২০ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রকাশনা শিল্প ও বই

জসিম উদ্দিন

চোখ মেললেই দেখা যায় ছাপানো জিনিসে আমাদের চারপাশ ভরে আছে। মুদ্রণ কাজটি কোথায় নেই? কিসে নেই? আজকের দিনে এটা এমন এক অপরিহার্য বিষয়, যেটা ছাড়া জীবন প্রায় অচল। কেননা আমরা দৈনন্দিন জীবনে অসংখ্য জিনিস ব্যবহার করি, যার অধিকাংশের পেছনে আছে মুদ্রণের কাজ। মানুষ জানতে চায়, জানাতে চায় এবং বুঝতে চায়, বোঝাতে চায়। এই অতি দরকারি কাজ অতি সুচারুভাবে সম্পন্ন করছে মুদ্রণ। প্রচারের জগতে, বিজ্ঞাপনের জগতে, জ্ঞানের জগতে মুদ্রণ তাই আমাদের রক্তের প্রবাহের মতো সর্বত্র বিরাজমান।

এই জ্ঞাপন কাজে যা কিছু ব্যবহৃত হয়, বই সেগুলোর মধ্যে একটি। বইয়ের ইতিহাস দীর্ঘ। সে ইতিহাসে যাওয়ার দরকার নেই। শুধু এটুকু বলা প্রয়োজন যে, আমরা আজ যে রূপে ও বর্ণে বইকে দেখছি, ইতিহাসের নানা স্তর পেরিয়ে সে আজ তার স্বরূপ প্রকাশ করছে। কেননা বই আজ প্রকাশনা শিল্প হয়ে উঠেছে। আজ বই যে অপরূপ শিল্প হয়ে আমাদের সামনে এসেছে এটা চল্লিশ বছর আগে অর্থাৎ বাংলাদেশের স্বাধীনতাপূর্বকালে এমনটা ছিল না। তখন বইয়ের মানে ছিল পাঠ্যপুস্তক। শিক্ষার সামগ্রী বইপত্র। শিক্ষার কাজ শেষে তার প্রয়োজন ফুরিয়ে যেত। বইয়ের মর্যাদা এভাবেই রক্ষিত হতো। সকলে এভাবেই বুঝত। এই অবস্থা থেকে প্রকাশনা হিসেবে বই আজ যে মর্যাদায় উন্নীত সেটা বাংলাদেশের ইতিহাসে ত্রিশ বছর আগেও ছিল না। আজকে যে বইয়ের প্রকাশনা শিল্প হয়ে উঠেছে, বৈচিত্র্যে, সৌন্দর্যে এবং বিশ্বমানের সঙ্গে পা মিলিয়ে পথচলা শুরু করেছে নব্বইয়ের দশকে কম্পিউটার প্রযুক্তি এবং অফসেট প্রেসের আবির্ভাব এর সর্বপ্রধান কারণ।

উনিশ শতকের পঞ্চাশের থেকে বিশ শতকের শুরু পর্যন্ত মাত্র চার হাজার বইয়ের মুদ্রণের কথা শোনা যায়। সেখানে আজ বাংলা একাডেমির একুশে বইমেলা উপলক্ষেই প্রতি বছর বই প্রকাশিত হয় প্রায় চার হাজার। এসব বইয়ের মধ্যে সৃজনশীল সাহিত্যের বই-ই অধিক। এর বাইরে আছে পাঠ্যপুস্তক, আছে গবেষণামূলক ও অন্যান্য বই। বাংলাদেশে এখন হাজারখানেক প্রকাশনা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় প্রতিমাসেই প্রকাশিত হয়ে চলেছে নানা ধরনের বই। বাংলাদেশের মতো ছোট একটি ভূখ-ে ১৬ কোটির অধিক মানুষ বাস করছে, যা জনসংখ্যার দিক থেকে পৃথিবীর অষ্টম বৃহত্তম দেশ এবং বর্তমানে দেশটির শিক্ষার হার ৫৭.৯%। এই যে বিপুল জনগোষ্ঠী এবং তার শিক্ষার সামগ্রী বইপত্র- এর প্রায় সবটাই নির্ভর করে বাংলাদেশের প্রকাশনা এবং মুদ্রণের ওপর। আশার কথা, এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো বেশ সফল। বাংলাদেশে বর্তমানে অন্তত এক কোটির অধিক লোক এই পুস্তক প্রকাশনা, মুদ্রণ, ব্যবস্থাপনা ও বিপণনের সঙ্গে নানাভাবে জড়িয়ে আছে।

প্রকাশক, কথাপ্রকাশ

এই মাত্রা পাওয়া