২৪ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মামলার জট

দেশের উচ্চ আদালতসহ নিম্ন আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় ৩১ লাখ। কেবল উচ্চ আদালতেই বিচারাধীন (আপীল ও হাইকোর্ট বিভাগ) মামলার সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ১৭ হাজার ৭২টি। ফৌজদারি মামলার তুলনায় দেওয়ানি মামলার সংখ্যাই বেশি। এর সঙ্গে প্রতিদিন যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন মামলা। ইদানীং রাজনৈতিক সহিংসতা, বোমা হামলা, আগুন লাগানোসহ মৌলবাদী ও জঙ্গী তৎপরতাও বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। এর ফলেও বাড়ছে মামলার সংখ্যা। সচরাচর যেসব মামলা মোকদ্দমা জনগুরুত্বসম্পন্ন বিবেচনায় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালসহ বিশেষ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয়, সেগুলোর রায় খুব তাড়াতাড়ি সম্পন্ন হয় বটে। তবে এর সংখ্যা খুব কম। সম্প্রতিককালে শিশু রাজন হত্যা, রাকিব হত্যা মামলাসহ মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের মামলার ক্ষেত্রে আদালতের ভূমিকা অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। তবে অধিকাংশ মামলার ক্ষেত্রেই দীর্ঘসূত্রতা লক্ষণীয়। দীর্ঘ ২৫-৩০ বছর ধরে ঝুলে আছে, এমন মামলার সংখ্যাও কম নয়। দুঃখজনক হলো এ নিয়ে মাঝে মধ্যেই আলোচনা সমালোচনা হয়, সেমিনার গোলটেবিল বসে, প্রধান বিচারপতিও মামলার দ্রুত নিম্পত্তির কথা বলে বক্তৃতা বিবৃতি দিয়ে জনভোগান্তি লাঘবের কথা বলেনÑ তবু মামলার জট কিছুতেই কমে না।

মামলার জট নিরসনসহ জনভোগান্তি কমাতে আইন মন্ত্রণালয়, বিচারক সমিতি, সর্বোপরি আইনজীবী সংগঠনসহ বিভিন্ন জন বিভিন্ন মত ও পথের কথা বললেও বাস্তবে সাফল্য আর্জনের হার খুব কম। মোটাদাগে অনেকেই বিচারক ও বিচারালয়ের স্বল্পতার কথা বললেও মূল কারণ পদ্ধতিগত জটিলতা। মামলা পরিচালনার সঙ্গে জড়িত আইনজীবীদের মতে, পদ্ধতিগত কারণেই বেড়ে যাচ্ছে মামলার জট ও জটিলতা। ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে থানা পুলিশ তদন্ত ও চার্জশীট দাখিল করতেই ব্যয় করে বহু সময়। জমি-জিরাত সংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রেও অনুরূপ। এরপর মামলা সংশ্লিষ্ট পক্ষদের নামে নোটিস জারি করতেও লেগে যায় বছরের পর বছর। ভুল ঠিকানা, ভুল নথি, নাম ও বানান বিভ্রাটসহ সমন হারিয়ে যাওয়ার খবরও আছে।

এক হিসাবে জানা যায়, ৩১ লাখ মামলার বিপরীতে উচ্চ আদালতে ১০২ জন বিচারপতি এবং নিম্ন আদালতে ১৫০০ বিচারক আছেন। প্রতি ৯৫ হাজার মামলার বিপরীতে মাত্র একজন বিচারক। আইন কমিশনের মতে নিম্ন আদালতে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করতে হলে তিন হাজার নতুন বিচারক নিয়োগ করতে হবে, যা অর্থ বরাদ্দ ও সময়সাপেক্ষ। এর পাশাপাশি বিচারক এবং আইনজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণও অপরিহার্য। আরও চাই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সততা নীতি নৈতিকতা নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহির মনোভাব। সাম্প্রতিককালে দেশে বিচারপতিদের অবসরে যাওয়ার পর রায় লেখা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। প্রধান বিচারপতি স্বয়ং বলেছেন, অবসরে যাওয়ার পর একজন বিচারপতির রায় লেখা ঠিক নয়। অবশ্য এ বিষয়ে সংবিধানে অথবা অন্য কোথাও সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা নেই। বিচারপতিদের অবসরে যাওয়ার পর রায় লেখার কনভেনশন বা প্রথা বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশেই অনুসৃত হয়ে থাকে। যা হোক, এ বিষয়ে সুষ্ঠু মীমাংসা আদালতই নির্ধারণ করবেন। এর পাশাপাশি মামলার জট নিরসনসহ দ্রুত রায় প্রদানের ক্ষেত্রে উচ্চ আদালত যথাযথ প্রদক্ষেণ গ্রহণ করবেন বলেই প্রত্যাশা। কেননা কথায় বলে জাস্টিস ডিলেইড, জাস্টিস ডিনাইড। মানুষ সর্বদাই সুবিচার তথা ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় তাকিয়ে থাকে আদালতের দিকে।