১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তেলের দাম কমায় বাড়তি আয় থেকে গ্রীন ফান্ড করার প্রস্তাব গবর্নরের

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ তেলের দাম না কমানোয় বিপিসির যে আয় বাড়ছে, সেই আয় থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে উৎসাহিত করতে একটি গ্রীন ফান্ড করার প্রস্তাব দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর ড. আতিউর রহমান। একই সঙ্গে যেসব শিল্প-কারখানায় নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করা হবে, তাদের সহজ শর্তে ঋণ দেয়ার জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। রবিবার রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) আয়োজিত ‘গ্রীন ব্যাংকিং ফর এনার্জি সাসটেইনেবল ইকোনমি’ প্রকল্প উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। গবর্নর বলেন, পরিবেশবান্ধব প্রকল্পের বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে গ্রীন ব্যাংকিং কার্যক্রমের আওতা বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও শক্তির ব্যবহারকে উৎসাহিত করার জন্য বাংলাদেশে চালু হয়েছে গ্রীন ব্যাংকিং। ইতোমধ্যে ‘সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্ট’ নামে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি বিভাগও রয়েছে। বিভাগটির মাধ্যমে ৫০টির মতো সবুজ প্রোডাক্টে নির্ধারণ করা হয়েছে। যেগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে ঋণ সুবিধা দেয়া হচ্ছে। গ্রীন প্রোডাক্ট তৈরিতে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য খাতেও অর্থায়ন সুবিধা দেয়া হবে। তিনি জানান, ২০১০ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে একটি ২০ কিলোওয়াট সৌর প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। একই সৌর শক্তি, বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট, বর্জ্য শোধনাগারের (ইটিপি) প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আতিউর রহমান বলেন, গ্রীন ব্যাংকিং প্রকল্পের আওতায় দেশের যেসব শিল্প-কারখানায় সৌর শক্তি কিংবা বায়োগ্যাসের মতো নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করা হবে, তাদের সহজ শর্তে ঋণ দেয়া হবে। আর এ প্রকল্পে সহায়তা করবে জার্মানির উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেডসহ বেশ কয়েকটি সংস্থা। গবর্নর বলেন, গ্রীন ব্যাংকিংয়ের জন্য ব্যাংকগুলোর কোন ক্ষতি হবে না। এ রকম একটা মেকানিজমে বাংলাদেশ লাভবান হবে।

ড. আতিউর রহমান জানান, টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে-এমন খাতে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করতে রেটিংয়ের ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগকে বিবেচনায় নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ইতোমধ্যে ৬০০ কোটি টাকার আলাদা দুটি তহবিল দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে পরিবেশবান্ধব ইটভাঁটি স্থাপনে ৪০০ কোটি টাকার এডিবির একটি তহবিল রয়েছে।