১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের অধিকাংশই গ্রামের ॥ ড. আবুল বারকাত

স্টাফ রিপোর্টার ॥ গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডাঃ ইমরান এইচ সরকার বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামেই সব অরাজকতা চলছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা একটি পণ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি নিয়ে এখন সবাই ব্যবসা করছে। কিন্তু এর ভেতরে কী আছে তা কেউ বলছে না। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারকাত

বলেছেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা দুই ধরনের। এর ধরন হলো বাই চয়েস, যারা স্বেচ্ছায় মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। অন্যটি হলো বাই চান্স মুক্তিযোদ্ধা, যারা হঠাৎ সুযোগের কারণে মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলেন। অবৈধ রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ছিলেন বাই চান্স মুক্তিযোদ্ধা’।

গণজাগরণ মঞ্চের তৃতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শনিবার রাজধানীর শাহবাগে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বৈষম্যহীন ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ : কোন পথে আমরা?’ শীষর্ক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তারা। গণজাগরণ মঞ্চের তৃতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠানের শেষ দিনে ছিল নানা অনুষ্ঠানিকতা। দিনভর বিশিষ্টজনসহ বিভিন্ন সেক্টরের প্রতিনিধিরা কর্মসূচীতে অংশ নেন।

দু’দিনব্যাপী নানা কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে গণজাগরণ দিবস। আলোচনায় অংশ নিয়ে আবুল বারাকাত আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহীদের মধ্যে আটাশ লাখই ছিলেন গ্রামীণ সমাজের মানুষ। মুক্তিযুদ্ধ শহরের মানুষের যুদ্ধ নয়, মুক্তিযুদ্ধ ছিল গ্রামীণ মানুষের জনযুদ্ধ। আবুল বারাকাত তার বক্তব্যে জঙ্গীবাদ ও মৌলবাদের অর্থনীতির পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ইসলামী ব্যাংককে চিহ্নিত করে ব্যাংকটিকে রাষ্ট্রীয়করণের দাবি জানান। আলোচনা সভা শেষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশু-কিশোরদের মাঝে পুরস্কার ও ক্রেস্ট বিতরণ করা হয়।

ইমরান এইচ সরকার বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে বলে মুখে ফেনা তুলছে তারাই মূলত চেতনার বিরোধিতা করছে। দেশে আজ সর্বোচ্চ বিচারহীনতা বিরাজমান। আইনশৃৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে গেলেও মানুষ বিচার পাচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘আজকে অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে বলে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে দেখানো হচ্ছে এটা একটা প্রতারণার মতো। এখনও এই শাহবাগে অনেক মানুষ রাস্তায় ঘুমাচ্ছে, অথচ তাদেরও মধ্যম আয়ের দেশের একজন হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

ইমরান এইচ সরকার বলেন, আগে পাকিস্তান বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচার করত। কিন্তু এখনও কিছু ধনী লোক, যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে তারাই হাজার হাজার কোটি টাকা উন্নত দেশগুলোতে পাচার করছে। সেখানে বাড়ি বানাচ্ছে, সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলছে। তাহলে, পাকিস্তান আর বাংলাদেশের মধ্যে পার্থক্য কোথায়?

তিনি বলেন, যতই বাধা আসুক গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন থেমে থাকবে না। যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন চলছে। চলবে। কোন অপশক্তি এই আন্দোলন থামিয়ে দিতে পারবে না। তিনি সহকর্মীদের হত্যাকারীদের বিচারের দাবি জানিয়ে বলেন, হত্যাকারীরা ধরা না পড়লে মানুষের মনে আতঙ্ক রয়ে যাবে। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা না গেলে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে আন্দোলনে কেউ এগিয়ে আসবে না। তিনি জামায়াত শিবির নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে বলেন, অপশক্তি জামায়াত শিবিরকে জিইয়ে রাখার কোন মানে হয় না। তাদের দ্রুত নিষিদ্ধ করার দাবি জানান তিনি। সন্ধ্যায় চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।