসেন, দেবিদ্বারের আবু কাউসার, চৌদ্দগ্রামের আবদুল মান্নানসহ রোগীর স্বজনরা জানান, চিকিৎসাসেবা নিতে এসে ডাক্তারদের ধর্মঘটের কারণে প্রাইভেট হাসপাতালে চলে যেতে হচ্ছে। এদিকে সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কুমেক হাসপাতালে ইন্টার্নি চিকিৎসকদের চিকিৎসাসেবা বন্ধ ছিল।